ছবি সংগৃহীত

চলমান সংকট নিরসনে প্রয়োজন সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত

ড. ইকবাল হোসেন: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ন্যায্য চাওয়া বা দাবি বাস্তবায়নে বাধা স্বরূপ টেনে আনা হচ্ছে এদেশের উচ্চশিক্ষার মান। বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক রেঙ্কিংসমূহে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভাল অবস্থান না থাকার কথা। অন্য আর কোন পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এই আন্তর্জাতিক মানের তুলনা করা হচ্ছে? এদেশের আমলাগণ-ই বা কোন মান বজায় রেখেছেন?

ইকবাল হোসেন
লেখক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৬, ০৯:৪৭
আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:৪৫


ছবি সংগৃহীত
একদিকে সপ্তম পে-স্কেলের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সর্বোচ্চ গ্রেড দুই ধাপ অবনমন করা হয়েছে। অপরদিকে, নতুন করে সৃষ্ট হওয়া বিশেষগ্রেড থেকেও শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ আজ নির্মম বৈষম্যর শিকার। যৌক্তিক, ন্যায্য ও সাংবিধানিক দাবি নিয়েই শিক্ষকগণ রয়েছেন তাদের অবস্থানে। সমাধান রয়েছে সরকারের হাতে। তবে মাঝে আছে আমলাতন্ত্র। যার ভূমিকা আজ সম্পূর্ণভাবেই অনুমেয়। চলমান রয়েছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশল। প্রচারও করা হচ্ছে শিক্ষকদের নানাবিদ অতিরিক্ত সুবিধাভোগী হিসেবে। এক সহকর্মী তুলনা টেনে যথার্থই বলেছিলেন, মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ ‘পেটমোটা’ একোরিয়াম। সুসজ্জিত একোরিয়ামে যেমন নানান রঙয়ের নানান মাছ বসবাস ও বিচরণ করে, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণের মাঝেও নানান লোভনীয় পেশাগত সুবিধা বিদ্যমান। তবে এখানে একটি ভিন্নতাও রয়েছে। যেমন, একোরিয়ামের রঙ্গিন মাছগুলো সাধারণ দৃষ্টিসম্পন্ন প্রায় সকলের চোখেই দৃশ্যমান। আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সুবিধাগুলো কেবল এদেশের একটি ক্যাডার-সার্ভিস কর্মীদের চোখে ধরা পরে। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষকদের সুবিধাগুলো হয়ত তাদের চোখে বিভিন্ন ক্ষতিকর রশ্মিও বিকিরণ করে থাকে। কাজেই, এই অতিরিক্ত সুবিধাভোগের বিষয়টি এদেশের জনগনের কাছেও পরিষ্কার হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অনেকটা ঢালাও আর জোরালোভাবে বলা হয়ে থাকে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করে থাকেন। তারা ‘কনসাল্টেন্সি’ করে থাকেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। শুধু তা-ই নয়, বাস্তবিক অর্থে দেশের সর্বময় ক্ষমতাধারীর কাছেও বিষয়টি কৌশলে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে কখনই এর পরিমাণগত সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না। যা একটি নিম্নমানের কু-কৌশল চর্চাও বটে। জানা দরকার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ও জাতীয় প্রয়োজনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের খণ্ডকালীন শিক্ষকতার বিধান করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিতভাবে এই খণ্ডকালীন শিক্ষকতার পেছনে রয়েছে নীতিমালা। সময় পরিক্রমায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবর্তনও এসেছে অনেক। আজ সেখানে রয়েছে উঁচুমান ও দক্ষতার অনেক নিজস্ব পূর্ণকালীন শিক্ষক। কাজেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য এই খণ্ডকালীন শিক্ষকতার সুযোগ এমনিতেই অনেক কমে এসেছে। আর খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করে থাকেন কেবল কিছুসংখ্যক বিভাগ ও বিষয়ের শিক্ষকগণ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিষয় না থাকাতে আমার নিজেরও খণ্ডকালীন শিক্ষকতার কোনো সুযোগ বা সুবিধা নেই। কাজেই এটা সকল বিভাগ ও বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য সম্ভব নয়। কনসাল্টেন্সিও শিক্ষকদের অনুমোদিত কর্ম পরিধির মধ্যে রয়েছে- যা হতে একদিকে শিক্ষকগণ যেমন একটু স্বচ্ছল হন, তেমনি রাষ্ট্রও পৃথক ট্যাক্স-ভ্যাট