ছবি সংগৃহীত

আমাকে ঘাড় ধরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে : তসলিমা নাসরিন (ভিডিও)

টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তসলিমা নাসরিন বলেছেন, ‘আমি সবসময়ই দেশে আসতে চাই। আজকে কুড়ি বছর এমন একটা দিন আসেনি, যেদিন আমি দেশে আসতে চাইনি। আমাকে জোর করে গাঢ় ধরে বের করে দেওয়া হয়েছে। সেই ১৯৯৪ সালে আগস্টে। আজকে ২০১৩ সালে আগস্ট।’

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০১৩, ১৭:২৪
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০১৮, ০৮:০০


ছবি সংগৃহীত
তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন উপলক্ষে তার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’ প্রচার করেছে। প্রিয়.কম-এর পাঠকদের জন্য তার তুলে ধরা হলো: প্রশ্ন : আপনার জন্মদিনে আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঢাকায় মানববন্ধন করছে। আপনার ফিরিয়ে আনার জন্য। এই বিষয় আপনার বক্তব্য কি? আর জন্মদিনে আপনার ভক্ত পাঠকদের জন্য কিছু বলবেন? তসলিমা নাসরিন :
দেশ তো আমার কথা ভুলেই গিয়েছে বলেই জানতাম। আজ প্রায় কুড়ি বছর হলো দেশ আমি দেশে নেই। কিন্তু খুব বেশি প্রতিবাদ তো হয় নাই। আমাকে এভাবে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হলো এবং আমাকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না কুড়ি বছর যাবত। এখন এতকাল পর কিছু মানুষের বোধোদয় হয়েছে এবং কিছু মানুষ প্রতিবাদ করেছে সেটা শুনে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি ভেবেছি ঐ দেশে কেউ প্রতিবাদ করবে না। অন্যায়ের প্রতিবাদ কেউ করেও না হয়তো! একটা অভিমান ছিলো একটা দুঃখ ছিলো। কিন্তু আজকে যখন শুনছি ওখানে মানববন্ধন হচ্ছে, আমার জন্য কেউ কেই ভাবছে তখন আমার ভালোও লাগছে। সত্যিই ভালো লাগছে। দেশের মানুষের জন্য, পাঠকদের জন্য আমি ঐরকম কোন বক্তব্য দেই না। আমি যা বলার তা আমি বইতে লিখি। আমি জানি না ঐখানে আমার বই বের হয় কি না। আমি শুনেছি যে, নকল বই জাল বই বের হয় । এই সব বের হয়।
প্রশ্ন : আপনার পাঠক তো আছে? তসলিমা নাসরিন :
পাঠক তো আছেই। কিন্তু প্রকাশকরা তো বই করতে ভয় পায়। আবার যারা পাইরেটেড এডিশন বের করছে, তারা নাকি অন্যের বই আমার নাম দিয়ে বের করছে। আমার বই ঠিকঠাক মতো বের করছে না। পাইরেটেড এডিশনের ওপর নির্ভর করেই চলতে হচ্ছে। মানুষ সেই বইগুলোই পড়ছে। সত্যিকার আমার বই পড়ছে নাকি ওখানে? এটাও আমি জানি না। কোথা থেকে ওরা মেনুস্ক্রিপ্ট পায় সে তো আমি জানি না। কিন্তু আমি আমার নামে অনেক বইয়ের নাম শুনি। কিন্তু সেগুলো কিন্তু আমার বই নয়। একবার নিউইয়র্কে একটা বইয়ের দোকানে গিয়ে দেখলাম অন্যের বইয়ের ওপরে আমার নামের কভার। বিচ্ছিরি কিছু বই, বিচ্ছিরি কিছু নাম কিন্তু ওপরে লেখকের নামটা আমার। এগুলো দেখে খুব দুঃখ লাগে। এগুলোর প্রতিবাদ করার কোন মানুষ নাই। আমার এতগুলো বই যে বাংলাদেশে ব্যান (নিষিদ্ধ)। এগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করারও কোন লোক নেই ঐখানে। প্রতিবাদ করার কোন লোক নেই। কলকাতায় আমার একটা বই ব্যান হয়েছিল। কলকাতায় একটি মানবাধিকার সংস্থা প্রতিবাদ ও মামলা করেছে এবং হাইকোর্ট বইটিকে মুক্তি দিয়েছে। সেই রকম কোন কিছু ঘটলো না বাংলাদেশে। এবং যেতে দেওয়া হয় নাই এটাও যেন আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। না, এটার আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার না। এটা দেশের বিষয়। একটা অন্যায় করা হয়েছে। আজ কিছু মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে এটা শুরু আমার খুব ভালো লাগছে।
প্রশ্ন : আপনি কি নতুন করে দেশে আসার জন্য কোন উদ্যোগ নিয়েছেন? এখন কোন দেশে, কোথায়, কিভাবে আছেন? তসলিমা নাসরিন :
আমি সবসময় দেশে আসার জন্য উদ্যোগ নিয়েই থাকি। আমাকে বাংলাদেশের কোন অ্যাম্বাসী ভিসা দেয় না অথবা আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ করে না। আমার যে বিদেশি পাসপোর্ট আছে সেখানে কোন ভিসা বাংলাদেশের কোন অ্যাম্বাসী দেয় না। তারা বলছে সরকারের মানা আছে। আমি বলছি লিখে দেন, কিন্তু তারা তা লিখে দিবে না। তারা আমাকে বাংলাদেশে যাওয়ার বিষয় কোন রকম সাহায্য করছে না। তারা আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ করছে না এতো গুলো বছর। কোন বাংলাদেশি অ্যাম্বাসী নেই, যেখানে আমি যাইনি। আমি ভারত, ফ্রান্সে, জার্মানি, সুইডেন, আমেরিকার অ্যাম্বাসীতে আবেদন করেছি। তারা বলেছে, সরকার চায় না আপনি বাংলাদেশে যান। এরপর আর কোন কথা হতে পারে না। সেই সরকার কোন সরকার, খালেদা জিয়ার সরকার, হাসিনার সরকার বা অন্য কোন সরকার। কোন সরকারই নাকি চায় না আমি বাংলাদেশে যেন না যাই। আমার নিজের দেশ। দেশটা ওদের নিজের বাপের সম্পত্তি নয়। কিন্তু তারা নিজের বাপের সম্পত্তি হিসাবে দেখছে। এবং আমার নিজের দেশে তারা আমাকে কুড়ি বছর যেতে দিচ্ছে না।
প্রশ্ন : আপনি কি পাঠকদের কাছে কোন কিছু বলবেন যে, আপনি বাংলাদেশ আসতে চান? তারা উদ্যোগ নিক? তসলিমা নাসরিন :
আমি সবসময়ই দেশে আসতে চাই। আজকে কুড়ি বছর এমন একটা দিন যায়নি, যেদিন আমি দেশে আসতে চাইনি। আমাকে জোর করে দেশ থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া হয়েছে। সেই ১৯৯৪ সালে আগস্টে। আজকে ২০১৩ সালে আগস্ট মাস। এই কুড়ি বছরে একটা দিনও আসে নাই আমি দেশে যেতে চাইনি। আমি সবসময়ই দেশে যেতে চেয়েছি। আমি সবসময়ই দেশে যেতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয় নাই।
চ্যানেল আইয়ের এ সাক্ষাৎকারটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট