ছবি সংগৃহীত

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের মূলে রাজনৈতিক অস্থিরতা

অনুপযোগী আইন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করছে। এছাড়া আমাদের সম্প্রীতিতে ফাটল ধরানোর জন্য অপশক্তি তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২১:১৮ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:৩৫
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২১:১৮ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:৩৫


ছবি সংগৃহীত
(দৈনিক ইত্তেফাক) অনুপযোগী আইন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করছে। এছাড়া আমাদের সম্প্রীতিতে ফাটল ধরানোর জন্য অপশক্তি তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। তবে এসব অপতত্পরতা সফলতার মুখ দেখেনি। শনিবার সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সম্প্রীতি সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ বিন নাসের আল বুসাইরী, প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব প্রফেসর মাওলানা মো:সালাহউদ্দীন। ড. আব্দুল্লাহ বিন নাসের আল বুসাইরী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে। এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোন ব্যক্তি অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটা ঐ ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে তার ধর্মের উপর বর্তায়। এটা ঠিক নয়। ব্যক্তির অপকর্মের দায় ব্যক্তিকেই নিতে হবে। এছাড়া মতানৈক্য নিয়ে সহিংসতা কোনভাবেই কাম্য নয়। প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে চোখ ধাঁধানো উদ্যানের সাথে তুলনা করি একটি কারণে। সেটা হলো, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসীরা এদেশে হাজার বছর ধরে শান্তিতে, পারস্পরিক সহযোগিতার সূত্রে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। মুসলমানদের কুঁড়েঘর এবং হিন্দুদের ছাপড়া হাজার বছর ধরে সখ্য বজায় রেখে দিনাতিপাত করছে। পদ্মা-যমুনা-মেঘনা বিধৌত অঞ্চলে সাম্প্রদায়িকতার আবর্জনা কোনদিন সঞ্চিত হতে পারেনি। তাই বাংলাদেশকে বিশ্ব জানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে। প্রফেসর মাওলানা মো:সালাহউদ্দীন বলেন, আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশে লালিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কিছু অপপ্রয়াস বর্তমানে চলছে। এজন্য দেশের নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অবদান রাখতে হবে। স্বামী অমেয়ানন্দ বলেন, আমাদের সকল ধর্মের সাধনার উপায়গুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য কিন্তু এক। এক অনন্ত অসীমের দিকেই আমরা সকলে এগিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন নদী যেমন বিভিন্ন স্থানে উত্পন্ন হয়ে এক সাগরেই মিলিত হয়, সে রকম মানসিক অবস্থা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মত ও পথ অনুসরণ করে আমরা সকলে এক পরমের দিকেই এগিয়ে চলেছি। প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, আসুন অঙ্গীকার করি ধর্ম, জাতি, বিশ্বাস, গোত্র, বর্ণ, নৃতাত্ত্বিকতা, ভাষা, লিঙ্গ, জাতীয়তা ও অন্য যে কোন পার্থক্য নির্বিশেষে সকলকে ভালোবাসতে ও সম্মান করতে। আসুন প্রতিশ্রুত হই ধর্মীয় সম্প্রীতি ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে। আমাদের সমাজ ও দেশের সকল শিক্ষা, গঠন, সম্পর্ক, আচরণ ও সেবা হোক আন্তঃধর্মীয় ভাব ও সংলাপ দ্বারা উন্মুক্ত। ড. ফাদার তপন ডি রোজারিও বলেন, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ বিবাদমান গোষ্ঠীকে একসাথে বসে পরস্পরকে শোনার, বোঝার এবং একের সঙ্গে অন্যের স্বপ্ন, আশা, চাহিদা, ভয়, উদ্বেগ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় ভাগাভাগি করে নেয়ার। সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা কারো কাছে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে অথবা সেমিনারের পর সেমিনার করে নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বানিয়ে ফেলেছে বিষয়টা মোটেই তেমন নয়। এই গাঙ্গেয় বদ্বীপের উর্বর ভূমিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষগুলো জীবনের প্রয়োজনে একাত্ম হয়েছে। কালস্রোতে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারে ভিন্নতা আসলেও একাত্মতাবোধ থেকে কখনও বিচ্যুত হয়নি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, ব্যারিস্টার ফাতেমা আনোয়ার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলী, মোবারক আলী আকন, ভাষা সৈনিক শামসুল হুদা প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

ভোট শেষে চলছে গণনা

প্রিয় ৪ ঘণ্টা, ৫৯ মিনিট আগে

loading ...