ছবি সংগৃহীত

কানাডার সমকালীন কবিতা : অনুবাদ : পারভেজ চৌধুরী

৮০ দশকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি পারভেজ চৌধুরী। তিনি সম্প্রতি সময়ে অনুবাদ সাহিত্যে মন দিয়েছেনে। কানাডিয়ান কবিতার অনুবাদ নিয়েই এখন তিনি ব্যস্ত। নতুন কিছু কানাডিয়ান কবিতার অনুবাদ প্রকাশ করা হলো প্রিয়’র পাঠকদের জন্য।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৫, ১০:০১ আপডেট: ৩০ মে ২০১৮, ০৮:৩৭
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৫, ১০:০১ আপডেট: ৩০ মে ২০১৮, ০৮:৩৭


ছবি সংগৃহীত

গ্রাফিক্স করেছেন আকরাম হোসেন

(প্রিয়.কম) ৮০ দশকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি পারভেজ চৌধুরী। তিনি সম্প্রতি সময়ে অনুবাদ সাহিত্যে মন দিয়েছেনে। কানাডিয়ান কবিতার অনুবাদ নিয়েই এখন তিনি ব্যস্ত। নতুন কিছু কানাডিয়ান কবিতার অনুবাদ প্রকাশ করা হলো প্রিয়’র পাঠকদের জন্য।

শ্বেত-শুভ্র তুষার ■ ব্রুস মেয়ের
যখন তুষারাপাত ঘটে তখন সময় কাটেনা আমার
মনে হয় চারদিকে কেবল নির্জনতা ঝরে পরে
তুষারাবৃত বৃক্ষেরা শীতে নতজানু।
হিমশীতল রুমে, উষ্ঞ মোজায় হাত-পা
সাদা চাঁদরে ঢাকা, শরীরে কাঁপুনী।

তাঁর মাথায় পেঁজা বরফ জমলে
অপরুপ চুলগুলি হয়ে উঠে হিরন্ময় গল্প,
রুপ যেন সময়ের এক লহমা নির্জনতা।
শব্দহীন ফিসফিসিয়ে চোখ কথা বলে অনর্গল।

তুষারাপাতের নির্জনতা নিয়ে রাতে ঘুম ভাঙে
চিরচেনা তাঁর দুটি হাত কিযে নরোম!
উষ্ঞ
এ যেন অন্ধকারের আলো।

প্রথম তুষারাপাত যেন নিরবতার পতন
মোহময় গল্পটা পৃথিবী শুনে।
সময়ের ডানায় ভর করে আসে নভেম্বর
শুরু করে নতুনের আবাহন
বিষন্ন ডালপালায় জেগে উঠে সবুজ পত্রাবলী।
ডিসেম্বরের মায়াবী আকাশ
প্রথম প্রেমের ছোঁয়া
বির্স্তীন শ্বেতশুভ্র তুষারাপাতের মত
তাঁর সহাস্য মুখটা দিব্য দেখি আমার জানালায়।

ব্রুস মেয়ের
কবি ও শিক্ষক। জন্ম: ২৩ এপ্রিল ১৯৫৭, টরেন্টো, কানাডা। ইংরেজী সাহিত্যে পড়াশুনা টরেন্টো ইউনিভার্সিটি। পরবর্তী কালে ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি করেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: দ্যা সিজনস, দ্যা অবসেশন বুক আফ টিমবুকটু, দ্যা এ্যরো অব টাইম সহ আরো বেশ কয়েকটি। রয়েছে গবেষনাকর্ম। পুরস্কার পেয়েছেন একাধিক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাহিত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।


পূণর্বার শুরু ■  রির্চাড গ্রীন

অপেক্ষার পাতায় পৃথিবী বিলীণ হয়ে যায়
আত্মসম্পর্নের দিনগুলি ছোট এবং শীতল হয়ে আসে
শুরু হয় নগ্ন সত্যাবলীর বিষাদময় প্রশংসা
আমারা এসেছি সময়ের পর অতল ভালোবাসায়।
কথার গভীরে অদৃশ্য দৃশ্যমালায় কি দেখা যায়।
জড়ানো চুল, মুহুর্মুহু চুমু
পূণর্বার শুরু, বিবর্ণ হয়ে আসে পৃথিবী
নিঃশ্বাস জমে যায় বরফ জমার মতো।
হৃদয়ের পাতা ঝরে রংহীন উজ্বলতায়
ভাবনাগুলো মিথ্যা হয়ে আসে।
মৃত্যুর বাইরে থেকে ডেকে যায় কল্পনার এপ্রিল
এটাই আলিঙ্গন না করা ভালোবাসার শেষ উপহার ।

রির্চাড গ্রীন
কবি। জন্ম: ১৯৬১ নিউফাউন্ডল্যান্ড, কানাডা। সাহিত্যের বিভিন্ন বই সহ রয়েছে একাধিক কাব্যগ্রন্থ। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

চোখ বন্ধের নেপথ্যে ■ কোলিন কারব্যারী
ঐ কোনে রাখা উঁচু টুলে তোমার বসার স্থান
এ শুধু তোমারই। বিদ্রোহী বাতাসের তোড় চারপাশে
কিছু থাকা এবং না থাকার কেন্দ্রে
নিমগ্নতা মুছে ফেলে দ্রুত পাল্টে যাওয়া।

আমাদের গানের জ্বলজ্বলে শব্দাবলী
জেগে উঠে কিংবা অবজ্ঞা করে।
স্থান করে নেয় বন্ধ করে নেয়
আমাদের সবুজাভ কথামালা।

গতিময় মগ্নতা মেতে উঠে আনন্দ চিৎকারে
দুস্বপ্ন যেন হতাশার ছায়া
স্বৈরাচার সবসময় ফিরে পায় তার প্রাপ্য
মেরামত যোগ্য নয় এই বিক্ষত পৃথিবী।

অন্ধকার থেকে আমাদের জন্যে সেই গান গাও
নিজেকে ভাবো মহান, মানুষ
যেখানে আত্মারা মুক্ত
ধোয়াশার মাঝে,
        হাততালী,
             গান,
যেখানে হৃদয় মুক্ত
সব কিছুতেই আছে সহমত।

কোলিন কারব্যারী
কবি ও অনুবাদক। জন্ম: ওন্টারিও কানাডা। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: দ্যা ক্রসিং, দ্যা গ্রীন টেবিল, সিসফায়ার ইন পুরগাটরি। ম্যাক্সিকোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাহিত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরের মাঝে মাছ ■ আনা ইয়িন
একবার ডেকেই তুমি আমার নামটা ভুলে গিয়েছো
তাতে আাম তোমাকে দোষারোপ করিনা
মাছের নাম ভুলে যাওয়াতে কার কিইবা আসে যায়?

তুমি আমাকে নিয়মিত খেতে দাও
সেই জন্যে ধন্যবাদ। জল যতই শীতল হোক
তাতে কিছুই যায় আসেনা।

যখন তখন আমার মন খারাপ হয়
তবুও আমি বেঁচে আছি
এই ঘরটা আরেকটা পানির ট্যাংক
তোমার তো নেই মাছের মতো ফুলকা।
যখন রাত হয় আমরা দুজনই স্বপ্ন দেখি
আাম তোমাকে সাঁতার কাটা শেখাই
কিভাবে বেঁচে থাকতে হয় নিসঙ্গতায়।

আনা ইয়িন
কবি। জন্ম চীনে। ১৯৯৯ সালে কানাডায় অভিবাসী হন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : উইংগস টোয়ার্ডস সানলাইটস (২০১১)ইসহলিং দ্যা সাইলেন্স (২০১৩) সহ আরো অন্যান্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং ভাষায় কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। পুরস্কার পেয়েছেন একাধিক।