ছবি সংগৃহীত

আমাদের শিক্ষার গোড়ায় গলদ

একটি শিশু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা লাভ শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ স্তর থেকে উত্তীর্ণ হয়ে সে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু আমাদের শিশু ও অভিভাবক সবারই দুর্ভাগ্য যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই স্তরেই মানসম্মত শিক্ষাদান এখন হচ্ছে না। এক কথায়, দুটি জায়গাাতেই শিশু-কিশোররা খুব খারাপ মানের শিক্ষা পাচ্ছে। লিখেছেন <strong>হায়াৎ মামুদ</strong>

Hayat Mahmud
লেখক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০৫:৪৪ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৬:৩২
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০৫:৪৪ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৬:৩২


ছবি সংগৃহীত
একটি শিশু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা লাভ শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ স্তর থেকে উত্তীর্ণ হয়ে সে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু আমাদের শিশু ও অভিভাবক সবারই দুর্ভাগ্য যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই স্তরেই মানসম্মত শিক্ষাদান এখন হচ্ছে না। এক কথায়, দুটি জায়গাাতেই শিশু-কিশোররা খুব খারাপ মানের শিক্ষা পাচ্ছে। গণিতে তারা দুর্বল রয়ে যাচ্ছে। ভাষা তথা বাংলা-ইংরেজি জ্ঞানেও তারা পিছিয়ে থাকছে এবং অনেকের ক্ষেত্রেই এটি ধরা পড়ছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময়। এই মান পতনের অন্যতম কারণ শিক্ষক নিজেই। এখনকার শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সহকারে পড়ান না; বরং ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানোর দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি অভিপ্রায় থাকে তাঁদের। অনেক শিক্ষক তো নীতি-নৈতিকতা ভুলে, নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে কোচিং সেন্টারই খুলে বসেন। আমাদের দেশের অনেক অভিভাবকই আছেন, যাঁরা দারিদ্র্যক্লিষ্ট, কায়ক্লেশে সন্তানের স্কুলের নিয়মিত খরচ বহন করেন। ফলে সন্তানকে প্রাইভেট বা কোচিংয়ে পড়ানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর প্রাইভেট বা কোচিংয়েও কি কিছু শেখানো হয়? কিভাবে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, জিপিএ ভালো পেতে কোন কোন উত্তর মুখস্থ করতে হবে, টাকার বিনিময়ে শিক্ষকরা তা শিখিয়ে দেন। মূল বই থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেন নোট-গাইড। আর আমাদের শিক্ষকরা ভালোবেসে যে পড়াতে আসেন, তা-ও নয়। একজন হয়তো ছাত্রজীবনে সরকারি আমলা বা বিশেষ কোনো পেশাজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পড়াশোনা শেষ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে সে পেশায় যাওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। শেষে টিকে থাকার দায়ে ঢুকে পড়েছেন শিক্ষকতা পেশায়। কিন্তু জোর করে তো শিক্ষক হওয়া যায় না। এর জন্য ব্রত লাগে, ত্যাগের মানসিকতা লাগে। শিক্ষকতা এমন এক পেশা, যেখানে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকার পাশাপাশি সে জ্ঞান বিতরণের কৌশল, সদিচ্ছা সবই থাকা চাই। আলোকিত মানুষ গড়ার যিনি কারিগর হবেন, তাঁকে নিজে আলোকিত তো হতেই হবে, অন্যকে সে আলোয় উদ্ভাসিত করার তীব্র তাড়নাও থাকতে হবে। রোগ সারাতে চিকিৎসক লাগে। একজন আদর্শ ডাক্তার যে রোগীকে শুধু ওষুধ দেন তা নয়, তিনি রোগীর যন্ত্রণা সহমর্মিতা দিয়ে অনুভব করেন। সমানুভূতি জাগানোর এ গুণটি একজন শিক্ষকেরও থাকা চাই। শিক্ষার্থীর কোথায় দুর্বলতা, সেটিই যদি শিক্ষক না জানেন, তিনি সে অভাব পূরণ করবেন কী করে? শিশুর মন তৈরির বড় কারিগর হচ্ছেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকরা। শিশুর জ্ঞানের যে ক্ষুধা, তা অসীম। প্রশ্ন করে শিশু যখন উত্তর পায়, সে তখন আরো অনেক কিছু জানতে চায়। তার প্রশ্নের ভুবন অবারিত। কিন্তু অফুরান চাহিদা পূরণের সামর্থ্য বা সদিচ্ছা কোনোটিই আমাদের শিক্ষকদের নেই। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় পেরিয়ে একজন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়। দুই বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্তর শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাওয়া যায়। পদার্থ, রসায়ন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান যে বিষয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি হোক না কেন, তাকে ইংরেজি জানতে-বুঝতে হবে। ভাষা জ্ঞান দুর্বল থাকলে এই স্তরে এসে বিদ্যা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। আর এই ভাষা শিক্ষার মূল প্রক্রিয়াটি সাধিত হয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে ভর্তির জন্য ছাত্রছাত্রী যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এ সমস্যার মূলে রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শ্রেণিগুলোতে দুর্বলভাবে ইংরেজি শিক্ষাদান। আদর্শ ও মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য অবকাঠামোও একটি অপরিহার্য বিষয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের খুব কম শিক্ষার্থীই শিক্ষালাভের আদর্শ পরিবেশ পায়। একটি শ্রেণিকক্ষে ধারণক্ষমতা হয়তো ৩০ জনের। তাতে ঠাসাঠাসি করে ৬০ জন বসানো হলে কজনের দিকে মনোযোগ দেবেন শিক্ষক? তাই বলব, সব দায় যে শিক্ষকের, তা নয়। ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অনুপাতে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক বাড়াতে হবে। এ ছাড়া আমাদের যত স্কুল থাকা দরকার তা-ও নেই। সব মিলিয়ে শিক্ষার আয়োজন অপ্রতুল। প্রয়োজনীয় স্কুল নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নেই। যোগ্য শিক্ষক নেই। এই সংকট কাটাতে হবে। এটিই মুখ্য কথা। লেখক : কবি, প্রবন্ধকার অনুলিখন : গাউস রহমান পিয়াস (এই পোষ্টটি দৈনিক কালেরকণ্ঠে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে) (এই বিভাগে প্রকাশিত মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে )

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...