ছবি সংগৃহীত

নকলের অভিনব প্রযুক্তি

পরীক্ষায় নকলের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতে নতুন কিছু নয়। পরীক্ষার হলে অনেক শিক্ষার্ধীরা সবসময়ই ব্লু-টুথ কিংবা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে নকলের আশ্রয় নিচ্ছে। ব্লুটুথ ডিভাইস ভারতীয় বাজারে খুবই সহজলভ্য। কিন্তু নকল করার জন্য শিক্ষার্থীদের এমন একটি চক্র প্রয়োজন যারা পরীক্ষার সময় তৎক্ষণাত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবে। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এসকল চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০১৫, ০৭:০৬ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০১৫, ০৭:০৬ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) ভারতে ৩ মে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে আবারো পরীক্ষাটি নেয়ার জন্য সেন্ট্রাল বোর্ড ফর সেকেন্ডারি এডুকেশনকে নির্দেশ দেয়া হয়। মোবাইল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নকলের অভিযোগে সোমবার এ আদেশ দেয় আদালত। পরীক্ষায় কিছু শিক্ষার্থী অসুদপায় অবলম্বন করেছে এমন অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে হারিয়ানা পুলিশ দেখে অন্তত ৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেছে, অন্তত ৭২টি মোবাইল থেকে সারাদেশে ৩৫৮টি কল করা হয়েছে। সাতশ পোশাকের মাঝেই এই ডিভাইসগুলো সেলাই করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিলো বলেও জানায় পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে প্রযুক্তির এই ব্যবহারে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে সব রকম চেষ্টা করছে ভারত সরকার। তারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষার পবিত্রতা নষ্ট না করার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষায় নকলের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতে নতুন কিছু নয়। পরীক্ষার হলে অনেক শিক্ষার্ধীরা সবসময়ই ব্লু-টুথ কিংবা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে নকলের আশ্রয় নিচ্ছে। ব্লুটুথ ডিভাইস ভারতীয় বাজারে খুবই সহজলভ্য। কিন্তু নকল করার জন্য শিক্ষার্থীদের এমন একটি চক্র প্রয়োজন যারা পরীক্ষার সময় তৎক্ষণাত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবে। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এসকল চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। গত ডিসেম্বরে হায়দারাবাদে এমনই একটি চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার সময় এই চক্রকে আটক করা হয়। সেসময় রেলওয়ের কর্মচারী মাহেন্দ্র কুমারসহ ৩০ জনের একটি চক্রকে আটক করা হয়। এসময় ইয়ারপিস, ব্লুটুথ ডিভাইস, ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। তদন্ত করে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে কুমারকে প্রশ্ন পাঠাতো এবং কুমার সেই চক্রের মাধ্যমে এর উত্তর জেনে শিক্ষার্থীদের জানানো। নকলের আশ্রয় নেয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সেই চক্রকে ৫ লাখ টাকা করে দিতে হয়। এই চক্রটিতে কিছু বিষয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ রয়েছে বলেও জানা যায়। কারণ তারা খু্ব দ্রুতই প্রশ্নগুলোর উত্তর বলে দিতে পারে। অনেকসময় তারা পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতেও সক্ষম হয়। শিক্ষার্থীরা ডিভাইসগুলো বহনের জন্য অন্যরকম পোশাক পড়ে আসতো। পোশাকে ডিভাইসগুলো সেলাই করে লুকিয়ে রাখা হয়। গত নভেম্বরে মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় হাই-টেক জ্যাকেট পড়া ৩৭ জনকে আটক করেছিলো পুলিশ। এদের মাঝে কেউ কেউ উন্নত প্রযুক্তির চশমা পড়ে এসেছিলেন যেখানে ক্যামেরা লুকানো ছিলো যার মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি সেই নকল করতে সাহায্য করা চক্রের কাছে পৌছাবে এবং পরীক্ষার্থীর কানে থাকা ব্লুটুথ ডিভাইসের মাধ্যমে সেটার উত্তর দেয়া হবে। শিখ পরীক্ষার্থীরা অনেক সময় তাদের পাগড়ির মাঝে নকল লুকিয়ে রাখে। গত মার্চে এক শিখ ধর্মালম্বীর পাগড়ির মাঝে ব্লুটুথ ডিভাইস খুঁজে পায় পুলিশ। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমেই যে শুধু নকল হচ্ছে তা নয়। চিরাচরিত নিয়মেও হচ্ছে নকল। ছোট কাগজ বা চিরকুট নিয়েও পরীক্ষার হলে প্রবেশ করছে পরীক্ষার্থীরা।এদিকে নকল ঠেকাতে ড্রোনের ব্যবহার শুরু করতে যাচ্ছে চীন।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

গরিলার সঙ্গে সেলফি...

প্রিয় ১৮ ঘণ্টা, ২ মিনিট আগে

loading ...