ছবি সংগৃহীত

গ্রামীণফোন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থা জানতে চায় টেলিনর

<strong>(প্রিয় টেক)</strong> <a href="http://tech.priyo.com/org/grameenphone">গ্রামীণফোন</a> নিয়ে কালো অন্ধকার দূর হচ্ছে না। থেমে থেমে নানান মহল থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। <a href="http://tech.priyo.com/news/business/2013/06/04/10413.html">১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হওয়া লাইসেন্স ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক</a> এখনও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদনে গ্রামীণ ব্যাংকের নিবন্ধন অবৈধ ও শেয়ার জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে কম্পানিটির <a href="http://tech.priyo.com/news/business/2013/08/27/11560.html">লাইসেন্স স্থগিত করার সুপারিশ ও এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য</a> উদ্বিগ্ন করে তুলেছে টেলিনরকে। গ্রামীণফোনের লাইসেন্স অবৈধ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গত ২৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী বক্তব্য দেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানতে চেয়েছে টেলিনর।

techadmin
লেখক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১১:০৭ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:২৯
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১১:০৭ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:২৯


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয় টেক) গ্রামীণফোন নিয়ে কালো অন্ধকার দূর হচ্ছে না। থেমে থেমে নানান মহল থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হওয়া লাইসেন্স ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদনে গ্রামীণ ব্যাংকের নিবন্ধন অবৈধ ও শেয়ার জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে কম্পানিটির লাইসেন্স স্থগিত করার সুপারিশ ও এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য উদ্বিগ্ন করে তুলেছে টেলিনরকে। গ্রামীণফোনের লাইসেন্স অবৈধ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গত ২৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী বক্তব্য দেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানতে চেয়েছে টেলিনর। 'হেড অব দ্য টেলিনর এশিয়া অপারেশনস'-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সিগভে ব্রেক্কি অর্থমন্ত্রীকে ওই চিঠি পাঠান। গত ২৯ আগস্ট লেখা ওই চিঠির একটি অনুলিপি ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত রাগনে বিরতে লান্ডরের কাছেও পাঠিয়েছে টেলিনর। থ্রিজি নিলামে অংশগ্রহণ করতে অর্থ জমা দেওয়ার দিনই অর্থমন্ত্রীকে এ চিঠি দিয়ে টেলিনর বলেছে, 'আশা করি, গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশের পর গ্রামীণফোন নিয়ে সরকারের অবস্থান অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করবেন। আমরা সরল বিশ্বাসে থ্রিজি নিলামে অংশ নিচ্ছি এবং বিশ্বাস করি আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।' অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে রবার্ট ব্রেক্কি বলেন, 'টেলিনর গ্রুপ ও গ্রামীণফোন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, থ্রিজি নিলামে গ্রামীণফোন অংশগ্রহণ করবে। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণে এই অংশগ্রহণের সুরক্ষা প্রয়োজন। আমরা সরল বিশ্বাসে থ্রিজি নিলামে অংশ নিচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।' 'আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেক বাংলাদেশিকে তথ্যসেবা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে গ্রামীণফোন টেলিযোগাযোগ উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বিনিয়োগে স্বচ্ছতা খুবই জরুরি। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন ব্যবসায়িক পরিবেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আমাদের ধারণা, কমিশন তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে, তবে তা এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ যেমন জানা যায়নি, তেমনি গ্রামীণফোন নিয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট করা দরকার। আমরা আশা করি, কোনো ক্ষতি না করে অর্থমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টির সমাধান করবেন'- বলেছেন ব্রেক্কি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। সম্প্রতি কমিশন অর্থমন্ত্রীর কাছে যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাতেও একই ধরনের সুপারিশ করে বলা হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে গ্রামীণফোন লিমিটেডের ১৬ শতাংশ মালিকানা হয় গ্রামীণ ব্যাংক না হয় গ্রামীণ টেলিকমকে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামীণ ফোনের এই ১৬ শতাংশ শেয়ার দ্রুত নিয়ে তা ২০০২ সাল থেকে কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। কমিশনের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ডিজিটাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন কনসোর্টিয়ামের দরপত্র গ্রহণ করে সরকার মারাত্মক ভুল করেছে। ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর গ্রামীণ টেলিকম, টেলিনর ও গণফোনের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) হয়েছে, তা মানার কোনো বাধ্যবাধকতা যেমন নেই, তেমনি ওই এমওইউর রেজিস্ট্রেশনও হয়নি। 'শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিহীনদের লাভবান হওয়ার কথা বিবেচনা করেই ডিজিটাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনের লাইসেন্স গ্রামীণকে দেওয়া হয়েছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভাতেও তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. ইউনূস ভূমিহীনদের লাভবান হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে লাইসেন্স নেওয়ার পক্ষে উৎসাহীত করেছেন। গ্রামীণ টেলিকমের প্যাডে দরপত্রে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো উল্লেখ আছে, গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ ব্যাংকেরই প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তিতে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও ইউনূস তা করেননি। তিনি স্বাক্ষর করেছেন গ্রামীণফোন কনসোর্টিয়ামের পক্ষে। গত ২৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, গ্রামীণ কমিশনের সুপারিশ বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের প্রথম লক্ষ্য হলো গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করা। আর দ্বিতীয় লক্ষ্য গ্রামীণফোনের অবৈধ লাইসেন্সের সুরাহা করা। গ্রামীণফোন সম্পর্কে মন্ত্রী ওই দিন আরো বলেন, গ্রামীণফোনের লাইসেন্স অবৈধ। লাইসেন্সটা একজন নিয়েছেন, আর ব্যবহার করছেন আরেকজন। কঠোরভাবে আইন অনুসরণ করা হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। এ ছাড়া গ্রামীণফোনের বেশির ভাগ শেয়ার টেলিনরের। তাকে কিভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে? তা ছাড়া গ্রামীণফোন তো গ্রামীণ ব্যাংককে চেনে না, তারা চেনে গ্রামীণ টেলিকমকে। গ্রামীণফোনের সম্পর্ক হচ্ছে ড. ইউনূসের সঙ্গে। গ্রামীণফোনের আরো গভীরে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, গ্রামীণফোন এখন পর্যন্ত দেশে বিনিয়োগ করেছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে এটাই কোনো একক কোম্পানির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। সরকারি কোষাগারে রাজস্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানি গ্রামীণফোন। গত ১৫ বছরে কোম্পানিটি সরকারি কোষাগারে দিয়েছে ৩০ হাজার ৮৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নানা ধরনের কর ও শুল্ক দিয়েছে ১৯ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বিটিআরসিকে বিভিন্ন ফি হিসেবে দিয়েছে ৩ হাজার ৮১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম ফি হিসেবে দিয়েছে ৩ হাজার ২২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বিটিসিএল ও বাংলাদেশ রেলওয়েকে দিয়েছে ২ হাজার ৩০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং গ্রামীণফোন উইথহোল্ডিং কর দিয়েছে আরও ২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...