প্রতীকী ছবি।

কষ্টের পাখি

বিকেল বেলা বিদায় নিয়ে আমরা চলে আসি সেখান থেকে।...আমি ইতিকে ভালোবাসি। তারপর থেকে আমার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

জিয়াউল হক
লেখক
০৫ জুলাই ২০১৮, সময় - ২২:১৩


প্রতীকী ছবি।

ঢাকার মহাখালী থেকে আমাদের গাড়ি চলছে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে। আমরা পাঁচজন যানজটের চিন্তা করে সকালবেলা বের হলাম যাওয়ার জন্য। আমি, আমার বন্ধু রাশেদ ও তার প্রেমিকা জুলি, রাশেদের ছোট বোন কলি, সঙ্গে আমার প্রেমী ইতি। সময়মত সবাই আসতে পারা গেল। ঢাকার কোলাহলময় পরিবেশ ছেড়ে গ্রামবাংলার মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ভালোবাসা আদানপ্রদান করার জন্য ছুটে চলছি বাসে করে। রাস্তার পাশে সিটি কর্পোরেশনের ক্লিনার ঝাড়ু দেওয়ায় ব্যস্ত। আমার পাশের সিটে ইতি গা ঘেষে বসে আছে। হালকা পারফিউমের সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশে। গাড়ি ঢাকার সীমানা পার হয়ে টঙ্গী প্রবেশ করেছে। ইতি পাশে বসে ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। মাথাটা আমার কাঁধে এলিয়ে দিয়েছে।

ইতিরা দুই বোন এক ভাই। ইতি সবার বড়। বাবা সরকারি চাকরি করেন। মা গৃহিণী। একই কলেজে পড়ার কারণে দুজনের কাছে আসা।একে অপরের প্রতি ভালোলাগা, ভালো লাগা থেকে ভালোবাসার সৃষ্টি।

বাস চলছে গাজীপুরের পথে। রাশেদ আর জুলি একসাথে বসেছে। কলি এক মহিলার সঙ্গে বসে। আমরা যাচ্ছি রাশেদের নানা বাড়ি। ওদের ব্যাপারে পরিবারের সবাই জানে। তাই কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের বিয়ে ঠিক হয়েছে জানানো হবে। বাস এসে থামে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা। এখান থেকে যেতে হবে ভ্যান গাড়িতে করে। ডেকে ওঠানো হয় ইতিকে। আমরা নেমে একটি ভ্যান রিজার্ভ করি। ভ্যান ছুটে চলে গন্তব্যের পথে। শহরের কোলাহলময় পরিবেশ ছেড়ে এখানে নতুন পরিবেশে ভালোই লাগছে। ছুটে চলা রাস্তার পাশে নতুন নতুন কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ বাস স্টপেজ থেকে। গ্রামের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এখানে।

আমরা রাশেদের নানি বাড়ি পৌঁছালাম। সবাই যেন আমাদের জন্যই অপেক্ষা করছেন। রাশেদ আমাকে আর ইতিকে পরিচয় করিয়ে দিল। ইতি হয়ে গেল আমার হবু স্ত্রী। হাত মুখ ধুয়ে আসলে মুড়ি আর মিঠাই (গুড়) সামনে এনে দেয়। হালকা নাস্তা করে আমরা বের হলাম গ্রামের পাশের বাগানে। রাশেদ, জুলি, কলি, ইতি, রাশেদের মামাতো বোন শিউলি আর আমি বাগানে ঢুকে পড়ি। বাগানে কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় কারও অনুমতির প্রয়োজন পড়েনি। শহরে বাস করা মানুষ হিসেবে আমাদের কাছে অতি আগ্রহপূর্ণ স্থান। সবাই আমাদের ছেড়ে একটু দূরত্ব বজায় রাখে। আমাদেরকে নিরবে প্রেম করার সুযোগ করে দেয়।

ইতি আর আমি হাত ধরে হাটতে থাকি বাগানে। যদিওবা নিরব এলাকা বিরাজ করছে, তবু আমাদের কোনো ভয় কাজ করছে না। প্রেম বুজি এমনই হয়, সব শঙ্কা করে জয়। কিছুক্ষণ হাটার পর একটি বড় গাছের নিচে এসে দাড়াই। হাত ছেড়ে দুজন মুখোমুখি হই। দুহাত বাড়িয়ে ধরতেই ইতি বুজতে পারে, আমার বুকে আছড়ে পড়ে সে। জড়িয়ে ধরে মিশে যেতে চায় আমার মাঝে। হারিয়ে যেতে চায় আমার প্রেম সাগরের গভীরে। দুজনে একাকার এক আত্মায়। এভাবে চলে কয়েক মূহুর্ত। হঠাৎ কারও পায়ের শব্দ পেয়ে তাকিয়ে দেখি গ্রামের এক কৃষক বাগানের রাস্তা দিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে রাশেদ ও বাকি সবাই চলে আসে। সবার সঙ্গে কতক্ষণ হেটে ফিরে আসি। দুপুরের খাবার প্রস্তুত। দুপুরের প্রচন্ড রোদ। বিদ্যুৎ নেই তাই খেতে বসে শরীর থেকে ঘাম বেয়ে চলছে। ইতি নিজের খাওয়া বন্ধ করে আমাকে হাত পাখায় বাতাস দেয়া শুরু করে। মনের মানুষ সামনে বসে কষ্ট করবে তা সে চায়নি।

বিকেল বেলা বিদায় নিয়ে আমরা চলে আসি সেখান থেকে। সবার আন্তরিকতা আর ভালোবাসায় এতোই মুগ্ধ হলাম যে তাদের ছেড়ে আসতে কষ্ট হচ্ছিল। রাশেদের নানি বিয়ের পর আবার যাওয়ার জন্য অগ্রিম নিমন্ত্রণ দিলেন। আমি কথা দিলাম এরপর ইতিকে বউ করে বেড়াতে যাবো।
ঢাকা এসেছি এক সপ্তাহ হবে। কোনোভাবেই ইতির সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। মোবাইল ও বন্ধ। অনেক কষ্টে ইতির সাক্ষাৎ পেলাম।আজকের ইতি আমার সেই ইতি নয়। যেন আজ প্রথম দেখা তার সাথে। আমাকে না চেনার ভান করছে। আগামী মাসের বার তারিখ বিয়ে। পাত্র আমার পরিচিত এক ব্যক্তি যিনি আমি বড় ভাইয়ের মতো জানি। যিনি জানেন আমি ইতিকে ভালোবাসি। তারপর থেকে আমার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হলো...

প্রিয় সাহিত্য/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
রুপালি পর্দায় আসছে নজরুলের জীবনী
তাশফিন ত্রপা ২০ জুলাই ২০১৮
রক্তদাতা সেই মহৎ সুন্দরীর কাছে চিঠি
জাকির সোহান ২০ জুলাই ২০১৮
কিছুটা সত্য, কিছুটা গল্প
আশিক ইমতিয়াজ ১৯ জুলাই ২০১৮
শত্রুদেশের সেনানী
দিপু সিদ্দিকী ১৭ জুলাই ২০১৮
এই আমি!
রজত দাস ১৬ জুলাই ২০১৮
এন্টিডোট
আব্দুল্লাহ আল তানিম ১৬ জুলাই ২০১৮