প্রতীকী ছবি

মায়ের দুধের বিকল্প কতটা যুক্তিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের দুধের ব্যাংক আছে, ঠিক যেমন ব্লাড ব্যাংক।

জীবেন রায়
অধ্যাপক
১২ জুলাই ২০১৮, সময় - ১৩:২৩


প্রতীকী ছবি

সেই নাইন-টেন গ্রেড থেকে রসায়ন পড়া এবং পরবর্তিতে পড়ানোর জন্য, এতটা কাল রসায়ন সম্পর্কিত কোনো খবর বা প্রবন্ধ দেখলেই চোখ বুলাতে হয়। সম্প্রতি ‘C&EN’ নামে সাপ্তাহিক নিউজলেটারের কভার স্টোরি ছিল, Formulation mother's milk।

কলাম লেখক একজন রসায়নবিদের গল্প দিয়ে শুরু করি। রসায়নবিদ ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, প্রথম সন্তান জন্মের পর থেকে তার স্ত্রী শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারছিল না। ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে থাকতে হয়েছিল। শিশুটাকে খাওয়াতে হবে। বিকল্প পন্থা তাকে খুঁজে নিতে হয়েছে। এখন যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াল মার্টেও অন্য মায়েদের বোতলজাত দুধ কিনতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ মায়ের দুধের ব্যাংক আছে, ঠিক যেমন ব্লাড ব্যাংক।

যাই হোক ভদ্রলোক অনেকটা বছর ধরে মায়ের দুধ নিয়ে বিশ্লেষণে নিজেকে নিয়োজিত করল। অবশ্য অন্য অনেক গবেষকরাও এর উপর কাজ করছেন এবং মজার মজার তথ্য বের হয়ে আসছে।

আমরা বেশ ভালো করেই জানি, মায়ের দুধের বিকল্প নেই। মায়ের দুধ শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ায়, ক্ষতিকর জীবানুর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে। বড় হয়ে উঠায় সাহায্য করে এবং আরও অনেক। তাই যুক্তরাষ্ট্রেও অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ খেতে বলা হয়। তবে যতদিন খাওয়ানো যায় ততই শিশুর জন্য ভালো।

আমি আমাদের মায়ের সর্বকনিষ্ট সন্তান ছিলাম। তাই মায়ের কোলে কোলেই ছিলাম হয়ত, আর সুযোগ পেলেই দুধ খাওয়ার চেষ্টা করতাম। সেই জন্যই কিনা জানিনা, ‘কাঠ ছুঁয়ে বলছি’ আমার অনেক দশক ধরে কোনোরূপ ইনফেকশান হয়নি এখন পর্যন্ত। অমি এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ওষুধও খাইনা, তবে বিশ্বাস করি মরণব্যাধি হতে কতক্ষণ? জীবনতো পদ্মপাতায় এক ফোটা জল।

গবেষকরা বলছে, মায়ের দুধে কয়েকশ’ শর্করা জাতীয় (কার্বোহাইড্রেট) যৌগ আছে, আর আছে হাজারো বায়োএক্টিব যৌগ। সব সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এখনো। তবে প্রমাণিত হয়েছে শর্করা জাতীয় যৌগগুলি ক্ষতিকর জীবানু নিধন করে থাকে। অর্থাৎ এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে থাকে। অবাক হলেও সত্যি, প্রাপ্ত বয়ষ্কদের বেলায় তেমন কোনো কাজই করে না।

গবেষকরা চেষ্টা করছে এই শর্করা জাতীয় যৌগগুলি সিনথেসাইজ করার। ইনফ্যান্ট ফর্মুলা উৎপাদকরা অপেক্ষায় আছে কবে যৌগুগুলি পাওয়া যাবে।

গবেষকরা আরও জানাচ্ছেন, মায়ের দুধে ২০০-এর বেশি শর্করা যৌগ আছে। এর মাঝে মাত্র ১৫০টি সনাক্ত করা হয়েছে এবং মাত্র ৩০টি যৌগ ল্যাবে সিনথেসাইজ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে গরুর দুধে মাত্র ৬০টির শর্করা যৌগ আছে। ইনফ্যান্ট ফর্মুলার বাজার প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। ইউএসএফডিএ মাত্র দুটি শর্করা যৌগের অনুমোদন দিয়েছেন ইনফ্যান্ট ফর্মুলায় মিশানোর জন্য। সুতরাং পাঠক বিজ্ঞাপনে তত বেশি আকৃষ্ট হবেন না। কেননা দিল্লি অনেক দূরই বটে। তবে গবেষকরা বের করবেই একদিন। কোনো কোম্পানি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সরবরাহ করার জন্য মায়ের দুধের ব্যাংক করতে পারে। অবশ্য আমার জানামতে আমাদের দেশে নানি দাদির দুধ খেয়েও অনেকেই বড় হয়েছে।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
বৃষ্টির পানি একটি উদ্বায়ী পদার্থ!
রুবু মুন্নাফ ১৮ জুলাই ২০১৮
কী করবেন আগামীতে?
হাসিন মাহতাব ১৭ জুলাই ২০১৮
ক্রিকেটে প্রণয় সমাচার
গাজী মো. রাসেল ১৫ জুলাই ২০১৮