![]() |
আমি মনে করি, শাহবাগ আন্দোলনের এখন একটি ত্রিমাত্রিক ধারণা দরকার। তা নাহলে এর গভীরতা বুঝা দায় হয়ে যাবে। সাঈদী'র রায়ের মাধ্যমে আশা করি, আন্দোলনের রসায়ন পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আর যদি নাও হয়, তাহলে আমি বলবো, একটি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এর চেয়ে বেশি সময়ের দরকার নেই। এবার অন্যান্য পরীক্ষা দেওয়া আরম্ভ করুন। শুরু থেকেই আমি শাহবাগের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছি, কিন্তু পূর্ণ ঈমান দেয়নি। এর কারণ হচ্ছে, আন্দোলনে রাজনীতি'র একটু লেজ থাকলে তা যে-কোনো সময় নড়া-চড়া করে উঠবে তা আমার আগে থেকেই জানা ছিলো। বেশ কয়েকজনকে অনুরোধ করেছিলাম, চলমান হত্যার বিরুদ্ধে শাহবাগ থেকে প্রতিবাদ হোক। কিন্তু সেটা হয়নি, হয়তো হবেও না। কারণ যারা মরছে তাদের অধিকাংশ জামাত-শিবির। তারা মানুষও না, আবার এ-দেশের নাগরিকও না! সুতরাং তাদের কোনো অধিকার থাকতে নেই; এই হচ্ছে কাহিনী।
পুলিশ বুট পরে, জ্যাকেট পরে কিংবা হাতে বন্দুক নিয়ে নিরাপদ নয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা সাধারণ জনগণ, না আমাদের বুট আছে, না আমাদের জ্যাকেট আছে, না আমাদের হাতে বন্দুক আছে--তো আমরা নিরাপদে থাকি কীভাবে? আমরাও পুলিশের বন্দুকের সামনে মোটেও নিরাপদ নয়, এটা সবাই বুঝেন, কিন্তু স্বীকার করেন না।
মিড়িয়াকে শুয়োর ছাড়া বেশি কিছু ভাবছি না এখন। কেননা, তারা সবসময় শব্দ লুকিয়ে মিথ্যাচার করছেন। যেমন, জামাত-শিবিরের তান্ডবে ১৬ জন নিহিত। তো তান্ডব যদি তাদের হবে, মরে কেনো তাদের সমর্থক। আমার দৃষ্টিতে ওই ১৬ জনই পুলিশ হওয়ার কথা। ইহা এক কথায় মিথ্যাচার।
শাহবাগের আন্দোলন ও জামাত শিবিরের আন্দোলন কিংবা নৈরাজ্য কিংবা প্রতিবাদ কিংবা সন্ত্রাসী তৎপরতা উভয়েই আদালতের "রায়" এর বিরুদ্ধে। তার মানে আমরা কেউ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। আর, আন্দোলন যদি রায়ে প্রভাব নাই-ফেলবে তাহলে এইসবের দরকারটা কী? আর, প্রভাবই যদি ফেলবে তাহলে Rule of Law কি সোনার হরিণ? তখন 'ট্রাইব্যুনাল' নিয়ে 'রায়ে'র চেয়ে বেশি প্রশ্ন কিংবা আন্দোলন হওয়ার দরকার ছিলো কিনা ভেবে দেখবেন?
ছাগু-কাগু-ভাদা-কুত্তাদল-কুত্তালীগ ছাড়া আমাদের আরও একটি পরিচয় আছে, সেটা প্রথমত মানুষ, দ্বিতীয়ত আমরা বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত "নাগরিক"। আমি নিজেকে একজন 'নাগরিক'ই ভাবি। যেহেতু আমার নিজস্ব কোনো পলিটিক্যাল আইডিওলোজি নেই সুতরাং আমার সব কথা বলা স্রেফ নাগরিক হিসেবে। এবং শুরু থেকেই আমি বলে এসেছি, নাগরিক হিসেবে আমি ভালো নেই। আমি সরকারের উপর আস্থা রাখতে পারছি না। সরকার আমাকে আমার অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছে না। এবং দাবি আদায়ের সব প্রতিবাদ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া দরকার। এবং এটি পারেনি বলেই শাহবাগের আন্দোলন বেহাত হতে চলেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
শিবির জামাত, আপনারা কি মনে করেন এইভাবে সাঈদীর রায় বাতিল হবে? আপনারাও কি রায়ে প্রভাব ফেলতে চান? তাহলে ভন্ডামি ছাড়ুন। আপনারাও একটি চত্ত্বর দখলে যান। একদিকে রায়ের আন্দোলন, অন্যদিকে রায় বাতিলের। যদিও জানি তখন সরকার আপনাদের পুলিশ পাহারা দিবে না, সিসি ক্যামেরা কিংবা পৌর টয়লেট আসবে না, তবু সরকারকে বলি... আপনারা তাদেরকেও শাহবাগের আমেজ দিন। সারাদেশে এইসব আর মোটেও ভালো লাগছে না। প্লিজ আপনারা আমাদের মতো সাধারণ নাগরিক তথা হরিদাস্পালকে এবার একটু নিস্তার দিন। আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের পেটে ক্ষুধা আছে, অন্নের তাড়না আছে। আমাদের মা'রা চুলার আগুনে ফু দিচ্ছেন শাদা ভাতের জন্য। না, আমরা লাল রক্তে মায়ের সামনে দাঁড়াতে পারবো না।
আমার আজকের কথা-বার্তা কারো পক্ষে কিংবা বিপক্ষে যেতে পারে। যাদের পক্ষে গেছে তারা দয়া করে আমাকে আপনাদের গোত্রীয় ভাববেন না, ভাবলে তা বোকামী হবে। এবং কিছুদিন পর আর আমাকে হজম করতে পারবেন না। যাদের বিপক্ষে গেছে তারাও আমাকে শত্রু জ্ঞান করবেন না, করলে হয়তো আপনাদের অজান্তে আপনারা আপনার বন্ধুকে হারাবেন। আশা করি, আমার অবস্থান আপনাদের সামনে পরিষ্কার হয়েছে।
শেষ এবং চূড়ান্ত কথা হলো, ধর্মে ধর্মে আমাদের মানসিক দুরত্ব হয়তো আছে কিন্ত তা দৌরাত্বের বাইরে না। ইট মাস্ট বি ক্যাপচারড। সুতরাং কোনো পক্ষ উস্কানি দিবেন না, ইহা চুল্কানির সমান; সবাই চুলকাতে চাইবে। মিড়িয়া সম্পর্কে সজাগ হোন। কেউ যাতে মিথ্যাচার করতে না পারে।
ধোলাই সমগ্র, প্রথম কিস্তি
প্রিয়.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রিয় বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করছি এখানে। সঙ্গে থাকুন প্রতি মুহুর্ত। পাশাপাশি আপনিও লিখতে পারেন এই প্রিয় সাইটে। যারা লিখতে চান, তারা নিয়মটা একটু পড়ে নিন। সহযোগী - ![]() © ২০১৩ প্রিয়.কম ॥ ইমেল: info@priyo.com ফোন: +৮৮০-১১-৯৩১৭ ৬৩৫৬ ॥ লেখা পোস্ট করার নিয়মাবলী |
আমাদের অন্যান্য সাইট: |