ছবি সংগৃহীত

অবৈধ পথে আসছে পাকিস্তানি পোশাক, সংকটে দেশীয় পণ্য

দেশের ঈদ বাজারে পোশাকের পাকিস্তানি থ্রিপিস, সালোয়ার-কামিজ, লন ও কুর্তায় ভরে গেছে। এর সবগুলো কিন্তু বৈধ পথে আসা নয়; আসছে অবৈধ পথে। ব্যবসাও চলছে অন্তরালে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই পোশাকগুলো সরবরাহ করছে।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০১৫, ০৯:৩৯ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:১৬
প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০১৫, ০৯:৩৯ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:১৬


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) ঈদ বাজার ভরে উঠছে পাকিস্তানি থ্রিপিস, সালোয়ার-কামিজ, লন ও কুর্তায়। এর সবগুলো কিন্তু বৈধ পথে আসা নয়; আসছে অবৈধ পথেও। মার খাচ্ছে দেশীয় পোষাক। এক শ্রেণির `অসাধু' ব্যবসায়ী এই পাকিস্থানী পোশাকগুলো সরবরাহ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, গেস্টহাউস, ভাড়া করা ফ্ল্যাটে তারা তৈরি করেছে আস্তানা। যার প্রভাব পড়ছে দেশীয় পোশাকের বাজারে। স্থানীয় শিল্প রক্ষায় বিদেশি পোশাক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলে মনে করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। আর সস্কৃতিকর্মী অরূপ রাহী অভিমত দিলেন, বাইরের দেশের ভালো কিছু গ্রহণ করতে সমস্যা নেই। তবে সামগ্রিকভাবে এর জন্য এটা নীতিমালা থাকা দরকার। রাজধানীর পোশাকের পাইকারি বিভিন্ন বাজারে পাকিস্তানি পোশাক ঢুকে পড়েছে। পাকিস্তানি এসব পোশাকের সঙ্গে দেশি পোশাকের দামে তেমন তারতম্য না থাকায় দেশি পোশাক মার খাচ্ছে। এতে দেশি পোশাকের বিক্রি কমছে বলে জানান বিক্রেতারা। জানা গেছে, পাকিস্তানি পোশাক নানা পন্থায় বিক্রি করা হচ্ছে। পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাইকারি বিক্রির চুক্তি করছে। বাকিতে তাদের পোশাক দিচ্ছে। সপ্তাহ শেষে মার্কেট থেকে টাকা সংগ্রহ করছে। ঈদের পরে টাকা নেবে- এমন চুক্তিতেও পোশাক দিচ্ছে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা। অবৈধ এ ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশের একশ্রেণির ব্যবসায়ী জড়িত। এর ফলে মার খাচ্ছে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো। বাংলাদেশের বাজারে বিদেশি পোশাকের অনুপ্রবেশকে সাংস্কৃতিক ‘আগ্রাসন’ উল্লেখ করে অরূপ রাহী প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক রীতিনীত ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কিত। সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে বিকশিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাধীনতার মাঝখানে বিদেশি কোনো কিছুর অনুপ্রবশ ঘটলে সেটা দেশীয় সংস্কৃতির জন্য সুখকর নয়। যা দেশীয় সংস্কৃতি ধ্বংসের কারণ।’ সূত্র জানায়, বাংলাদেশি কোনো কোনো ব্যবসায়ী হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে পাকিস্তান থেকে চোরাপথে পোশাক আনছে। অবৈধভাবে আনা পোশাক কেবল রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকার বিপণিবিতানে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার অভিজাত একটি শপিংমলের পোশাক ব্যবসায়ীরা স্বীকার করেছেন, ‘বৈধ আমদানির আড়ালেও পাকিস্তানি পোশাক আসছে।’ দেশি ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামিদামি পোশাক বৈশাখের উৎসবের বাজার দখল করে রাখলেও ঈদবাজারে মার খাচ্ছে। এ সময়ে বিভিন্নভাবে আসা বিদেশি পোশাক বিক্রি হচ্ছে বেশি। ফলে দেশি ব্র্যান্ডের পোশাক এক অসম প্রতিযোগিতার মুখে। দেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক উদ্যোক্তাদের সংগঠন 'ফ্যাশন উদ্যোগে'র সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বলেন, ঈদবাজারে আমদানি করা যে পোশাক আসছে, তার চেয়ে বেশি আসছে অবৈধভাবে। স্থানীয় শিল্প রক্ষায় বিদেশি পোশাক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অবৈধভাবে পোশাক আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন বাদশা মিয়া বলেন, পাকিস্তানি পোশাকের বিক্রি বাড়লেও দেশি পোশাক একেবারে পিছিয়ে নেই। দেশি পোশাকের প্রতি ক্রেতার আগ্রহ কম নেই। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এবারে ঈদে পোশাকের বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে স্থানীয় পোশাকের বাজার ২০ হাজার কোটি টাকার। দেশি ব্র্যান্ডের পোশাকের বাজার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার। পাকিস্তান ছাড়া ভারত, থাইল্যান্ড, জাপান, চীন, ফ্রান্সসহ ১২টি দেশের পোশাক ঈদবাজারে রয়েছে। এদিকে, ‘কিরণমালা’, ‘রাজকুমারী’, ‘ইচ্ছে নদী’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘জলকন্যা’-এসব বাহারি ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নামের পোষাকগুলো ঢুকছে ঈদ বাজারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই তালিকা থেকে বাদ যাননি। বিদেশি পোশাকে বাজারের এ দখলদারিত্বকে ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ হিসেবে দেখছেন সংস্কৃতকর্মীরা। তথ্য সূত্র: সমকাল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...