ছবি সংগৃহীত

তরুণ সমাজকেই রাস্তায় নেমে আসতে হবে: মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মুহম্মদ জাফর ইকবাল আরও বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার রাজনীতিতে তেমন কোনো আগ্রহ নেই।’

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১৪:৪৯ আপডেট: ৩০ মে ২০১৮, ১১:১২
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১৪:৪৯ আপডেট: ৩০ মে ২০১৮, ১১:১২


ছবি সংগৃহীত
‘তরুণ সমাজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। আজও তরুণ সমাজকেই বাংলাদেশের প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে আসতে হবে।’ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল শনিবার এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সহিংস রাজনীতি ও বাংলাদেশের আগামী অর্থনীতি নিয়ে ‘সহিংস রাজনীতি, সংকটে দেশ: ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার রাজনীতিতে তেমন কোনো আগ্রহ নেই।’ গাইবান্ধার উদাহরণ টেনে এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি যদি এক হয়ে জামায়াতকে বয়কট করতে পারে, তাহলে পুরো দেশে সম্ভব নয় কেন?’ তিনি বলেন, ‘আমার খুব খারাপ লেগেছে যখন ইইউ-এর প্রতিনিধিরা আমাদের স্মৃতিসৌধে সম্মান জানাতে যায়নি। তারা এটার সাহস করেছে, কারণ আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবী তাদের প্রশ্রয় দেয়।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে জাফর ইকবাল বলেন,‘আগে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, তারপর নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করতে সহিংসতা চালানো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যারা ভোটের রাজনীতির দাবি করে আন্দোলন করেন, তারা ভোটার মেরে কী করে সেই আন্দোলন সফল করবেন, আমি বুঝতে পারি না।’ এ সময় আরেফিন সিদ্দিক আরও বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, এই দেশের মালিক জনগণ। এই প্রজাতন্ত্র থাকবে এবং এই প্রজাতন্ত্রের নির্বাচন পাঁচবছর অন্তর অন্তর হতে থাকবে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মতো অবস্থা ১৯৭১ সালেও ছিল। তখন মানুষ দেশের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। এবারও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশ আজ উন্নয়ন-অবনতির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্বাধীনতার ৪২ বছরে দেশ কৃষিসহ নানা খাতে অনেক দূর এগিয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার মতো কলঙ্কময় রাজনীতি দেশকে অনেক দূর পিছিয়ে দিয়েছে।’ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ‘বেলা’র প্রধান নির্বাহী রেজওয়ানা বলেন, ‘আমাদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার সীমিত হয়ে এসেছে। ৩ শতাংশ জনসমর্থন পাওয়া একটা দল অরাজকতা করছে আর ২০০১ এর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া অথবা ২০০৮ এর নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলগুলো তাদের রুখতে পারছে না। এটা কী করে সম্ভব!’ ড. মেজবাহ কামাল বলেন, ‘দেশ আজকে জঙ্গিবাদে আক্রান্ত। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার যে সুযোগ আমরা দিয়েছি আমাদের দেশে, সেটাই কিন্তু জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। কাজেই জঙ্গীবাদ রুখতে হলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা দরকার।’ খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘৭১ এ বাংলাদেশের সবচেয়ে সংহতি ছিল। এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জনগণ এক হয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। তবে কিছু মানুষ ছিল, যারা পাকিস্তানিদের সাহায্য করেছিল। তাদের এখন ৩ শতাংশ জনসমর্থন। তারা ধীরে ধীরে ৭৫ পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী হয়েছে। তাদের আদর্শ বাঙালি দমন, সহিংসতা সৃষ্টি, ধর্মান্ধতা সৃষ্টি।’ এফবিসিসিআইয়ে কর্মরত হেলাল উদ্দিন এক পরিসংখ্যানে জানান, বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে দেশে এখন পর্যন্ত ১২২ জন মারা গেছেন, যার মাঝে ২৪ জন পুড়ে মারা গেছেন। পুলিশ ১৪, বিজিবি ৩ জন মারা গেছেন। ১৬৯৪৭টি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। ২ কোটি মুরগীর বাচ্চা মারা যাচ্ছে খাবারের অভাবে। এই সহিংস পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করার ওপর বক্তারা এসময় নিজ নিজ বক্তব্যে জোর দেন। ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ, সাংবাদিক আবেদ খানসহ আরও বিশিষ্টজনেরা।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...