বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : প্রিয়.কম

‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংস কর্মকাণ্ডে বিএনপি কখনো জড়িত ছিল না’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছি।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮, ১২:৪৩ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২


বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মিথ্যাচারে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছি। এটা অপরাধ হলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মকর্তারা পর্যন্ত একই অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার কথা।

কিন্তু যে সরকার প্রার্থী, ভোটার এবং ভোট ছাড়া নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে জোর করে রাষ্ট্র চালাতে লজ্জাবোধ করে না, তাদের কাছ থেকে পক্ষপাতমূলক বক্তব্য ও আচরণ ছাড়া আর কি আশা করা যেতে পারে।’

১০ আগস্ট শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দি‌কে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে নানা বাধা বিপত্তির মধ্যেও মিডিয়া ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসী প্রকৃত তথ্য পরিষ্কারভাবে জেনে গেছেন বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ক্রমাগত মিথ্যাচারে তারা বিভ্রান্ত হবেন না।’

ছাত্রদের অন্দোলন থেকে বিএনপির কোনো অর্জন আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। এই আন্দোলনের প্রতি সারাদেশের মানুষের সমর্থন ছিল। তবে যে পদ্ধতিতে সরকার এটাকে দমন করছে তা সার্বজনিনভাবে ধিকৃত হয়েছে। বরং নিরীহ ছাত্রদের ওপর এভাবে নির্যাতন চালিয়ে আওয়ামী লীগ আরও গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারা(আওয়ামী লীগ) সব সময় বিএনপি আতঙ্কে ভুগে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংঠগন এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীগণ ও পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এই শিশু কিশোরদের ৯ দফা দাবির আন্দোলন ও কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

আমরাও বিএনপির পক্ষ থেকে এবং ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য ও জরুরি এসব দাবি দাওয়ার প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে জনগণের জানমাল রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকার প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উসকানি আবিষ্কারের অপচেষ্টা চালাতে শুরু করে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনেই এই সরকার একই কাজ করেছে এবং এই সুযোগে বিরোধী দল-মতের নেতা-কর্মী ও আন্দোলনে সক্রিয়দের বিরুদ্ধে হায়েনার মত আক্রমণ চালিয়েছে।

তাদের আক্রমণে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা গুম হয়েছে, আহত হয়েছে, মিথ্যা মামলায় হয়রানি হয়েছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাদের কটূক্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।’

নিরীহ অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পায়নি উল্লেখ্য করেন বিএনপির মহাসচিব। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই সরকারি দল ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অমানবিক ও বর্বোরোচিত হামলা চালিয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করেছে। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হোস্টেলে ও আবাসস্থলে গিয়ে ছাত্রদের মারপিট করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এ সব কিছুই ঘটেছে পুলিশের চোখের সামনে এবং তাদের সহযোগিতায়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ নাকি বিএনপি-জামায়ত কর্মীরা করেছে। যা এদেশের এমন কোনো পাগলও নেই যে তারা বিশ্বাস করবে।

পুলিশের সহায়তায় তাদের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করবে, দায়িত্বপালনরত সাংবাদিকদের কোপাবে, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করবে আর তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হেলমেট পরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী ছিল এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বলার পরেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়।

তারাই পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সেই পুলিশ তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোশধারীদের মানুষ কোপানোর এবং অতঃপর নির্বিঘ্নে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’

মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে তা ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংশোধিত এই আইনে ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। কারণ, এই আইনে সড়ক পরিবহন খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাঙিক্ষত দুর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিক নির্দেশনা কিংবা কঠোর শাস্তির বিধান নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কি না এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি।’

আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংস কোনো কর্মকাণ্ডে বিএনপি কখনো জড়িত ছিল না। যারা পুলিশের সামনে হেলমেট ও মুখোশ পরে সহিংসতা করেছে। সাংবাদিকসহ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে সরকার এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। নানা বাহানায় তার মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা চালিয়েও সরকার নিজেদের নিরাপদবোধ করছেন। তারা দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে হাস্যকর ও বানোয়াট গল্প প্রচার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সব কিছুর উদ্দেশ্য একটাই এক দলীয় স্বৈরাশাসন কায়েমের সরকারি নীল নকশা বাস্তবায়ন করা।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
ছাত্রদলের ৩টি ইউনিটের আংশিক কমিটি গঠন
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২০ আগস্ট ২০১৮
নৃত্যগুরু বজলুর রহমান বাদল আর নেই
সফিউল আলম রাজা ২০ আগস্ট ২০১৮
রাজধানীতে ৪০৯টি ঈদ জামাত
আবু আজাদ ১৯ আগস্ট ২০১৮
ওবায়দুল কাদের উবাচ
ওবায়দুল কাদের উবাচ
প্রথম আলো - ১ দিন, ৮ ঘণ্টা আগে
ঈদযাত্রা আরামদায়ক হবে : ওবায়দুল কাদের
ঈদযাত্রা আরামদায়ক হবে : ওবায়দুল কাদের
জাগো নিউজ ২৪ - ২ দিন, ৮ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং