ছবি সংগৃহীত

জীবনবোধ বেশি থাকলে অভিনয়টা সাবলীল হয়: নাবিলা

মাসুমা রহমান নাবিলা পরিচিতি পেয়েছেন উপস্থাপিকা হিসেবে। সাবলীল ও দক্ষ উপস্থাপন শৈলীর কারণে দর্শকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়।অমিতাভ রেজা পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে তার। সম্প্রতি প্রিয়.কমের মুখোমুখি হয়েছেন নাবিলা, কথা বলেছেন ছবিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

mithu haldar
লেখক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৩:৪৭ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৮, ২৩:১০


ছবি সংগৃহীত

ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) মাসুমা রহমান নাবিলা পরিচিতি পেয়েছেন উপস্থাপিকা হিসেবে। সাবলীল ও দক্ষ উপস্থাপন শৈলীর কারণে দর্শকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। অমিতাভ রেজা পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে তার। উপস্থাপিকা নাবিলা থেকে ছবিটির ‘হৃদি’ হয়ে উঠেছেন। আর বড় ক্যানভাসেরও প্রথম কোনো কাজ তার। গত বছরই শেষ হয়েছে ছবিটির দৃশ্যধারণ। ৩০ সেপ্টেম্বর সারদেশে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি।

‘শোবিজে তো অনেকেদিন ধরেই কাজ করছি। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। পার্থক্য তো অনেক। সেটা হচ্ছে অনেকগুলো মানুষ একটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত থেকে কাজের পরিকল্পনা করেন। প্রত্যেক বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা দক্ষ লোকজন থাকেন। কিন্তু টিভি পর্দায় তো সে বিষয়টি অনেকখানি ভিন্ন। এ বিষয়টি আমার চোখে দারুণভাবে লেগেছে।’ শোবিজ থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে এ কথা বললেন তিনি।

নাবিলা এর আগে কখনও কোন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। তাই পরিচালক আর সহ-শিল্পীর উপর নির্ভর করেই ‘আয়নাবাজি’ ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। আর তাই পুরো কাজের কৃতিত্বটুকু পরিচালক আর সহ-অভিনেতা ও ছবির কলাকুশলীদের সকলকে দিতে চান।

নাবিলা বললেন, ‘আমি আসলে যতটুকু করেছি সব কৃতিত্বের ভাগীদার আমার পরিচালক এবং আমার সহ-শিল্পীরা। তারা আমার থেকে এ মাধ্যমে আরও অনেক বেশি অভিজ্ঞ। সেখান থেকে তাদের সহায়তা এবং আমার চেষ্টা ছিল কাজটি করার সময়। কোনো চরিত্র চাইলেই তো ১০০ ভাগ তুলে ধরা সম্ভব নয়। কিছুটা তো গ্যাপ থাকেই। আমি ডাবিং করার সময় দেখেছি, কিছু কিছু দৃশ্যের শুটিং যদি আবারও করতে পারতাম। তাহলে আরও ভালো করতে পারতাম।’

প্রথম ছবিতেই একটি চুম্বন দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না নাবিলা। ছবিটির পরিচালক অমিতাভ রেজা তাকে গল্পটি ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার পর জানালেন, একটি দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরীকে চুম্বন করতে হবে। যদি নাবিলা রাজি হন তাহলেই তাকে এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য রাখা হবে। আর নাবিলা তখন হ্যাঁ বা না কিছু বলেননি। তবে বেশ ভয় পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ‘এ দৃশ্যেই সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি!’

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা তো স্বাভাবিক একটা বিষয় না। অভিনয়ের জায়গা থেকে ভিন্ন বিষয়। এই দৃশ্যের কথাটা যদি বলি, আয়নাবাজির কোনো দৃশ্যই আরোপিত না। একটু বিব্রতবোধ করেছি। কেমন লাগবে, কীভাবে করব, করতে পারব কিনা? যদিও দৃশ্যটাতে অভিনয় করার আগে অমিতাভ ভাই আমাকে নিয়ে অনেকটা ভীত ছিলেন। যখন স্পটে যাই এটা নিয়ে আমাকে অনেকবার বোঝানো হয়েছে যাতে আমি কমফোর্ট ফিল করি। আর আমরা যখন শুটিং করছিলাম সবাই বিষয়টি অনেক হাসাহাসি করছিলাম। সবচেয়ে বেশি মজা মনে হয় ওই সিনটা করতে গিয়েই করেছি। আর চঞ্চল ভাইয়ের আনকমফোর্টনেস দেখে আমিও মজা পেয়েছি। আমাদের দেশের কালচার অনুযায়ী এখনও ওই জায়গাটা তৈরি হয়নি যে কমফোর্ট ফিল করবে। যা করেছি কাজের স্বার্থেই করেছি।’