এর মাধ্যমে উপকৃত হয়। এদেশের এমন অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানকার শিক্ষকদের জন্য এই খণ্ডকালীন শিক্ষকতা ও কনসাল্টেন্সি একেবারেই অসম্ভব। সামগ্রিকভাবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় শতকরা দুই থেকে ভাগ শিক্ষক এই সীমিত সুবিধা পেয়ে থাকেন। তারা জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে পৃথক ট্যাক্স-ভ্যাট পরিশোধ করে। অতএব, খণ্ডকালীন শিক্ষকতা ও কনসাল্টেন্সি সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কোনো সাধারণ সুযোগ বা সুবিধা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অনুরূপ, উচ্চপদস্থ যোগ্য ও দক্ষ সরকারি নানান কর্মকর্তাগণও কিন্তু এই সুবিধাভোগ করে আসছেন, যা কখনো আলোচনায় আসে না। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পরবর্তী কথিত সুবিধাটি হচ্ছে চাকরির ক্ষেত্রে তাদের অবসরের বয়সসীমা। সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা যেখানে ৫৯ বছর; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ শিক্ষকতার সুযোগ পেয়ে থাকেন ৬৫ বছর পর্যন্ত। এটাতো সরকারি আমলাদের কাছে একেবারেই ক্ষতিকর গামা রশ্মি স্বরূপ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবসরের বয়সের সীমাও আমলাগণ তুলে ধরছেন অনেক ক্ষেত্রে চাতুর্যের সাথে, অসম্পূর্ণভাবে। কখনই প্রকাশ করা হয় না যে এদেশের বিচারপতিদের জন্য অবসরের নির্ধারিত বয়সসীমা ৬৭ বছর আর সামরিক বাহিনীর সৈনিকদের জন্য তা প্রায় ৪০ বছর। সৈনিক, সরকারি অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী, শিক্ষক এবং বিচারপতি সকলেই রাষ্ট্রের কর্মচারী। কিন্তু একেকজনের কর্মের প্রকৃতি একেকরকম। রাষ্ট্র তার ভিন্ন ভিন্ন কর্মচারীগণের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন কাঙ্ক্ষিত কর্ম বা সেবা পেয়ে আসছেন। অবসরের বয়সসীমা নিতান্তই একটি স্পেসিফিক পয়েন্ট এবং এটা প্রধানত নির্ভর করে কাজের প্রকৃতি আর নিয়োজিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার উপর। নানান বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভিন্ন ভিন্ন কর্মচারী-গোষ্ঠীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন অবসর বয়সসীমা নির্ধারিত হয়েছিল এবং তা দীর্ঘ দিন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে প্রচলিত রয়েছে। শিক্ষকদের অবসর বয়সসীমা ৬৫ বছর আজ এদেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। শিক্ষকদের ৬৫ বছর অবসর বয়সসীমা পার্শ্ববর্তী ও দূরের অনেক দেশেও প্রচলিত রয়েছে। সরকারি আমলা বা অন্যান্য ক্যাডার-নন ক্যাডার কর্মচারীগণ যদি মনে করেন, এই ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত এবং তারাও ৬৫ বা ৬৭ বছর পর্যন্ত মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম থেকে রাষ্ট্রকে যথাযথ সেবা বা কর্ম প্রদান করতে পারবেন, তারাও প্রয়োজনে রাষ্ট্রের কাছে দাবি করতে পারেন। এক্ষেত্রে শিক্ষক, বিচারপতি বা অন্যদের ভিন্নমত বা আপত্তি একেবারেই অসমীচীন হবে। আসা যাক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অফিস সময়সীমার দিকে। শিক্ষকদের অফিস সময়সীমা নিয়ে বলা হচ্ছে যে, সরকারি আমলাদের মতো শিক্ষকগণ সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস করেন না। আর এটা শিক্ষকদের আরেকটি সুবিধা। আসলে এই তুলনাটিই প্রমাণ করে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়িত্ব বা কার্যক্রম সম্পর্কে অপপ্রচারকারীগণ সাধারণ ধারণাটিও বহন করেন না। উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব হলো- জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান চর্চা এবং জ্ঞান বিতরণ। সুতরাং শিক্ষকগণ কেবল অফিস আর শ্রেণিকক্ষ অথবা কোনো সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা সর্বদাই একটি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়িত্বপালন সম্পর্কে প্রাসঙ্গিকভাবেই আরো একটি বিষয় এখানে তুলে ধরা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য শীতকালীন ছুটি নামে একটি ছুটির প্রচলন