ছবি সংগৃহীত

আমার কোনো ব্যর্থতা নেই, ডেপুটি স্পিকার আমার অর্জন: মো. ফজলে রাব্বি মিয়া

দশম জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া। রাজনীতিতে হাতেখড়ি পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং পরবর্তীতে জড়িয়েছেন সক্রিয় রাজনীতিতে। ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি একবার হুইপ এবং ১৯৯০ সালে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তিনি আলাপ করেছেন <em>প্রিয়.কম</em>-এর সঙ্গে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আমিনুল ইসলাম মিঠু।

আমিনুল ইসলাম মিঠু
লেখক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০১৫, ১৬:১১ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:১০


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) দশম জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া। জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার গটিয়া গ্রামে। পিতা মৃত ফয়জার রহমান এবং মাতা হামিদুন নেছা। বি.এ. এবং এল.এল.বি.-তে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি নিজেকে আইন পেশায় নিয়োজিত করেন। রাজনীতিতে হাতেখড়ি পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং পরবর্তীতে জড়িয়েছেন সক্রিয় রাজনীতিতে। ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি একবার হুইপ এবং ১৯৯০ সালে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তিনি আলাপ করেছেন প্রিয়.কম-এর সঙ্গে। পাঠকের জন্য সেই আলাপচারিতা তুলে ধরা হলো।

বেড়ে ওঠা এবং স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের জীবন

আমার পারিবারিক জীবনে রয়েছে সুখ এবং দুঃখের মিশ্রণ। আমি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের ছেলে। আব্বা খুব সৎ ও ধর্মভীরু ছিলেন। আমাদের ছোটমতোন একটা জমিদারি ছিল, তা উঠে যাওয়ার পর আমাদের খুব কষ্ট হয়েছিল কারণ আমাদের কোনো খাস জমি ছিল না। আমরা খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। আমার আব্বা অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে খুব অল্প বয়সেই মারা যান। ফলে সংসারের দায়িত্ব বড় ছেলে হিসেবে আমার কাঁধে চাপে। আমার দুটো ভাইকে আমি মানুষ করেছি। সে সময় আমি ওকালতি করি, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর। আব্বা মারা যাওয়ার পর আমি খুব শক্ত হাতে আমার পরিবারকে পরিচালনা করি। শুধু আমার পরিবার নয়, আমার সব চাচাতো-জেঠাতো-মামাতো-ফুফাতো ভাইদের সমন্বয় করে পরিবার পরিচালনা করতাম। ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন ধনাঢ্য পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেছি এবং সেখান থেকে আমার ওকালতি চর্চায় খুব সাপোর্ট পেয়েছিলাম। আমার জীবনে সুখের বিষয় আমি আমার তিনটি মেয়েকে ভালোভাবে লেখা��ড়া শিখিয়ে ও মানুষ করে তিনটি সৎ ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে পেরেছি। আরো সুখের বিষয় আমার মায়ের স্নেহ ও দোয়ায় আমি এতদূর এসেছি। আর আরো বেশি সুখের বিষয় আমার মা এখনো জীবিত আছেন, উনার বয়স একশ ছাড়িয়ে গেছে। দুঃখের বিষয় জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে দুঃখের বিষয় আমার তিনটি ছেলে খুব অল্প বয়সে ইন্তেকাল করে। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও দুঃখের একটা বিষয়।

সামরিক আইনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে রাজনীতি শুরু

১৯৫৮ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তখন আমি ক্লাস এইটের ছাত্র। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান পাকিস্তানে মার্শাল ল’ চালু করেছিল। ওই সময় আমার চাচা মরহুম ডাক্তার শামশুর দোহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি আমাদের দিয়ে মিছিল করাতে চেয়েছিলেন। তবে ওই সময় ৯ম-১০ম শ্রেণির ছাত্ররা শ্লোগান দিতে সাহস করেনি, আসেনি তারা। আমাকে দিয়ে পরে চাচা তা করিয়েছিলেন। আর আমি মার্শাল ল’র বিরুদ্ধে শ্লোগান দিলাম আর তখনই আমার মাথায় ঢুকেছে মানুষের জন্য কিছু করা দরকার। তখন তো আমি বাচ্চা ছিলাম প্রায়ই কিন্তু চাচা যে প্রেরণা দিয়েছিলেন সেটিতেই উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলাম। মার্শাল ল’ দিলে দেশে গণতন্ত্র কখনও আসবে না দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন কখনো হবে না।

ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা: অতীত বর্তমানের নিরিখ

১৯৬১ সালে গাইবান্ধা কলেজে ভর্তি হই। ওই সময় ১৯৬২-৬৩ সালে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি। তখন গাইবান্ধা কলেজে ছোট-মতো নেতা হিসেবে আমার নাম ছিল। অবশ্য আমরা কলেজে ছাত্রদল-ছাত্র ইউনিয়ন করতে পারতাম না। তবে আমরা অগ্রদূত নামে রাজনীতি করতাম। তো আমরা ছাত্র আন্দোলন করেছি, পুলিশের মার খেয়েছি। ওই ৫৮ সালেও পুলিশের পিটুনি খেয়ে নদী পার হয়েছি। তবে তখনকার দিনে ছাত্র আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা অভিভাবকদের স্নেহ ও সহযোগিতা পেয়েছি। কিন্তু আজকালকার ছাত্ররা তা পায় না। তৎকালীন সময়ে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে আমরা মফস্বল শহরে সভা করেছি, সেই সময়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ও অভিভাবকদের মাঝে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হতো আমাদের দাওয়াত করে খাওয়ানোর জন্য। তবে সভা করতে আমরা কোনো এলাকায় ১০ জনের নীচে কেউ যেতাম না। তাই আমরা ওইসব বাড়িতে দু’একজনের দলে ভাগ হয়ে যেতাম। এমনকি কোনো কোনো দিন রাত্রিযাপনও করা লাগতো, দুই ভাগ বা তিন ভাগ হয়ে থাকতাম...

ছাত্র রাজনীতির সোনালি অতীত আর বর্তমান অবস্থা

এটা ঠিক, আমাদের ছাত্র রাজনীতির অত্যন্ত সোনালী অতীত আছে। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন কেন হলো। ছাত্ররাই তো উর্দুর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন এবং এ কারণেই আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি। আর আমাদের দেশের প্রত্যেকটি অর্জনই রক্তের বিনিময়ে... আপনারা দেখুন ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলনে সেই মনুর মিয়ার রক্ত, ১৯৬৯-এর গণ অভ্যূত্থানে আসাদ গেইট এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতা সবই এক সাগর রক্তের বিনিময়ে... তবে ইদানিং ছাত্র রাজনীতির সেই সোনালি অতীত আর নেই। কেন? প্রথমত, যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাদের ভর্তি হওয়ার পূর্বশর্ত থাকে, তারা রাজনীতি করতে পারবে না। এমনকি ভারতেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা রাজনীতি করতে পারেন না। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি রাজনীতি করতে না দেয়, তাহলে তা কখনোই সম্ভব না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কত টাকা বেতন দিয়ে পড়ছে আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কত লাখ টাকা খরচ করে পড়ছে। তাই অভিভাবকরা কিন্তু সেখানে রাজনীতি করতে নিরুৎসাহিত করেন। আমি যদি আমার কোনো ছেলেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাই তবে আমি বলবো, বাবারে বড় হয়ে রাজনীতি কর। এমনকি আমার আব্বাও বলেছেন, ‘বাবারে বড় হয়ে রাজনীতি কর, না হলে কিছুই তো শিখতে পারবি না।’

বর্তমানে ছাত্র আন্দোলনকে নিরুৎসাহিত করা হয়

যে মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করা দরকার, সেই মানসিকতা ছাত্রদের পরিবর্তন হয়ে গেছে। ফলে অনেক অভিভাবক এখন তা পছন্দ করেন না। আমাদেরকে যেমন অভিভাবকেরা আদর করে নিয়ে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতো ঠিক উল্টো এখন অভিভাবকেরা দূরে নিয়ে বলে বাবা রাজনীতি কেন কর? অভিভাবকরা কিন্তু সবসময় সন্তানদের পড়াশোনা করার সময় রাজনীতি থেকে দূরে থাকুক সেটাই চায়। তাই কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের কনভিন্স করা খুবই কঠিন। যদি তারা নিজের থেকেই প্রস্তুত না করে রাজনীতি করার জন্য।

বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধান

আমাদের বর্তমান সরকার পাবলিক কনসেপ্টে বিশ্বাস করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই ১৯৪৮ সাল থেকে আন্দোলন শুরু করে ১৯৭১ সালে সারা জাতিকে একত্রিত করতে পেরেছিলেন। সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালি তখন এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল। আপনারা জানেন- অসহযোগ আন্দোলন হলো ঢাকায়, তিনি যেটা বলেছিলেন তাই হয়েছিল। সরকার কিন্তু চলেনি। তিনি পুরো দেশকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছিলেন। তারই ‘লিগেসি অব পলিটিক্স’ শব্দটি আমি ব্যবহার করতে চাই। লিগেসি অব পলিটিক্স জাতির জনকের উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা। তিনি কিন্তু পিপলস পলিটিক্সকে বিশ্বাস করেন। আপনারা দেখেছেন ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের নেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া পেট্রোল বোমার নামে নিজেকে অবরুদ্ধ রেখে যে সহিংস এবং জঙ্গি রাজনৈতিক তৎপরতা দেশে চালিয়েছেন, তখন আমরা কিন্তু আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম যে একটা স্ট্রং মেজারস নিতে। তিনি আমাদের বলেছিলেন- আই শ্যাল শো মাই জিরো টলারেন্স...। তিনি আরো বলেছিলেন- আমি জিরো টলারেন্সের মাধ্যমে বাংলার জনগণকে নিয়ে তা প্রতিহত করবো। তিনি কিন্তু একটা বুলেটও খরচ করতে দেননি। অথচ এটি প্রতিহত করতে গিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনী জীবন দিয়েছেন, বিজিবি জীবন দিয়েছেন, ড্রাইভার জীবন দিয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রী জীবন দিয়েছেন, মা জীবন দিয়েছেন এবং দেশের জনগণ জীবন দিয়েছেন। ফলে বলতে পারি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনগণকে সম্পৃক্ত করে তার জিরো টলারেন্স বিষয়ে সফল হয়েছেন। এটাই হলো জনগণকে সম্পৃক্ত করার রাজনীতি। আর সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এটির প্রশংসা করেছেন।

জনপ্রতিনিধি নির্বাচন না নির্ধারণ

এইবার মহিলা সংসদ সদস্য যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকে কিন্তু মফস্বল, অজপাড়া গাঁ, থানা লেভেল অথবা জেলা লেভেলের আওয়ামী লীগের কর্মী। জননেত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু তাদের মূল্যায়ন করেছেন। সুতরাং এক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে যারা আছেন, তাদেরকেই কিন্তু সম্পৃক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য পার্টিতে মাসেলস ম্যান বা টাকাওয়ালা অনেক কিছু বিবেচিত হয়। আর আওয়ামী লীগে কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধির আত্মত্যাগ, পার্টির প্রতি কমিটমেন্ট ও মানুষের প্রতি তাদের ভালোবাসা এসব দেখেই মনোনয়ন দেয়া হয়।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পেছনের রহস্য

কাউকে কিছু দিতে না পারলেও কারো সাথে কথা না বলে আমার বাড়ি থেকে যেতে দিই না। আমার বাড়ির শোবার ঘরে একজন ফকিরও এসে বসে থাকে। বাড়ির কেউ বাধা দিলে বলে, ‘এই বাধা দেস কেন, ভাইকে কি ভোট দিইনি?’ তাই আমার মা কিছু বলেন না।

সংসদ সম্পর্কে

এবার সংসদে কিছু তরুণ পার্লামেন্টারিয়ান এসেছেন, যারা খুব ভালো। তবে তারা যদি সংসদের লাইব্রেরিটি ব্যবহার করে লেখাপড়া করেন, তবে তারা ভালো পার্লামেন্টারিয়ান হতে পারবেন। আর বর্তমান পেক্ষাপটে আমরা যদি পার্লামেন্ট সঠিকভাবে চালাতে না পারি, তবে আমাদের পক্ষে সরকার পরিচালনা করা কঠিন হবে। সুতরাং আমাদের সংসদকে ভালোভাবে চালাতেই হবে। আর এই অর্থ বছরে আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা থেকে টেকসই উন্নয়নের জন্য যাচ্ছি। আর যদি টেকসই গণতন্ত্র না থাকে তাহলে তা অর্জন করা সম্ভবপর হবে না। সুতরাং এটি মাথায় রেখেই আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর

আমি মনে করি জননেত্রী শেখ হাসিনা কূটনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন। একটা বিষয়ে আমাদের মনে রাখা দরকার যে, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু ও ইন্দ্রিরা গান্ধীর যে চুক্তি করেছিলেন, সেই চুক্তি কিন্তু বঙ্গবন্ধু রেকটিফাইড করতে পেরেছিলেন। অথচ ভারত সরকার তা করেনি বা করতে পারেনি। আর বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তা আর কোনো সরকার করতে পারেনি। তবে সংসদে সাবেক একজন রাষ্ট্রপতি দাবি করেছিল, তিনি চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পারেননি। আর উদ্যোগ নিয়ে থাকলেও সকলেই ব্যর্থ হয়েছেন কিন্তু শেখ হাসিনা ব্যর্থ হননি। এছাড়া শেখ হাসিনা এটা করেছেন কার আমলে? বিজেপির নরেন্দ্র মোদি যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অনেকের ধারণা ছিল যে মোদি সরকারে এলে আওয়ামী লীগের ক্ষতি হবে এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কে টানপোড়েন হবে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার কূটনীতি এত সূক্ষ্ম ও এত ডেমোক্রেটিক যে, মোদি বাংলাদেশে এসে এবং ভারতের মাটিতেও বলেছেন, বঙ্গবন্ধু দেশ সৃষ্টি করেছেন আর শেখ হাসিনা দেশ রক্ষা করেছেন। এটি কেবল শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, যিনি তার রাজনৈতিক কারিশমা দিয়ে ভারতের সাথে এই সম্পর্ক করেছেন। এবং মোদি বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে যে বক্তব্য রেখে গেছেন এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।

মাহে রমজান ও ঈদ নিয়ে ছেলেবেলা ও বড়বেলার গল্প

ঈদের আগে আমাদের পরিবারের একটা ঐতিহ্য ছিল, আমরা আশপাশের গরিব মানুষের সাথে একত্রে যাতে ঈদের স্বাদটি গ্রহণ করতে পারি। আব্বা বেঁচে থাকতে বাইরে যেতে পারতেন না, তবে তার ভাইদের দিয়ে তা করতেন। তবে আমার কাঁধে যখন সংসার চাপলো, তখন দৃশ্যত আমার দু’জন গার্জিয়ান ছিলেন। একজন বর্তমান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের বাবা, উনি আমার আব্বার তৃতীয় ভাই আর আমার একজন ছোট চাচা ছিলেন আব্দুস সামাদ মণ্ডল। উনাদের দু’জনের নির্দেশনায় আমাদের পুরো সংসার চলত এবং পরিবার পরিচালনা করতাম। আমি ঈদের একদিন আগে বাড়ি আসতাম। বাড়ি যাওয়ার আগে ছোট চাচা চিঠি লিখতেন, তুমি আসার সময় এত টাকা সঙ্গে করে নিতে আসবা। চাচা ঠিক ঈদের আগের দিন রাতে এশার নামাজের পর উনি একটা লোককে হারিকেন দিয়ে গরীব আত্মীয় স্বজনদের কাছে উপহার পাঠাতেন। সেই থেকে এখনো আমি ওই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। আর এখন তো পুলিশ-নেতা সকলের সমন্বয়ে জনতাকে কন্ট্রোল করে উপহার দিতে হয়। আর ঈদের আগে এখন দুই থেকে তিন হাজার নারীকে আমার ইফতার করাতে হয়। এটা হচ্ছে আন-ওয়ান্টেড, কাউকে আমরা ডাকি না। তারা নিজ ইচ্ছেতেই আছেন এবং যাওয়ার সময় তাদের নতুন কাপড় উপহার দিই। এসব কিন্তু আমার টাকায় কেনা না। আমি হয়তো কয়েক লাখ টাকার কাপড় কিনি। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে কিছু শাড়ি দেন আর এলাকার কিছু বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয় স্বজন শাড়ি কিনে পাঠিয়ে দেন।

প্রিয়.কম-এর পাঠকদের জন্য বার্তা

আমার মতে, বাংলাদেশের মানুষ খুবই ধৈর্যশীল ও সংবেদনশীল। তাদের খুব বেশি চাওয়া-পাওয়া নেই, অল্পেই তারা সন্তুষ্ট। এছাড়া আমরা কিছু দিতে না পারলেও তারা সন্তুষ্ট। তাই আমাদের সকলের উচিত দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মানুষকে ভালোবাসা।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
নড়াইলকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ ডিসেম্বর
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের গেজেট প্রকাশ
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
সকলের জন্য সমধিকার, ন্যায় বিচার এবং মানবিক মর্যাদা
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
রোকেয়া দিবস: মাগুরায় ৫ জয়িতাকে সম্মাননা
মো. ইমাম জাফর ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
কুষ্টিয়ায় দলিল লেখকদের ওপর হামলা, আহত ২
কাঞ্চন কুমার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
শেষ মুহূর্তে ২০ দলীয় জোটের ৯ আসনে রদবদল
প্রদীপ দাস ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
সংসদ নির্বাচনে লড়বেন বিএনপির ১০ নারী প্রার্থী
সংসদ নির্বাচনে লড়বেন বিএনপির ১০ নারী প্রার্থী
দৈনিক সিলেট - ১ দিন, ২৩ ঘণ্টা আগে
চীনে জাতীয় সাঁতার দল
চীনে জাতীয় সাঁতার দল
ইনকিলাব - ২ দিন, ১২ ঘণ্টা আগে