ছবি সংগৃহীত

আজ এই বিউটিফুল মেয়েটির জন্মদিন

৪ জুলাই অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর জন্মদিন। তার জন্মদিন নিয়ে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী একটি লেখা লিখেছেন। লেখাটি প্রিয়'র পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। <strong></strong>

গোলাম রাব্বানী
ফিচার এডিটর
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০১৫, ০৮:৫৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০১৫, ০৮:৫৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম ) ৪ জুলাই অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর জন্মদিন। তার জন্মদিন নিয়ে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী একটি লেখা লিখেছেন। লেখাটি প্রিয়'র পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। শ্রাবন্তী। চমৎকার একটি মেয়ে। বিশাল বড়, অনেক বড় একটা মন যার ভিতরে আছে। অনেক অনেক ঋণ এই মানুষটার প্রতি আমার। ২০০১ সাল যখন আমার ক্যরিয়ার শুরু তখন অপি করিম আর এই শ্রাবন্তী এই দুই গুণী অভিনয় শিল্পী আমার অনেক ভালো কাজ করেছেন। শ্রাবন্তীর প্রোডাকশান থেকে আমার কিছু নাটক ও অন এয়ার হয়েছিল এ্যাড মিডিয়ার ব্যনারে। তখন মানুষ বিটিভি দেখবার জন্য অপেক্ষা করতো। শ্রাবন্তী আর শাহেদ জুটির নাটক দেখার জন্য মানুষ অপেক্ষা করতো। শ্রাবন্তীর মনটা দারুণ সুন্দর। ও প্রিয় মানুষদের পাগলের মত ভালবাসে। সেই মানুষটার জন্য পারলে সে আকাশের চাঁদটা পেড়ে আনে। কষ্টও পায় অনেক। তাতে কী!! যাদের মন বিশাল তাদের ভালোই হয়। তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার আর্শীবাদ সবসময় সাথে থাকে। বিপদে সবার আগে শ্রাবন ঝাপিয়ে পড়ে। একটা গল্প বলি। যে কথা কোনদিন কাউকে বলিনি। আজ লিখতে বসে মনে হলো আমার দর্শকের সাথে শেয়ার করি। একবার আমার ভীষণ ক্রাইসিস পিরিয়ড চলছিল। মনটা অস্থির ছিল। একজন আমাকে বললেন, আপনি ফিরোজা পাথর পড়েন মন শান্ত থাকবে। আর নেইম ফেইম এর জন্য রুবি পাথর পড়েন। রিজেনেবল দাম এ তখন ফিরোজা পাথর পড়লাম। কিন্ত রুবি পাথর নিতে পারলাম না। অনেক দাম চাইলো। অরিজিনাল রুবির। তখন শ্রাবন প্রায়ই আসতো। আমার রান্না ওর ভীষণ প্রিয় ছিল। স্পেশালি লুচি আর লাবড়া। রাতে আমরা আমার ঘরে অনেক আড্ডা দিয়েছি। গল্পে গল্পে আমার রুবি পাথরের কথা বলা হলো। চলে গেলো সকাল বেলা শ্রাবন্তী। আমাদের ঈদের নাটকের শুটিং শুরু হলো। 'হয়তো তোমার জন্য' গায়ক বালামের সাথে। সাথে অপূর্ব আর নোভা। দারুণ ভাবে কাজ শেষ হলো। মাস্টার ক্যাসেট হাতে দেবার সময় আমার পেমেন্ট এর সাথে শ্রাবন্তী আমার আঙ্গুলে একটি রুবী পাথরের সোনার আংটি পড়িয়ে দিল। আমি তো নিবোই না। কিন্ত ও মানবেই না। বললো, 'আমরা ফ্যামেলি। আমি তোমার বোন। আমি তোমার এত্ত কাজ করলাম আর আমি তোমাকে একটা জিনিস দিতে পারিনা!!'
কান্না করে দিলাম আমি। বললাম, 'নিতে পারি শর্ত আছে' বললো,কি শর্ত? আমি আমার আঙুল থেকে ডায়মন্ডের রিং টা ওর হাতে পড়িয়ে দিলাম। বললাম, 'তোর হাতের আংটি টা আমাকে দিলি আমারটা তোর হাতে থাক। বিনিময় নয়। কারণ, তোর শুধু রুবি পাথরের দাম ৩৫,০০০ টাকা। সোনার দাম তো ধরলামই না। আমার ডায়মন্ডের রিং ১৬,০০০।' শ্রাবন্তী, বুদ্ধিমতী মেয়ে। আমার ইমোশোন বুঝলো সে। কিছু বললো না। সেই থেকে ওই রুবি পাথরের অাংটি আমার হাতে। এখনও পড়ে আছি। একদিনের জন্য আঙুল থেকে খুলিনি। তোর দেয়া উপহার টাই হয়তো আমার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। তোকে ধন্যবাদ দিবোনা। এর মূল্য ধন্যবাদ দিয়ে হয়না। তোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি ঋণী । প্রতিদিন আমার প্রার্থনায় প্রিয় কিছু মানুষের সাথে তুই থাকিস। মুহুর্তের জন্যও তোকে কখনও ভুলে থাকিনি। সবসময় তুই আমার শুধু চোখের ভিতর না, মনের ভিতর থাকিস। কারণ জ্বলজ্বল করছে তোর দেয়া ঊপহার। আজ এই বিউটিফুল মেয়েটির জন্মদিন। এই দারুণ মনের মেয়েটি জীবনে অনেক কষ্ট করেছে। কিন্ত আজ সে সবচেয়ে সুখী এক মানুষ। বটগাছের মত যার ছায়ায় আছে সেও এক দারুণ মহৎ মানুষ। খোরশেদ আলম। যিনি আগলে রেখেছেন এই মেয়েটিকে। তাদের কোল জুড়ে আছে দুটি বিউটিফুল পরী। শুভ জন্মদিন শ্রাবণ। তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি। অনেক আনন্দময় হোক জীবন। তোর পরিবার আলোয় আলোয় ভরে উঠুক। আদর ভালোবাসা আর আশীর্বাদ। নাতির ঘরে যেন পুতি দেখতে পাস। ততদিন বেঁচে থাক এই সুন্দর পৃথিবীতে। শুভ জন্মদিন। লেখক: নাট্য নির্মাতা

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...