You are here

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নারীর তথ্য পাওয়ার অধিকার, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার’। সারা বিশ্বে শুক্রবার দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে।

দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। সরকারি টেলিভিশন ও বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

নারী দিবসের আয়োজন

দিবসটি উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিকেল ৩টায় শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হবে দিবসটি।

অ্যাসোসিয়েশন অফ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশের ১৭টি অনুসংগঠন ও এক হাজার ৩৫০ সদস্য সংস্থা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
এছাড়া দেশের ৬৪টি বেসরকারি সংগঠনের সমন্বয়ে সৃষ্ট সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশের আয়োজন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন এনজিওর আয়োজনে জেলা ও উপজেলা সদরে নারী সমাবেশ করা হবে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নারী বিষয়ক উপ-কমিটি।

‘‘নারী নির্যাতন বন্ধ আমরা করবোই: এখনই সময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞার’’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট বাংলাদেশ দিবসটি পালন করছে।

‘‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে জোট বাঁধ, রুখে দাঁড়াও, অবিলম্বে’’ ‘‘ ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী ও নারী নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাও’’ এসব স্লোগান নিয়ে কর্মজীবী নারীরা দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনারে বিকেল ৩টায় সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইট ডেভেলাপমেন্টের (বিসিএইচআরডি) মানববন্ধন করবে টিএসসি চত্বরে সকাল ১০টায়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ ও পতাকা র্যালি করবে। বিপ্লবী নারী সংহতি ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ করবে বিকেল ৩টায় টিএসসি সড়ক দ্বীপে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বিকেল ৩টায় কমরেড মনি সিং-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট ভবনের শহীদ তাজুল মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল এবং গণজাগরণ মঞ্চে সমাবেশ করবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বিকেল ৩টায় সমাবেশ ও মিছিল করবে।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাম্প্রতিক ‘সংখ্যালঘু’ নির্যাতন বিষয়ক আলোচনা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়েজন করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক সকাল সাড়ে ৮টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ১নম্বর গেট থেকে এক বর্নাঢ্য র্যালির আয়োজন করেছে।

নারী দিবসের কথা

১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকেরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে গ্রেফতার হন বহু নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই।

তিন বছর পরে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।

১৯১০ সালের এই দিনে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই সারা বিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দু বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।