এ ছবিতে হৃদি চরিত্রটি ঠিক কেমন? এমন প্রশ্নে নাবিলার উত্তর, ‘এখানে আমার নাম হৃদি। আর দশজন সাধারণ মেয়ে যেভাবে জীবনযাপন করে সে-ও তাদের মতোই। থাকে পুরান ঢাকায়। ‘আয়নাবাজি’ এমন একটি শহরের গল্প শোনাবে, যে শহরে এখনও সকালে দুধওয়ালা আসে, ফেরিওয়ালারা হাঁকডাক দেয়, বাচ্চারা দল বেঁধে নাটকে অভিনয় শিখতে যায়। মহল্লার চা-পুরির দোকানে ঠাট্টা-মশকরা করে বেকার-বখাটেরা। আয়না (চঞ্চল চৌধুরী) সেই শহরের একজন বাসিন্দা। তার সঙ্গে প্রেম হয়ে যায় হৃদির।’

হৃদি চরিত্রটির জন্য কেমন প্রস্তুতি ছিল? তিনি বলেন, ‘আমি আসলে আলাদাভাবে খুব যে বেশি কিছু করেছি তা কিন্তু নয়। আমি পুরোপুরি পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু আমি যেটা শিখেছি, অভিনয় করার আগে মঞ্চ কিংবা কোনো অভিনয় স্কুল থেকে অভিনয় শিখে আসার বিষয়টি খুব জরুরি। যারা হয়তো হুট করেই অভিনয় করেন তাদের অভিনয়ের মজবুত ভীতটা তৈরি হয় না। আর একটা বিষয় আমি যে কাজটিই করব সেটি অবশ্যই আমাকে বিশ্বাস করতে হবে। সেটাকে আমার মধ্যে ধারণ করতে হবে। ওটা নিয়ে ভাবা, ব্যাস করা। আর বিশ্বাস যদি থাকে তাহলে আমি এমনিতেই ওই চরিত্রটা হয়ে যাব। আমি হৃদি চরিত্রে প্রবেশ করতাম। তখন আমি ভাবতাম এই মুহূর্তে হৃদি আসলে কি করতে পারে। হৃদির মত করেই চিন্তা করতাম। নাবিলার মতো করে নয়।’

তিনি মনে করেন, যার জীবনে জীবনবোধ যত বেশি, জীবনে যে যত বেশি প্রেম, বিরহ দেখেছে, বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অভিনয় করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। দেখা গেল একটা কষ্টের চরিত্রে অভিনয় করতে যাবেন, তখন হয়তো জীবনের সবেচেয়ে বেশি কষ্টটা পেয়েছেন। ভাবখানা এমন থাকবে। নাবিলা জানালেন, ‘জীবনবোধটা যদি একটু বেশি থাকে সেটি অভিনয়ে একটু বেশি হলেও সহায়তা করে।’

এদিকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখায় অংশ নিয়েছে ‘আয়নাবাজি’। এ নিয়ে নাবিলা অনেক উচ্ছ্বসিত। এত বড় একটি আয়োজনে তার অভিনীত ছবি প্রদর্শিত হয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে নাবিলার জন্য ইতিবাচক ব্যাপার। তবে নাবিলা এখন দেশের দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়েই বেশি ভাবছেন। তারা কীভাবে ছবিটিতে গ্রহণ করবেন সেটা দেখার অপেক্ষায় আছেন।

নাবিলা বললেন, ‘বড় পর্দায় কতটা সফল হতে পারব তা নির্ভর করছে দর্শকের ওপর। আমার কাছে পুরোটাই এসএসসি পরীক্ষার আগ মুহূর্তের মতো মনে হচ্ছে। আমি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি, পরীক্ষাও দিয়েছি, এখন রেজাল্ট দেওয়ার সময়ও ঘনিয়ে আসছে। ভাল হলে সবাই প্রশংসা করবে। আর খারাপ হলে বাবা-মা যেমন বকা দেয় ঠিক তেমনটাই ঘটবে। আর দর্শকদের জন্যই তো কাজ করা, আাবার দর্শক যদি খারাপ বলেন, তাহলে কখনও বলব না যে তারা ভুল বলেছেন। নিশ্চয়ই কোথাও খারাপ ছিল।’