রয়েছে। নিজ চোখে দেখা- আমার বিভাগের কোনো শিক্ষক আদৌ এই ছুটিভোগ করছেন কিনা। এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেননা এই সময়কালে সকলেই নানান গবেষণা ও বিভাগীয় কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ন্যায্য চাওয়া বা দাবি বাস্তবায়নে বাধা স্বরূপ টেনে আনা হচ্ছে এদেশের উচ্চশিক্ষার মান। বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক রেঙ্কিংসমূহে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভাল অবস্থান না থাকার কথা। অন্য আর কোন পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এই আন্তর্জাতিক মানের তুলনা করা হচ্ছে? এদেশের আমলাগণ-ই বা কোন মান বজায় রেখেছেন? সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক’র প্রধান অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। এদেশের অর্থনীতি ও অগ্রগতি বিষয়ক গঠনমূলক নানান কথা বলেছেন। এদেশের ভবিষৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দু'টি বড় চ্যালেঞ্জের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন- যার একটি হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে সমালোচকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, ২০১৫-তে প্রকাশিত ইউনেসকো সাইন্স রিপোর্টটি মনোযোগসহ পড়ার। উচ্চশিক্ষার অগ্রগতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ-ই রয়েছে প্রথমে। আর বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আন্তর্জাতিক যে রেঙ্কিং এর কথা বলা হচ্ছে, তা করা হয়ে থাকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে। যার প্রতিটি-ই সুনিপুণভাবে সম্পর্কিত রয়েছে উচ্চশিক্ষায় মোট বরাদ্ধকৃত অর্থের সঙ্গে। যেমন- পানি ছাড়া চিড়ে ভিজে না, ভালো বীজ ও সার ছাড়া ভালো ফলন মিলে না, জ্বালানি ছাড়া গাড়ি চলে না- ঠিক তেমনি উচ্চশিক্ষাখাতে যথাযথ অর্থ বরাদ্ধ ব্যতীত আন্তর্জাতিক রেঙ্কিং-এ ভালো অবস্থান অর্জন করা সহজেই সম্ভব হয় না। তবে এবিষয়ে ভালো কিছু করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন এদেশের শিক্ষকগণ এবং তা উচ্চশিক্ষাখাতে বিদ্যমান বরাদ্দের পরিপ্রেক্ষিতেই। বলা হচ্ছে সরকারি আমলাদের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। শিক্ষকগণের কোনো পদোন্নতি নেই। সুনির্ধারিত ও সরকারকর্তৃক অনুমোদিত শর্ত/মানদণ্ড যথাযথভাবে পূরণ করে এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ইতিবাচক মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকগণ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে উচ্চতর পদে ওঠে থাকেন। প্রতিটি নিয়োগই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে অনুমোদিত। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সকল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে এক্সটার্নাল মেম্বার হিসেবে রাষ্ট্র/সরকারের প্রতিনিধি থাকেন, যাদের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে যেকোনো অনিয়ম প্রত্যাখান করার। তবে এটা সঠিক যে, পদ্ধতিগত স্বচ্ছতার ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চতর পদে ওঠার প্রক্রিয়াটি অহেতুক খুব বেশি বিলম্বিত হয়ে থাকে না। এটা তাদের ট্রান্সপারেন্ট ও গুড প্রাকটিস এর সুফল মাত্র। বাড়তি কোনো সুবিধা নয়। জানা হলো, পেটমোটা একোরিয়ামের রঙ্গিন মাছের ন্যায় জ্বলজ্বল করা শিক্ষকদের সুবিধাসমূহ। এবার জানা যাক, তলানিতে পরে থাকা নিষ্প্রভ পাথর সদৃশ কিছু সুবিধা, যা কিনা কেবল আমলাদের কবলেই রয়েছে। সরকারি আমলাগণ জাতীয় গ্রেড-৩ ভুক্ত হওয়ার পরপরই ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি কেনার ভাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সুদমুক্তভাবে এককালীন লোন পেয়ে থাকেন ৩০ লক্ষ টাকা। আর তা পরিশোধ করা ও গাড়ির মেইনটেনেন্স বাবদ প্রতি মাসে পেয়ে থাকেন ৪৫ হাজার টাকা করে । উচ্চশিক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনপ্রতি নিয়ে থাকেন আরো প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। আর দেশে এসে সেই উচ্চতর ডিগ্রির