ছবি সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের সম্মুখীন : এফবিসিসিআই

হরতাল, অবরোধ কর্মসূচির ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের সম্মুখীন জানিয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৩, ১৪:৫৯ আপডেট: ০৫ জুন ২০১৮, ১৪:৫৬
প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৩, ১৪:৫৯ আপডেট: ০৫ জুন ২০১৮, ১৪:৫৬


ছবি সংগৃহীত
হরতাল, অবরোধ কর্মসূচির ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের সম্মুখীন জানিয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। শনিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে প্রথম পর্যায়ে টানা ৪৮ ঘন্টা অবরোধের পর, পরবর্তীতে ১২ ঘন্টা বাড়িয়ে তা শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। শনিবার ভোর হতে আবারও টানা ৭২ ঘন্টা অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছে। এরূপ তাৎক্ষনিক অবরোধ কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজের পাশপাশি পূর্বনির্ধারিত কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যার ফলে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এফবিসিসিআই জানায়, বিগত কয়েকদিন যাবৎ অব্যাহত সহিংসতায় সাধারণ জনজীবনে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। চলমান অবরোধ কর্মসূচির কারণে যাত্রী ও পণ্য সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন বন্ধ থাকায় সময়মতো কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী পরিবহন না হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ফলশ্রতিতে সাধারণ জনগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনটি জানায়, হরতাল ও অবরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ী সমাজ। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যের বিক্রেতা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন ব্যবসায়ী ও হকার ও শ্রমিক শ্রেনীর সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান অবরোধ কর্মসূচিতে চরম সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, গত কয়েকদিনে ২০ জন মৃত্যুবরণ করেছে যাদের বেশির ভাগই পেট্রোল বোমার শিকার। সহস্রাধিক ব্যক্তি এধরনের নৈরাজ্যে আহত হয়েছে। রেল ব্যবস্থার উপর বেশি আক্রমন করা হচ্ছে। রেলওয়ের ফিশপ্লেট তুলে ও ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগ করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে। যত্রতত্র বোমা বিস্ফোরণে শিশু বাচ্চাসহ অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে নিরীহ যাত্রী সাধারণ। বিশেষকরে সম্প্রতি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ন্যাক্কারজনক। এই ধরনের অমানবিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চরমভাবে নিন্দনীয়। এ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দগ্ধ মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছে। এ ক্ষতি কোনভাবেই পূরণযোগ্য নয়। গাজীপুর কোনাবাড়ীতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে দেশ ও জাতির জন্য বিশাল ক্ষতি উল্লেখ করে এফবিসিসিআই জানায়, এ ঘটনার ফলে কারখানাটিতে কর্মরত প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দুর্বৃত্তদের দ্বারা সংগঠিত এ জাতীয় কর্মকাণ্ডের ভার বহন করা ব্যবসায়ীদের পক্ষে কোনভাবে সম্ভব নয় বলেও সংগঠনটি দাবি করে। গতিশীলতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা ও সমাধানের পথ বের করা হোক-এটাই ব্যবসায়ী সমাজ একান্তভাবে কামনা করে এফবিসিসিআই জানায়।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

ভোট শেষে চলছে গণনা

প্রিয় ৪ ঘণ্টা, ৫৬ মিনিট আগে

loading ...