ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ওয়াসার উপসচিবসহ আটজনকে দুদকের তলব

চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিয়ম না মেনে পদোন্নতি ও জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের স্বার্থে সংস্থাটির উপ-সচিবসহ আটজনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মীর মো. জয়নাল আবেদীন শিবলী চট্টগ্রাম ওয়াসায় এই আট কর্মকর্তালে তলব করে চিঠি প্রেরণ করেছেন।

আমিনুল ইসলাম মিঠু
লেখক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৪, ১৪:৫৯ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:৪০
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৪, ১৪:৫৯ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:৪০


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিয়ম না মেনে পদোন্নতি ও জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের স্বার্থে সংস্থাটির উপ-সচিবসহ আটজনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মীর মো. জয়নাল আবেদীন শিবলী চট্টগ্রাম ওয়াসায় এই আট কর্মকর্তালে তলব করে চিঠি প্রেরণ করেছেন। দুদকের নাম প্রকাশে অনিচ্চুক এক কর্মকর্তা প্রিয়.কম-কে বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে পদোন্নতি ও জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তাদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে তাদের দু’টি পৃথক তারিখে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী বেগম ফারহানা জেবিন, হিসাব সহকারী বেগম আফসানা নুর, রাজস্ব কর্মকর্তা মীর হোসেন এবং লিয়াকত আলীকে আগামী ৯ নভেম্বর তলব করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্টোর কিপার এ কে এম সাইফুদ্দিন চৌধুরী ও পাম্প চালক মঈন উদ্দিনকে আগামী ১০ নভেম্বর তলব করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুদক কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে সংস্থাটির এই আট কর্মকর্তার নথিপত্র তলব করে আনা হয়েছে। এছাড়া বিগত ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, বর্তমান-স্থায়ী ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর সম্বলিত তালিকা এবং অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ডপত্র পৌঁছেছে দুদকে। দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে, উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিয়োগ, পদোন্নতি ও আন্তঃবদলির উৎস থেকে ঘুষ গ্রহণ করেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে তার নিজ উপজেলার অধিবাসীসহ চট্টগ্রাম জেলার লোকজনকে প্রাধান্য দেন। চট্টগ্রাম ওয়াসার বিগত দিনের নিয়োগ কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে তিনি কোটা পদ্ধতি অনুসরণ না করে চট্টগ্রাম ওয়াসার রাউজান উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী ফারহানা জেবিন, স্টোর কিপার সাইফুদ্দিন চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল হাসানকে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়াও ২০১৩ সালের জুলাই মাসের নিয়োগ পরীক্ষায় তার শ্যালক মো. শোয়াইব খানকে চট্টগ্রাম ওয়াসার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়াই রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক পদে নিয়োগের চেষ্টা করেন উপ-সচিব। পরবর্তী সময়ে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলের দৃষ্টিগোচর হলে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয়। শোয়াইব খান বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, ওয়াসার বিক্রয় শাখা এবং রাজস্ব শাখায় বদলির ক্ষেত্রে ঘুষ নিয়ে থাকেন উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এক্ষেত্রে ওয়াসার কয়েকজন অসাধু কর্মচারী তাকে সহায়তা করেন। বিক্রয় শাখার কর্মচারী (সহকারী পাম্প অপারেটর) মো. তারেক উদ্দিনের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন তদবিরের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করেন। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, নিয়ম অনুসারে পাম্প অপারেটর এবং সহকারী পাম্প অপারেটর পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের ওয়াসার পাম্পে কাজ করতে হয়। কিন্তু মো. তারেক উদ্দিন একজন সহকারী পাম্প অপারেটর (এপিও) পদবীর হয়েও বিক্রয় শাখায় কর্মরত আছেন। উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তাকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিক্রয় শাখায় বদলি করে এনেছেন। উপ-সচিবের পক্ষে তারেক উদ্দিন ঘুষ গ্রহণের কাজগুলো করেন। অভিযোগে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব শাখার মিটার পরিদর্শক মো. ফরিদুল আলম প্রথমে মড-১ এ কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উপ-সচিব জাহাঙ্গীরকে ঘুষ দিয়ে বিক্রয় শাখায় বদলি হন। বর্তমানে তিনি উপ-সচিবকে ঘুষ দিয়েই রেভিনিউ শাখায় কর্মরত। জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা অফিসে নিম্নমান সহকারী মো. হাসান প্রথমে অফিস পিয়ন পদে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে উপ-সচিব জাহাঙ্গীরকে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে নিম্নমান সহকারী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসার সহকারী সচিব পদে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি উপ-সচিবের পদে পদোন্নতি পান।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

ভোট শেষে চলছে গণনা

প্রিয় ৫ ঘণ্টা, ৫ মিনিট আগে

loading ...