বিপরীতে নিয়ে থাকেন ভাতাসমূহ। বিভিন্ন দেশ আর দাতা সংস্থার দেয়া স্কলারশিপগুলো তো প্রায় সবই তাদের হাতে বন্দী। ট্রেনিং এর নাম রয়েছে নানান দেশ ভ্রমণের সুযোগ। অফিসিয়াল পাসপোর্টসহ আরো কতো কী! তবে এগুলো সবই ওই তলানিতে পরে থাকা নিষ্প্রভ পাথর সদৃশ। এসকল বিষয়ে আমাদের বিস্ময় রয়েছে, তবে কোনো অভিযোগ নয়। আজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রধান দাবিসমূহের সবগুলোই মৌলিক- যা যৌক্তিক, ন্যায্য ও সাংবিধানিক। আর এ কারণেই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের অন্যান্য সিনিয়র মন্ত্রীদের রয়েছেন শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন। বেতন বৈষম্য নিরসনে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়নও দিতে পারত অনেক সমস্যার সমাধান। কিন্তু সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে প্রকাশ করা বৈষম্যমূলক গেজেট এদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আজ এক চরম সংকটের দিকে ধাবিত করে চলেছে। যৌক্তিক দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন এতদিন ছিল ধীরগতির। আন্দোলনের এই ধরনের পেছনে কারণ হিসেবে মূলত ছিল দেশ ও এদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা এবং একটি সম্মানজনক সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। তবে এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, দেশ ও শিক্ষার্থীদের মতো নিজ পেশার প্রতিও দায়বদ্ধতা রয়েছে শিক্ষকদের। পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার্থে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সম্মিলিত কর্মবিরতিতে সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাট ডাউনের প্রান্তে। ফলাফলস্বরূপ উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে আবারও ঘনীভূত হয়ে ওঠবে সেশনজট। দীর্ঘায়িত হবে শিক্ষাজীবন, ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থী, পিছিয়ে পড়বে রাষ্ট্র, বিব্রত হবে সমগ্র সরকার এবং ধংস হবে উচ্চশিক্ষায় দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার শিক্ষকদের স্বপ্ন-প্রচেষ্টা। যা হবে আমলাতান্ত্রিক পরিকল্পিত কুটকৌশল এবং সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক-প্রশাসনিক প্রজ্ঞার অব্যবহার- উভয়ের সম্মিলিত ফসল। এহেন পরিস্থিতে সংকট নিরসনের জন্য আমলাতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত সিদ্ধান্ত আদৌ কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। প্রয়োজন সরকারের সুবিবেচনা-প্রসূত নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বেতন বৈষম্য নিরসনে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির ইতিমধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষকদের জন্য সপ্তম স্কেলের অনুরূপ সকল সুবিধা পুনর্বহাল রেখে গ্রেড-১ প্রাপ্ত অধ্যাপকদের মধ্য হতে একটি যৌক্তিক অংশকে শতকরা হিসেবে বিশেষ গ্রেড-২ (সিনি. সচিব বা সমমর্যাদার অন্যান্য) এ উন্নীত করার বিধান করাই হতে পারে সমস্যার এক আপাত সমাধান। তবে স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি। সেই স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো হতে হবে জাতীয় স্কেলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং রাষ্ট্রের জন্য সহনশীল। নানাবিদ কারণে বর্তমানে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় স্বশাসন আইনের আরো দৃঢ়তা সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে উচ্চশিক্ষার স্বার্থে বিদ্যমান আইনের মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থী, সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার নীতি আরো বাড়ানো যেতে পারে। ড. ইকবাল হোসেন: সহকারী অধ্যাপক, কেমিকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
এনসিসি ব্যাংকের অষ্টম ইজিএম অনুষ্ঠিত
এনসিসি ব্যাংকের অষ্টম ইজিএম অনুষ্ঠিত
বণিক বার্তা - ৩ সপ্তাহ আগে
যুব অলিম্পিক হকিতে বাংলাদেশ অষ্টম
যুব অলিম্পিক হকিতে বাংলাদেশ অষ্টম
বাংলা ট্রিবিউন - ২ মাস আগে