ছবি সংগৃহীত

ওয়াকফ কি এবং তা করার ইসলামসম্মত বিধান কি?

কোনো সম্পদকে মালিক নিজের মালিকানা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সম্পত্তি ঘোষণা করে আল্লাহর উদ্দেশে জনসেবার জন্য উৎসর্গীকৃত কাজটিকে ওয়াক্ফ বলা হয়। ওয়াক্ফ কোনো সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করার একটি পদ্ধতি।

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৫:৫৫ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ০৬:১৩


ছবি সংগৃহীত
কোনো সম্পদকে মালিক নিজের মালিকানা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সম্পত্তি ঘোষণা করে আল্লাহর উদ্দেশে জনসেবার জন্য উৎসর্গীকৃত কাজটিকে ওয়াক্ফ বলা হয়। ওয়াক্ফ কোনো সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করার একটি পদ্ধতি। এ হস্তান্তর সংঘটিত হয় স্বেচ্ছায় এবং এটি চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়। ওয়াক্ফ সওয়াব লাভের অন্যতম উপায়ও বটে। ইসলামে ওয়াক্ফ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ [সা.] বিভিন্ন হাদিসে মানবতার প্রতি সাহায্য-সহযোহিতা ও দান-খয়রাত করার যে উৎসাহ দিয়েছেন, সেখানে ওয়াক্ফকেও গুরুত্ব দেয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। মুসলিম সমাজে দারিদ্র্যবিমোচনে এটি একটি হাতিয়ার। ইসলাম ধর্মে ওয়াক্ফ কেবল বৈধ রীতিই নয়, বরং একটি প্রশংসনীয় কাজ। ইসলাম সম্পদশালীদের এ কাজে উৎসাহ প্রদান করে। ওয়াক্ফ এমন একটি সওয়াবের কাজ, যা দ্বারা নিজের সহায়-সম্পদকে মানবকল্যাণমূলক কাজে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির কল্যাণে নিয়োজিত করা হয় এবং সেবার এ ধারায় জীবনের পরম লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। ওয়াক্ফ হচ্ছে সমাজসেবা ও জনকল্যাণের এক স্থায়ী ব্যবস্থা। দাতার মৃত্যুর পরও তার সে দান মানবতার কল্যাণে বহাল থাকে। এ ধরনের সওয়াবের কাজ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর তিনটি আমল ছাড়া তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়। আমল তিনটি হচ্ছে সদকায়ে জারিয়া, যে জ্ঞান দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করবে। এসব ভালো কাজের ফলাফলের শেষ নেই এবং তা অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে। আর ওয়াক্ফ হলো তার একটি। দারিদ্র্যবিমোচন ও সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওয়াক্ফের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে প্রচুর ওয়াক্ফ সম্পত্তি রয়েছে। তবে এসবের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে রয়েছে হাজারো অভিযোগ, যা ওয়াক্ফের মূল উদ্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বস্তুত সবার উচিত হলো, ওয়াক্ফের মতো সওয়াবের কাজে সম্পৃক্ত হওয়া। সেই সঙ্গে ওয়াক্ফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। মানুষ মরণশীল। মৃত্যুর পর তার যাবতীয় কাজ শেষ হওয়ার পরও সদকায়ে জারিয়ার কাজ অব্যাহত থাকে। ওয়াক্ফের মাধ্যমে সমাজের মানুষ যেমন উপকৃত হয়, তেমনি তা পরকালীন নাজাতের উত্তম মাধ্যম। তাই নিজের পরকালীন মুক্তি এবং সমাজের সার্বিক উন্নতির জন্য সাধ্য অনুসারে সবার ওয়াক্ফ করা উচিত। মাওলানা মিরাজ রহমান

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
শেখ রহমান বাংলাদেশি | কালের কণ্ঠ
শেখ রহমান বাংলাদেশি | কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ - ২ দিন, ১ ঘণ্টা আগে