কথা প্রসঙ্গে নাবিলার সঙ্গে আয়নাবাজির বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়েই আলাপ হচ্ছিল। তিনি জানালেন, নির্মাতা অমিতাভ রেজা এমন কিছু স্পটে ছবিটির দৃশ্যধারণ করেছেন যেখানে সাধারণত কোনো চলচ্চিত্রের শুটিং সাধারণত হয় না। এর কারণ হিসেবে বললেন, অমিতাভ রেজা যেটি চেষ্টা করেছেন সেটি হলো রিয়েলে লোকেশন এ শুটিং করার, এটা কিন্তু অভিনয়ের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যেখানে জেলখানার সেট তৈরি করে শুটিং করা আর রিয়েল লোকেশনে গিয়ে শুটিং করা কিন্তু ভিন্ন বিষয়ই বটে। ওই ফিলিংটাও কিন্তু আলাদা।’

দর্শক কেন ‘আয়নাবাজি’ দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাবেন? এ বিষয়ে নাবিলা দাবি করেন, ‘বাংলাদেশি সিনেমার দর্শক প্রচুর। বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যমও সিনেমা। দর্শক ভালো চলচ্চিত্র দেখতে চায়। আয়নাবাজির গল্প বেশি চিন্তা করা কিংবা বেশি মুডি কোনো গল্প নয়। সবাইকে বিনোদন দেবে চলচ্চিত্রটি। এক সেকেন্ডর জন্যও আয়নাবাজি বোর করবে না। আর সব ফিল্মেই আসলে কোন না কোন ম্যাসেজ থাকে-আর এখন ম্যাসেজটা কে কিভাবে নিবেন সেটি পুরোটাই দর্শক এর উপর নির্ভর করবে। এ সিনেমাটির ক্ষেত্রেও তাই।’

‘আয়নাবাজি’র গল্পের শুরুটা ‘আয়না’ নামের চঞ্চলকে ঘিরেই। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ, গাউসুল আলম শাওন, হীরা চৌধুরী প্রমুখ। কনটেন্ট ম্যাটার লিমিটেড প্রযোজিত এবং হাফ স্টপ ডাউন লিমিটেড নিবেদিত ‘আয়নাবাজি’র নির্বাহী প্রযোজক এশা ইউসুফ। এর কাহিনী লিখেছেন সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন, চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন অনম বিশ্বাস। সংলাপ লিখেছেন অনম বিশ্বাস ও আদনান আদীব খান। গানগুলো তৈরি করেছেন ফুয়াদ, অর্ণব, হাবিব ও চিরকুট ব্যান্ডের সদস্যরা।

চলচ্চিত্রে নিয়মিত হবেন কী না, এমন প্রসঙ্গে নাবিলা জানালেন, যদি ভালো কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান কিংবা যে কোনো চরিত্র তার পছন্দ হয় কিংবা নাবিলার বিশ্বাস হবে যে চরিত্রটিতে তাকে মানাবে, তাহলেই অভিনয় করবেন। না হলে তার কোনো ইচ্ছে নেই। কিংবা চরিত্রটা গল্পের মধ্যে ভাল ডিমান্ড রাখছে, তাহলে সে চলচ্চিত্রটিতে অবশ্যই অভিনয় করবেন।

Save

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
যুগল ছবি তুলে নেটদুনিয়া উত্তপ্ত করলেন সুহানা
শামীমা সীমা ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সাফল্যের শিখরে থেকেও এই রোগে ভুগছেন শ্রদ্ধা!
শামীমা সীমা ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
কলকাতার ছবিতে গাইলেন কোনাল
মিঠু হালদার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
কবরীর বাসা থেকে ১৭ লাখ টাকার মালামাল ‘চুরি’
মিঠু হালদার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
'চোখ' সাহিত্য সম্মাননা পেলেন সামিয়া রহমান
'চোখ' সাহিত্য সম্মাননা পেলেন সামিয়া রহমান
https://www.banglanews24.com/ - ১ দিন, ১ ঘণ্টা আগে
প্রথম আলো ক্যাফে লাইভের অতিথি সোহেল রহমান
প্রথম আলো ক্যাফে লাইভের অতিথি সোহেল রহমান
https://www.prothomalo.com/ - ১ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
ওমানে হাবিবুর রহমান ও জাহাঙ্গীরকে সংবর্ধনা
ওমানে হাবিবুর রহমান ও জাহাঙ্গীরকে সংবর্ধনা
জাগো নিউজ ২৪ - ৫ দিন, ১৮ ঘণ্টা আগে