ছবি সংগৃহীত

খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার না হওয়ার নেপথ্যে

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আর সেই দিনই প্রথমে গ্রেপ্তারি পরেয়ানা গুলশান থানায় পৌঁছার কথা বলা হলেও দু’দিন পরে তা অস্বীকার করা হয়। খালেদা জিয়া সহসাই গ্রেপ্তার হচ্ছেন এমন কথা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তব হয়নি। খালেদা জিয়া সহসাই গ্রেপ্তার হচ্ছেন এমন কথা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তব হয়নি। কিন্তু কেন?

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০১৫, ১৯:২২ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৩২
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০১৫, ১৯:২২ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৩২


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আর সেই দিনই প্রথমে গ্রেপ্তারি পরেয়ানা গুলশান থানায় পৌঁছার কথা বলা হলেও দু’দিন পরে তা অস্বীকার করা হয়। খালেদা জিয়া সহসাই গ্রেপ্তার হচ্ছেন এমন কথা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তব হয়নি। রোববার তিনি শেষ পর্যন্ত আদালত থেকে জামিন নিয়ে ৯২ দিন পর নিজ বাসভবন ‘ফিরোজায়’ ফিরলেন। একটি প্রশ্ন এখন তাই ঘুরপাক খাচ্ছে পরোয়ানা জারির পরও কী কারণে খালেদাকে গ্রেপ্তার করা হল না। রোববার খালেদা জিয়া বাড়ি ফেরার পর সরকারের উর্ধতন মহল এবং শীর্ষ পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেই খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের চুড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমতির অপেক্ষা করছিল পুলিশ। আর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। মোতায়েন করা হয়েছিল বিজিবি। পুলিশের কন্ট্রোল রুমে রাতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের। প্রস্তুত ছিল স্ট্রাইকিং ফোর্স। খালেদাকে গ্রেপ্তারের জন্য একজন নারী উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে মহিলা পুলিশ দলও প্রস্তুত ছিল। ২৫ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরই দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তরে বৈঠক হয়। বৈঠকে গ্রেপ্তারের পর সম্ভাব্য কী পরিস্থিতি হতে পারে তা বিববেচনা করে মোকাবেলার প্রস্তুতিও নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের গ্রীণ সিগন্যাল পাওয়া যায়নি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে। তবে প্রস্তুতি বহাল ছিল আরো তিনদিন। একপর্যায়ে পরিকল্পনা হয় গভীর রাতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের প্রথমে একযোগে গ্রেপ্তার করা হবে। তারপর খালেদা জিয়াকে। তবে প্রশ্ন ছিল খালেদা জিয়াকে কী কারাগারে নেয়া হবে, না কোন সাবজেলে রাখা হবে? পুলিশের দায়িত্বশীল দু’জন কর্মকর্তা জানান,‘ তাঁকে যদি গ্রেপ্তারই করা হত আর আদালত যদি জামিন না দিত তাহলে তাঁকে কারাগারেই পাঠান হত। ’ জানাগেছে, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কী প্রতিক্রিয়া হবে এবং তাতে রাজনীতিতে কে কীভাবে লাভবান হবেন তা চুলচেড়া বিশ্লেষণ করা হয়। এনিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ভরযোগ্য কয়েকজন নেতা ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলেন। আর এই আলোচনায় খালেদাকে প্রেপ্তার করার পক্ষে বিপক্ষে দু’ ধরণেরই মতামত পাওয়া যায় তখন। তবে তাতে যে মতামত আসে তা হল খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে তাতে তিনিই লাভবান হবেন। তাই শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদাকে গ্রেপ্তার না করে নানাভাবে চাপ সৃষ্টির কৌশলের পক্ষেই অবস্থান নেন। একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রিয়.কম-কে জানান, খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকেও বিএনপি নেতারা যোগাযোগ করে আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ চান। তবে পরোয়ানা জারির পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি পার হওয়ার পর তাদেরও কৌশল পাল্টে যায়। তাদের মনোভাব এরকম হয় যে, ‘খালেদা জিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে করুক ।’ গোয়েন্দারা সরকারকে মতামত দেন যে, খালেদা জিয়াকে আটক থেকে শুরু করে আদালতে হাজির এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হবে। যা তারা আন্দোলন করে পারেনি, তার চেয়ে বেশি সহানুভূতি পাবে খালেদা গ্রেপ্তার করা হলে। আর কোনভাবেই সংবাদ মাধ্যমের চোখ এড়িয়ে খালেদাকে আটক করে আদালতে নেয়া সম্ভব হবে না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তা লাইভ সম্প্রচার করবে। এজন্য আগে থেকেই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ সম্প্রচার প্রস্তুতি ছিল খালেদার গুলশান কার্যালয়ের ভিতরে। গোয়েন্দাদের মতামত ছিল খালেদাকে গ্রেপ্তার করতে হলে প্রথমে তার গুলশান অফিসের গেটের তালা ভাঙতে হত। কারণ ভেতরে থাকা নেতা-কর্মীরা তালা খুলে দিতনা। খালদার ব্যক্তিগত নিরপত্তা টিমের সদস্যরা খবর সৃষ্টির জন্য অন্যকোন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারত। গেট ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে নেতা-কর্মীদের আটক করে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি যদি ভিতর থেকে তাঁর কক্ষের দরজা আটকে দিতেন তাহলে তা হত আরেকটি সমস্যা । তখন তাঁর কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে তাঁকে আটক করতে হত। আর এই সব খবর এবং দৃশ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে ব্যাপক সমালোচনা হত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর ১ মার্চ খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তল্লাশীর জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করে আদালত। সেই সার্চ ওয়ারেন্ট বলে খালেদার কার্যালয়ে তল্লাশির জন্য পুলিশ প্রস্তুত থাকলেও তাও করা যায়নি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমতি না পাওযায়। কারণ তল্লাশির ঘটনাও সংবাদ মাধ্যম প্রচার হলে খালেদার পক্ষে এক ধরণের সহানুভূতি তৈরি হত। যা হয়েছে কয়েকদিন খালেদার কার্যালয়ে অবস্থানরতদের খাবার সরবরাহে বাধা দেয়ায়। সব দিক বিবেচনা করে পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি এ্যাকশনে না গিয়ে চাপ এবং কৌশলে খালেদাকে দুর্বল করার পথ বেছে নেয় এবং সফল হয়। ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু করা বিএনপি’র অবরোধ হরতাল তিন মাসে বিনপিকে কোন ফল দেয়নি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোন সাফল্য ছাড়াই নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তণ করেন।