Dhaka, Tue, 23 Sep 2014, 10:20 pm | লগ-ইন করুন | নিবন্ধন করুন   অন্যান্য সাইট: | ইসলাম | রিডার | টেক | English News

তারার খাবার: আমার বানানো কয়লা মুরগী - তানিয়া আহমেদ

(প্রিয়.কম) লাইভ মিউজিক শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। তাই আমি প্রায়ই চলে যাই "ফায়ার অন আইস"-এ। ওখানে বসে যেমন খাওয়াটা হয়, তেমন গান শোনাটাও হয়। এর বাইরে বলতে গেলে তেমন একটা বাইরে বসা হয় না। আমার বাইরে খেতে তেমন ভালোও লাগে না। আমার পছন্দ বাহারী সালাদ। যেখানেই দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের সালাদ পাওয়া যায় সেখানে আমি যাই। যেমন পিজা হাটে কিন্তু একটা সালাদ বার আছে; তাই সেখানেও যাওয়া হয় প্রায়ই।

আবার যখন দেশের বাইরে যাই তখন তো বাইরের খাবার খাওয়া হয়। বাইরে গেলে আবার অনেক সময় অনেক খাবার ভালো লাগে। যেমন লন্ডনে একবার গেলাম। সেবার টেমস নদীর তীরে একটা রেস্টুরেন্টে বসে আমরা খেয়েছিলাম। সেই খাবারটা সত্যিই অনেক সুস্বাদু ছিলো। আবার অনেক সময় হয় কি নতুন নতুন কিছু রেস্টুরেন্টে বসে পড়া হয়। তখন আর সেভাবে নির্দিষ্ট থাকে না।

বিদেশী খাবারের মধ্যে আমার পছন্দ হলো ইন্ডিয়ান খাবার। এই খাবারটা খেতে বাইরে যাওয়া হয়। তবে সেই মাত্রাটাও কম। ইন্ডিয়ান খাবারগুলো "সাজনা" বা "খাজানা"-তে বসে খেতে ভালোই লাগে। আবার যদি মন চায় দোসা খাবো তাহলে সাঙ্গাম থেকে দোসা এনে খাই। দোসাটা ওরা বেশ ভালো বানায়। আর আমার যেটা হয় সেটা হলো বাড়িতেও আমি প্রায়ই ইন্ডিয়ান খাবার তৈরী করি। বাইরে থেকে মসলা কিনে এনে সেটা দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলি ভারতীয় খাবার।

খাবারে ভারতীয় ধরনটা আমার একটু বেশি পছন্দ। যেমন সবজিতে যদি পাঁচফোড়ন ব্যবহার করা হয় তাহলে আমার খুব ভালো লাগে সেটা। আবার বোম্বে মরিচ দিয়ে বাগার দেওয়া ডালটা আমার কাছে মুখরোচক মনে হয়। শাক আমার খুবই প্রিয়, আর প্রিয় লাউ। পালং, কলমী, আর লাউ শাকই খাই বেশি।

আমি রান্না করতে খুব পছন্দ করি। সময় পেলেই ঢুকে পড়ি রান্নাঘরে। আর একটা বিষয় হলো আমি রান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করি। নানান সময় নানান কিছু রান্না করি। আর সেসবের অধিকাংশই হয় নতুন কিছু। এসব রান্না করার সময় অন্য কারো রেসিপি নিলেও তাতে আমি আবার নতুন কিছু যোগ করে নতুন মাত্রা আনার চেষ্টা করি। আমার নিজের রান্না করা সব খাবারই আমার ভালো লাগে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন কেউ আমার রান্না খেয়ে প্রশংসা করে। যেমন আমি একটা খাবার বানাই মুরগী দিয়ে। সেটা আমি গ্যাসের চুলাতেই রান্না করি কিন্তু ওখানে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করি তাতে করে ওটার স্বাদটাই পরিবর্তন হয়ে যায়। কেমন একটা কাবাব কাবাব ফ্লেভার আসে। সেটা আমার বাড়ির সবাই খুব পছন্দ করে। আর বাড়ির সবাই মিলে আমার সেই নতুন রেসিপির নাম দিয়েছে "কয়লা মুরগী"।

খাবার নিয়ে আমার মজার কিছু স্মৃতিও আছে। আমি খাবার নিয়ে কখনোই কাউকে বিরক্ত করতে চাইনা। আবার কাউকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতেও ফেলতে চাইনা। আর এতে করে হয় কি আমাকেই অনেক সময় সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আমার নানীর হাতের ফিরনি আমার খুব পছন্দ। অনেক যায়গায় খেতে গেলে দেখা যায় যে আমাকে হয়তো ফিরনি খেতে দিলো। কিন্তু সেই ফিরনিতে লবন এতো বেশি যে আমি খেতে পারছিনা। তবুও সবার মুখের দিকে তাকিয়ে খেয়ে যেতে হচ্ছে বাটির পর বাটি।

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করে ডায়েট মানেই না খেয়ে থাকা। মোটেও তেমন নয়। বরং সবই খেতে হবে কিন্তু পরিমাণমতো। তা না হলে তো দুর্বলতা গ্রাস করবে! তাই ডায়েট করলে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে চার্ট এনে তারপর ডায়েট করা উচিত। আর আমি করি কী যখনই একটু ওয়েট বেড়ে যায় তখনই ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করি। আমি বারে বারে খাই না, দিনে তিনবারই খাই। হয়তো দেখা গেলো সকালে রুটি খেলাম তারপর দুপুরে ভাত তারপর রাতে আর তেমন কিছু না খেয়ে একটু সবজি বা সালাদ বা দুধ। ব্যাস এভাবেই পরিপূর্ণ আমার নিজেকে সুস্থ রাখার প্রক্রিয়া।

অনুলিখন: শর্মিলা সিনড্রেলা।

টপিক: