You are here

বেড়াতে যাচ্ছেন নাকি?

ছেলেটা সেই কবে থেকে গোঁ ধরে আছে বেড়াতে যাবে বলে। যদিও সময়ের অভাবে অনেক সময় সেই ইচ্ছে পূরণ করা হয়ে ওঠে না। অনেক কষ্ট করে দুদিনের ছুটি ম্যানেজ করে কোনো রকমে গেলেন বেড়াতে। ফিরে আসার পর দেখলেন হয় একগাদা কাজের চাপ মাথার ওপরে জমেছে বা ছেলেটি হয়ে পড়েছে অসুস্থ। সেজন্য দুরে কোথাও বেড়াতে গেলে কিছু বাড়তি সচেতনতা তো অবশ্য জরুরি।

এবার জেনে নিন সেসবই।

*কোথাও বেড়াতে যেতে হলে প্রথমেই আসে জায়গা নির্বাচনের কথা। নিজের বাজেট, সময় এবং পছন্দ তিনটিকে মিলিয়ে ঠিক করে নিন কোনখানে পাড়ি জমাচ্ছেন এবার।

* যাবার আগে থেকে টিকিটের ব্যবস্থা করে নিন। ঝামেলা কম হবে। যাওয়া ও আসার টিকিট একসঙ্গে ঠিক করে নেওয়া গেলে সবচেয়ে ভালো। এতে করে কোনো ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয় না। অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

* গিয়ে কোথায় থাকবেন সেটাও আগেই ঠিক করে রাখুন। তাহলে পৌছে শুধু শুধু ঘুরে সময় নষ্ট হবে না। পরিচিতজন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে রুম বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন। বা কোনো আতœীয়ের বাসায় উঠলে তাকে জানিয়ে রাখুন।

* কাপড় নিন পর্যাপ্ত তবে দেখবেন সেটা যেনো অতিরিক্ত না হয়ে যায়। তাহলে কিন্তু বোঝা বইতেই আপনার সব শক্তি চলে যাবে। যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার আবহাওয়া জেনে কাপড় নিন।ফরমাল পোশাক ছেড়ে বৈচিত্রময় পোশাক পড়–ন। বেশি দামি পোশাক না নেওয়াই ভালো। পানিরোধী, আরামদায়ক স্যান্ডেল নিন।

* কতদিনের জন্যে যাচ্ছেন এবং কোথায় যাচ্ছেন দুটি মাথায় রেখে নির্বাচন করে ফেলুন ট্রাভেল ব্যাগ। হালকা, সহজে বহন করা যায় ভ্রমনে এমন ব্যাগ নেওয়াই ভালো। ট্যুরটা বেশি দিনের হলে ট্রলি ব্যাগই ভালো। এই ব্যাগ হাতল ধরে সহজেই চাকা দিয়ে গড়িয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তরুণরা কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। তবে দেখে নিবেন ব্যাগ যেনো পানিরোধক হয়।

* মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, চার্জার, ছোট লাইট ইত্যাদি বেড়ানোর অনুষঙ্গ বলা যায়। এসব সঙ্গে নিতে ভুলবেন না যেনো।

* বেড়াতে গিয়ে কোনো এক সময় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। ফার্স্ট এইড বক্স সাথে রাখলে তি কি? সেখানে রাখুন মাথাব্যথা, সাধারণ ব্যথার ওষুধ, জ্বরের ওয়ুধ খাবার স্যালাইন, ব্যান্ডেজ, গ্লুকোজ ইত্যাদি।

* ভ্রমণকালীন সময়ে যে কোনো খাবার পরিবেশনের আগে, পরিবেশনের সময় এবং হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার সময় দু’হাত ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এবং ভ্রমণে যেসব খাবার খাবেন সেসব না খাওয়া পর্যন্ত ঢেকে রাখুন। রোগের হাত থেকে অনেকটা বাঁচবেন।

* নিরাপদ পানি খেতে চেষ্টা করুন। খোলা পানি না খেয়ে মিনারেল পানি খান। বা খোলা পানি খেলেও সেটা পরিশোধন করা কিনা জেনে নিন।

* খোলা ও বাসি খাবার খাবেন না ভ্রমণে। দেখে শুনে টাটাকা খাবার খান। কাঁচা ফলমূল খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে দুয়ে নিবেন।

* মানিব্যাগ সাবধানে রাখুন। বেশি টাকা মানিব্যাগে না রেখে অন্য কোথাও সরিয়ে রাখতে পারেন। সঙ্গে নিজের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা একটা কার্ডে লিখে পকেটে রাখুন। বেড়ানোর জায়গায় কোনো ধরনের সমস্যা হলে খুঁজে পাওয়া যাবে সহজে। তা ছাড়া যে জায়গায় যাবেন, তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ও বুঝে নিতে পারেন। ট্যুর গাইড সঙ্গে রাখলে উপকার পাবেন। বাচ্চার দিকে সবসময় খেয়াল রাখুন।

* যখন যে জিনিস নেবেন মনে পড়ছে তা গুছিয়ে ফেলুন। একসাথে সব মনে নাও থাকতে পারে। দেশের বাইরে গেলে তাহলে সঙ্গে প্লেনের টিকেট, পাসপোর্ট ভিসার সঙ্গে ছবি, অনুমতি পত্র , ক্রেডিট কার্ড, এটিএম কার্ড, ডলার/পাউন্ড একসঙ্গে একটি রাখুন ছোট ব্যাগে।

* টয়লেট্রিজ যেমন সাবান, শ্যাম্পু, পেস্ট এসবের মিনি প্যাক রাখলে যায়গা কম লাগবে।

* ভ্রমণে যাবার সময় সঙ্গে শুকনো কিছু খাবার যেমন বিস্কিট, কেক, মুড়ি, চিড়া, গুড় এসব রাখতে পারেন। বাইরে কেনা খাবারের এসব খাবার বেশ স্বস্তিদায়ক।

* বেড়াতে যাবার সময়ও যদি কাজের চাপ মাথায় নিয়ে যান তাহলে দেখবেন তেমন করে মজা করতে পারবেন না। তাই কাজগুলোকে ছুটি দিয়েই যান। তবে যাবার আগেই একটা শিডিওল করে রাখতে পারেন। তাহলে ফিরেই জমে থাকা কাজগুলোকে পাহাড় মনে হবে না।

তবে চলুন, বেড়িয়ে আসা যাক!!

বিভাগ: