ছবি সংগৃহীত

অবশেষে রাজনৈতিক পক্ষ নিলেন ডক্টর ইউনূস!

দারিদ্র্যকে যাদুঘরে পাঠাবার মতো দৃঢ় মনোবল এবং ইতিবাচক মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ যে দারিদ্র্য-বিমোচনে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে এই অর্থনীতিবিদের বিশেষ কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে তিনি খুশি বা অখুশি, তাও বুঝা যায় নি।

মাঈনউদ্দিন মইনুল
লেখক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০১৩, ১০:৪২ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০১৮, ১২:৩১
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০১৩, ১০:৪২ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০১৮, ১২:৩১


ছবি সংগৃহীত
দারিদ্র্যকে যাদুঘরে পাঠাবার মতো দৃঢ় মনোবল এবং ইতিবাচক মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ যে দারিদ্র্য-বিমোচনে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে এই অর্থনীতিবিদের বিশেষ কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে তিনি খুশি বা অখুশি, তাও বুঝা যায় নি। প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ইত্যাদি ইস্যুতে তিনি রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ ছিলেন। এটি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠেছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুতে তার একটি নিরপেক্ষ ইমেজ থাকার কারণে এক সময় কেউ আর উচ্চবাচ্য করে নি। যদিও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়া ও কোন দলীয় বিষয় নয়। গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে সরকারের তীব্র সমালোচনা করলে, কেউ তা রাজনৈতিকভাবে বিশ্লেষণ করেন নি। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের মারমুখী আচরণে দেশের অধিকাংশ মানুষ বরং সরকারের সমালোচনাই করেছে, আজও করছে। এর প্রধান কারণ হলো, জনগণ তাকে একজন নির্দলীয় এবং দেশের আপাময় জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই দেখতো। এখন ভিন্ন পরিস্থিতি। বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস অবশেষে রাজনৈতিক পক্ষ গ্রহণ করলেন। বস্তুত তার আর নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ ছিলো না, কেউ বিশ্বাসও করতো না। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের সাথে চলমান টানাহেঁচড়ায় তাকে প্রতিশোধপরায়ন করে তুলেছে এবং এতে কারও দোষ দেওয়ারও সুযোগ নেই। আড়ালে আবডালে একটি মতাদর্শে দুর্বলতা থাকলেও এবার অনেকটা আকষ্মিকভাবেই তিনি রাজনৈতিক বিষয়ে তার নিরবতা ভেঙ্গেছেন। একসাথে দু’টি বোমা তিনি ফাটিয়েছেন চরম পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য দিয়ে। সরকারি দলটি নিজেই অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেছে বিগত সাড়ে চার বছরে। কিন্তু ডক্টর ইউনূসের যুক্তিটি বেশ হাস্যকর: ‘গ্রামীণ ব্যাংককে যারা ধ্বংস করেছে তাদের হাতে দেশের দায়িত্ব দেওয়া যায় না।’ অর্থাৎ, গ্রামীণ ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ যে, সে দেশ চালাতেও ব্যর্থ। একথা দিয়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে সরকারি দলের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তার দ্বিতীয় বক্তব্যটি হলো, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া দেশের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। এ বিবৃতিটি তিনি গতকাল দিয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। একই দাবিতে বিরোধী দল দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী দল আন্দোলন চালিয়ে আসছে। হয়তো, সরাসরি বিএনপি বা জামাতের পক্ষাবলম্বন করা শোভন নয় বলে তিনি অপেক্ষাকৃত মাঝামাঝি পর্যায়ের একটি দলকে বেছে নিলেন। ফলে এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনকে তিনি সমর্থন জানালেন। প্রথম বক্তব্য দিয়ে ডক্টর ইউনূস একটি রাজনৈতিক অবস্থান সৃষ্টি করলেন, যা সরাসরি সরকারি দলের বিপক্ষে। দ্বিতীয় বক্তব্যটি দিয়ে সুস্পষ্টভাবে তিনি বিরোধী দলের পক্ষ গ্রহণ করলেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এখন থেকে রাজনৈতিকভাবে একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেন, যা আগামি দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। নতুন পরিচয়টি তার পূর্বের পরিচয়ের চেয়ে অনেক সংকীর্ণ হলেও এর তাৎপর্য আছে। এখন সময়ই বলে দেবে, এই অবস্থান নিয়ে তিনি কতটুকু মাইলেজ পাবেন তার নিজের এবং তার প্রতিষ্ঠানের জন্য।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...