Dhaka, Wed, 17 Sep 2014, 7:31 pm | লগ-ইন করুন | নিবন্ধন করুন   অন্যান্য সাইট: | ইসলাম | রিডার | টেক | English News

মহাবিশ্বের “ঠাণ্ডা নক্ষত্র”

মহাশূন্যে রয়েছে বেশ কয়েক শ্রেণীর নক্ষত্র, যেগুলো আমাদের সৌরজগতের সূর্যের চাইতে বেশ ভিন্ন। এদের মাঝে রয়েছে মূলত আকৃতি, উষ্ণতা এবং উজ্জলতার ফারাক। যে নক্ষত্রগুলোর রঙ নীলচে সাদা, সেগুলোই সবচাইতে উত্তপ্ত। আবার লাল বা হলদে রঙের নক্ষত্রগুলো উষ্ণতার দিক দিয়ে অনেক পেছনে পড়ে থাকে। এদের মাঝে একটি শ্রেণী হলো “Brown Dwarf” বা “বাদামি দৈত্য” নক্ষত্র। এগুলো আসলে নক্ষত্র নাকি গ্রহ এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে জল্পনাকল্পনা বিদ্যমান অনেকদিন ধরেই। এবার খুব নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা গেলো অন্যান্য নক্ষত্রের তুলনায় এই বিশাল নক্ষত্রগুলো আসলেই কতটা শীতল। এমনকি এদের উত্তাপের পরিমাণ এতটাই কম যে এর সাথে পাল্লা দিতে পারবে আপনার রান্নাঘরের ওভেনটি!

নক্ষত্র এবং গ্রহ উভয়েরই বৈশিষ্ট্য আছে এমন জ্যোতিষ্ক হলো বাদামি দৈত্য। এগুলোকে কখনো কখনো বলা হয় “ব্যর্থ তারকা”, কারণ এরা গ্রহের চাইতে বড় কিন্তু নক্ষত্রের মাঝে যেমন পারমাণবিক ফিউশনের মাধ্যমে ঔজ্জ্বল্য তৈরি হয় তা করতে তারা অক্ষম। বাদামি দৈত্য নক্ষত্রের জন্মের সময় যেটুকু উত্তাপের সৃষ্টি হয় তা নিয়েই এদেরকে চলতে হয়। নিজে থেকে তাপ উৎপাদনে এরা অক্ষম।

ক্যামব্রিজের হার্ভার্ড-স্মিথসনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ট্রেন্ট ডুপুই বলেন, “সৌরজগতের প্রতিবেশঈ এই জ্যোতিষ্কগুলো এ যাবতকালে পাওয়া যে কোনও কিছুর চাইতে বেশি ঠাণ্ডা”। এসব বাদামি দৈত্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মোটে ১২৫ থেকে ১৭৫ ডিগ্রির মতো এবং এদের আকৃতি বৃহস্পতি গ্রহের পাঁচ থেকে বিশগুণ পর্যন্ত বেশি। আমাদের সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তার তুলনায় বাদামি দৈত্যের তাপমাত্রা কমই বটে! এখন পর্যন্ত এমন কয়েকশ বাদামি দৈত্য নক্ষত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সবচাইতে ঠাণ্ডাটি বছর দুয়েক আগে পাওয়া একটি নক্ষত্র এবং কিছু বিজ্ঞানীর মতে, এর তাপমাত্রা মানবদেহের তাপমাত্রার চাইতেও কম!

ডুপুই আরও বলেন, “জ্যোতির্বিদরা সর্বদাই ঠাণ্ডা জ্যোতিষ্ক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এর একটি মূল কারণ হলো অন্যান্য নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে থাকা অনেক গ্যাস ভিত্তিক দৈত্যাকৃতি গ্রহের সাথে এদের বায়ুমণ্ডলের মিল আছে” ।

বাইরে অবস্থিত এসব গ্রহ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে একটি বাধা হলো এদের নিজস্ব নক্ষত্র। কিন্তু বাদামি দৈত্য নিজেই একটি নক্ষত্র হওয়াতে এদের নিয়ে গবেষণায় কোনও বাধা নেই। তবে এই অনুজ্জ্বল তারাগুলোর দূরত্ব নির্ধারণে রয়েছে বেশ ঝামেলা। এর ফলে তাদের দূরত্ব, আকৃতি, উজ্জ্বলতা এবং উষ্ণতা এসব নির্ণয়ে সমস্যা হয়। “ এ পর্যন্ত দেখা কোনও কিছুর সাথেই এর মিল নেই তাই আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না আমাদের হাতে কি এসেছে”, বলেন ডুপুই।

তবে সম্প্রতি NASA এর স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে জ্যোতির্বিদরা আটটি বাদামি দৈত্যের সঠিক দূরত্ব পরিমাপ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ থেকেই আবার তারা নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন এগুলো ঠিক কত উজ্জ্বল, উষ্ণ এবং বিশালাকৃতির। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসার সময়সীমার মাঝে এই বাদামি দৈত্যের সাথে আরও দূরের তারাগুলোর অবস্থানের সাপেক্ষে এদের দূরত্ব বের করা সম্ভব হয় এবং এই তথ্য সংগ্রহ করতে বিজ্ঞানীদের সময় লাগে পুরো একবছর।

ইতোপূর্বে ধরা হত যে নক্ষত্রের আলোর রঙের সাথে সাথে এর উষ্ণতার তারতম্য হয় কিন্তু এই বাদামি দৈত্যদের ক্ষেত্রে এটা খাটে না। এই ঠাণ্ডা বাদামি দৈত্য নক্ষত্রের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিক্রিয়া এবং মাধ্যাকর্ষণেরও হাত আছে এদের রঙের ওপরে। বিভিন্ন নমুনা থেকে এমন বিভিন্ন তথ্য জানা যাচ্ছে এবং এর ফলে বিজ্ঞানীরা আরও অনেক বাদামি দৈত্য নক্ষত্রের ওপর গবেষণা চালাতে বদ্ধপরিকর। কারণ যত বেশি গবেষণা হবে ততই এদের প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

বিভাগ: 

টপিক: 

একই রকম কিছু পোস্ট