ছবি সংগৃহীত

অকাল প্রয়াত নক্ষত্র স্মরণে

আজ বেঁচে নেই তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির, কিন্তু আছে তাঁদের অনন্য কীর্তি। এই দুই গুণী সন্তানের অকাল প্রয়াণে বাংলাদেশের যা ক্ষতি হয়েছে তা চিরকাল রয়ে যাবে নিশ্চিতভাবেই অপূরণীয়। তাঁদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে রইল প্রিয় ডট কম পরিবারের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা।

দেয়া
লেখক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৩, ১০:০৩ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৮


ছবি সংগৃহীত
আমরা অনেকেই এখনও ঈদের আমেজ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি হয়তো। তার উপরে মাথায় আছে হরতালের দিনে অফিস বা স্কুলে যাওয়ার চিন্তা। এরই ফাঁকে চুপিসারে যে একটি মৃত্যুবার্ষিকী এসে পড়েছে তা হয়ত আমাদের খেয়ালই নেই। আজ ১৩ই অগাস্ট, বরেণ্য চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং সাংবাদিক মিশুক মুনিরের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
আজ থেকে দুই বছর আগের এই দিনে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তারেক মাসুদ, মিশুক মনির এবং তাদের সহযাত্রী আরও তিন জন। তাদের মাঝে ছিলেন গাড়ি চালক মুস্তাফিজ, প্রোডাকশন ম্যানেজার ওয়াসিম এবং প্রোডাকশন বয় জামাল। একই গাড়ির আরোহী ছিলেন তারেক মাসুদের সহধর্মিণী ক্যাথেরিন মাসুদ এবং আরও তিন সহযাত্রী যারা মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসতে সক্ষম হন। আজ বেঁচে নেই তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির, কিন্তু আছে তাঁদের অনন্য কীর্তি। রানওয়ে, মুক্তির গান, মাটির ময়না, অন্তর্যাত্রা এমন সব কালজয়ী এবং ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র তৈরি করে অমর হয়ে আছেন তারেক মাসুদ। একই ধাঁচের মানুষ ছিলেন মিশুক মনিরও। রানওয়ে চলচ্চিত্রটির প্রধান চিত্রগ্রাহক ছিলেন তিনি। নিজেদের কর্মচঞ্চল জীবনে তারা সৃষ্টি করে চলেছিলেন একের পর এক উল্লেখযোগ্য কীর্তি। তাদের মৃত্যুও হয় “কাগজের ফুল” চলচ্চিত্রের লোকেশন দেখে ফেরার পথে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সমগ্র পৃথিবীর কাছে উপস্থাপন করার পথিকৃৎ ছিলেন তারেক মাসুদ। ব্যাতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রগুলো এসেছে তার দেখানো পথ ধরেই। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নূরপুর গ্রামে জন্ম নেন এই অসম্ভব প্রতিভাব মানুষটি। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরুতা হয় মাদ্রাসায়। কিন্তু সেই কঠিন অনুশাসনের মাঝেও তাঁর সৃজনশীলতা কিন্তু মরে যায়নি, বরং বলা যায় পেয়েছে ভিন্ন মোড়। ১৯৭১ সালের পর তিনি সাধারণ শিক্ষা পদ্ধতিতে পড়াশোনা শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময়েই তার প্রতিভার বিস্তার শুরু হয়। ১৯৮২ সালে নির্মাণ শুরু করা ও ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া “আদম সুরত” ছিল তার প্রথম তথ্যচিত্র। “মাটির ময়না” তার তৈরি প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিক অ্যাওয়ার্ড লাভ করে এই চলচ্চিত্রটি।
মিশুক মুনিরের কৃতিত্ব আমরা দেখি একই ভাবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরীর সন্তান তিনি এবং সাংস্কৃতিক জগতের অনেক ব্যক্তিত্ব আছেন তার আত্মীয়দের মাঝে। পিতৃহীন অবস্থায় বেড়ে ওঠা মিশুক মনির ছিলেন সবার প্রিয়, সদা হাস্যজ্জল এক ব্যক্তিত্ব। সাংবাদিক এবং চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনিরের সর্বপ্রধান অবদান রয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ জগতে, যেখানে সংবাদ পঠনের ক্ষেত্রে তিনি নিয়ে আসেন নতুন মাত্রা। এর পূর্বে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেন দক্ষিন এশিয়াতে বিবিসির চিত্রগ্রাহক হিসেবে। জীবন বাজি রেখে তিনি তৈরি করেন রিটার্ন টু কান্দাহার, ওয়ার্ডস অফ ফ্রিডম এর মত তথ্যপ্রামান্যচিত্রগুলো। দুই বছর আগে তাদের মৃত্যুতে আমাদের পরিচ্ছন্ন এবং সৃজনশীল চলচ্চিত্র জগতের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয় তা হয়ত কখনই পুনরুদ্ধার করতে পারব না। এই দুই প্রতিভার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে রইল প্রিয় ডট কম পরিবারের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
শীতে দ্রুত বুড়িয়ে যায় ত্বক, কিন্তু কেন?
কে এন দেয়া ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
শীতকালে দই খাওয়া কী খারাপ?
কে এন দেয়া ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
কাশতে কাশতে বের হয়ে এলো ‘ফুসফুস’!
কে এন দেয়া ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
শীতের সকালে খুব সহজে গরম গরম নাস্তা
রুমানা বৈশাখী ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট