Dhaka, Thu, 3 Sep 2015, 2:46 pm | লগ-ইন করুন | নিবন্ধন করুন   | English News   |   Search

প্রতিরোধ করুন ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সার

nusrat jahan champ's picture
Submitted by nusrat jahan champ on Tue, 23/04/2013 - 6:22pm

ক্যান্সারও যে চেষ্টা করলে প্রতিরোধ করা সম্ভব, এ কথা শুনে অনেকেই আশ্চর্য হন। কিন্তু কী কী কারণে ক্যান্সার হয় এবং কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে ক্যান্সার হতেও পারে - এ দুটি বিষয় জানা থাকলে রোগটিকে অনেকখানি আটকানো সম্ভব।

ক্যান্সার হলো আমাদের দেহকোষের অস্বাভাবিক, অনিয়ন্ত্রিত এবং ক্ষতিকর বৃদ্ধি। এক এক জায়গার ক্যান্সারের উপসর্গ এক এক রকম। তবু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাতটি উপসর্গকে 'ডেঞ্জার সিগনালস অফ ক্যান্সার' বলে ঘোষণা করেছেন। এগুলো হলো -

*দেহের কোথাও কোনো পুরনো ঘা, যা সারতে চায় না;
*পুরনো কাশি বা স্বরভঙ্গ; বদহজম বা গিলতে কষ্ট;
*তিল বা আঁচিলের হঠাত্‍ পরিবর্তন;
*স্তন বা অন্য কোথাও গোটা বা গ্ল্যান্ড;
*মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাসের হঠাত্‍ পরিবর্তন;
*অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা স্রাব।

তবে এই উপসর্গগুলো দেখা দিলেই ভেবে বসবেন না যে ক্যান্সার হয়েছে! তবে সাবধান হবেন এবং দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন।

ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয় :
*প্রথমেই পরিবর্তন করুন খাদ্যাভাস। তেল-মশলার গুরুপাক খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার খান।

*ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, শুঁটি, পেঁপে, মুলা, লাউ, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, থানকুনি পাতা, লালশাক, পালংশাক ইত্যাদি প্রাকৃতিকভাবে রঙিন শাক-সবজি প্রচুর পরিমাণে খান। এসবে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

*রান্নায় হলুদ এবং রসুন অবশ্যই ব্যবহার করবেন। সম্ভব হলে প্রতিদিন খালি পেটে কাঁচা হলুদ এবং রসুন খান।

*মাংস খান কম পরিমাণে এবং অবশ্যই সুসিদ্ধ করে।

*সম্ভব হলে খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন টাটকা মাছ রাখুন।

*ফলের মধ্যে কলা, কমলালেবু, পাতিলেবু, আঙুর, আমলকি, বরই, সফেদা, আতা অবশ্যই খাবেন।

*কোলন ক্যান্সার এড়াতে আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান।

*বাইরের খাবার বিশেষ করে ফাস্টফুড একদমই খাবেন না।

*রেড মিট এবং ভাজা মাংস এড়িয়ে চলুন।

*ফ্রিজে রাখা খাবার যতটা সম্ভব কম খান। টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

*কৃত্রিম রঙের খাবার, কোল্ড ড্রিংক, পোড়ানো হয় এমন কাবাব এড়িয়ে চলুন।

*মুখের ক্যান্সার দূরে রাখতে পান, জর্দা, খইনি, গুল, তামাকসহ সব রকম নেশা ত্যাগ করুন।

*ফুসফুসের ক্যান্সার এড়াতে ধূমপান ছেড়ে দিন এবং ধুলা-ধোঁয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

*মনের ওপর চাপ কমান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

*ক্যান্সারের যেকোনো উপসর্গ দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।

মাদকদ্রব্য ছেড়ে দিলে, ভালো পরিবেশে থাকলে এবং নিয়মকানুন মেনে চললে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বহু শতাংশ কমিয়ে ফেলা যায়। এর সাথে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা মারাত্মক এই অসুখ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এরপরেও যদি ক্যান্সার হয়ে যায়, সবচেয়ে আগে মানসিক ভার কমাতে হবে। কারণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে চিকিত্‍সা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। যেক্ষেত্রে কাউন্সেলিং করালে খুব উপকার হয়।