রাশেদের মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে (ছবিতে মাঝখানে) আকুতি জানাচ্ছেন তার মা সালেহা বেগম। ছবিতে সবার ডানে রাশেদের স্ত্রী রাবেয়া আলো। প্রিয়.কম

আমার বাবুটারে অনেক মারছে: রাশেদের মা

‘পোলাডা চাকরি পাইবে বইল্যা সবার সাথে কোঠার আন্দোলন করছে। কিন্তু কী পাইলো, হাতকড়া পুরষ্কার পাইলো।’

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০১৮, সময় - ২১:০৭


রাশেদের মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে (ছবিতে মাঝখানে) আকুতি জানাচ্ছেন তার মা সালেহা বেগম। ছবিতে সবার ডানে রাশেদের স্ত্রী রাবেয়া আলো। প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের মা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ছেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। রাশেদের মা সালেহা বেগম বলেন, ‘আমার বাবুটারে অনেক মারছে। আমার ছেলে আমাকে বলছে মা তুমি সংবাদ সম্মেলন করো, আমাকে যেন আর রিমান্ডে না নেয়।’

১১ জুলাই, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সালেহা বেগম এসব কথা বলেন।

রাশেদের মা সালেহা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। বাবুরে অন্যের বাড়িতে কাজ কইরে মানুষ করছি। পোলাডা চাকরি পাইবে বইল্যা সবার সাথে কোঠার আন্দোলন করছে। কিন্তু কী পাইলো, হাতকড়া পুরষ্কার পাইলো।’

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে রাশেদকে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে ডিবি অফিসে নেওয়ার পথে ভাগ্যক্রমে দেখা হয়েছিল মায়ের সঙ্গে। সে সময় রাশেদ তার মাকে অনুরোধ করে বলেন, ‘মা তুমি সংবাদ সম্মেলন করো, আমার রিমান্ড বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তি চাও’ বলে জানান রাশেদের মা।’

এ সময় সালেহা বেগম বলেন, ‘বাবুটারে অন্যের বাসায় কাজ কইরা মানুষ করছি। পড়ালেখা শিখাইছি। কিন্তু পুলিশ তারে ধরতেও দেয় নাই’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সালেহা বেগম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি তো দেশের মায়ের মতোন। আমার সন্তানটারে ফেরত চাই, তার মুক্তি দ্যান। সে জামিন পাইলে আর আন্দোলন করবো না, পড়ালেখা করবো। ওর জামিন দেওয়ার ব্যবস্থা আপনি করেন ও যেন আগের মতোন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।’

রাশেদের মা আরও বলেন, ‘আমার সন্তানরে আমার কোলে ফেরত চাই। আমার মানিকের মুক্তি চাই। আমার সোনা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়। আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমাকে কেউ কোনো সাহায্য করছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা রাশেদের স্ত্রী রাবেয়া আলো অভিযোগ করেন, রাশেদকে গ্রেফতারের পর থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তারা প্রতিদিন সকালে বের হন এবং রাত পর্যন্ত মিন্টো রোডে রাশেদকে এক নজর দেখার জন্য সেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।

রাবেয়া আলো বলেন, ‘আমরা তার (রাশেদ) নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তার নামে যতো মামলা আছে সকল মামলা প্রত্যাহার করে তাকে নিঃশর্ত জামিন দেওয়া হোক। জামিনের পর সে যেন নিরাপদে চলতে ফিরতে পারে।’

রাশেদের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে আলো আরও বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, তার শারীরিক অবস্থা ভালো না। সে তো একটা চাকরির জন্য সবার সাথে আন্দোলন করেছে। কিন্তু এই আন্দোলন করতে গিয়ে যে এত হয়রানি হবে তা আগে ভাবেনি। তা ছাড়া তারা তো কোনো ধরনের উদ্দ্যেশ্য নিয়ে আন্দোলন করেনি। কিন্তু এই আন্দোলনকে এখন ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে। সে জামিন পেলে আর আন্দেলন করবে না।’

রাশেদকে গ্রেফতারের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে কোনো ধরনের সাহায্য করা হয়নি বলে জানান রাশেদের স্ত্রী।

গত ১ জুলাই রাশেদকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশ। এরপর তাকে প্রথম দফায় পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়। পরে আবার তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সে রিমান্ড এখনো চলছে। দ্বিতীয় দফা রিমান্ডের তৃতীয় দিন চলছে আজ।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
সৌদি ও দুবাই থেকে ফিরলেন ১০৫ শ্রমিক
মোস্তফা ইমরুল কায়েস ২২ জুলাই ২০১৮
সাড়ে ৫ লাখ গোলাপের পিরামিড
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ২২ জুলাই ২০১৮
কোটা সংস্কারে আইনের বাধার কথা কেন?
কোটা সংস্কারে আইনের বাধার কথা কেন?
প্রথম আলো - ৩৭ মিনিট আগে