ছবি সংগৃহীত

পরিব্রাজকের চোখে: নীল জল আর সাদা মাটির দেশ সুসং দুর্গাপুর

নামটা বুলেটের মতো কানে গেঁথে গেছে। খুব পরিচিত, খুব কাছের মনে হচ্ছে। কোথায় শুনেছি আগে? হুমায়ুন আহমেদ আর তসলিমা নাসরিনের লেখায় বারংবার উঠে এসেছে 'শম্ভুগঞ্জ ব্রীজ' এর কথা- ব্রীজের নিচের ব্রহ্মপুত্র নদের কথা। এই ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বসে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এঁকেছেন বহু বিখ্যাত ছবি। ময়মনসিংহ শহরেই সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে ১৯৩৩ সালে আঁকা তাঁর বিখ্যাত দুটি চিত্রকর্ম- 'শম্ভুগঞ্জ ঘাট' এবং ' শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ'।

সাঈদ আহসান খালিদ
লেখক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০২:৩৫
আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ০৪:৪৮


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) ময়মনসিংহ শহরের মাসকান্দা বাস স্ট্যান্ডে যখন পৌঁছলাম তখন শেষ বিকেলের আলোটুকু প্রায় নিভে এসেছে। আকাশ ভরে আছে কালো মেঘে, মনে হচ্ছে আবারো ঝুম বৃষ্টি নামবে। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা সমানে হেঁকে চলেছে- 'শম্ভুগঞ্জ', 'শম্ভুগঞ্জ'। সামনেই শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ দেখা যাচ্ছে। নিচে ব্রহ্মপুত্র নদ। শম্ভুগঞ্জ! -নাম টা বুলেটের মতো কানে গেঁথে গেছে। খুব পরিচিত, খুব কাছের মনে হচ্ছে। কোথায় শুনেছি আগে? স্মৃতি রিওয়াইন্ড করলাম। হ্যাঁ, বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যে এই নামটি বহুভাবে এসেছে। হুমায়ুন আহমেদ আর তসলিমা নাসরিনের লেখায় বারংবার উঠে এসেছে 'শম্ভুগঞ্জ ব্রীজ' এর কথা- ব্রীজের নিচের ব্রহ্মপুত্র নদের কথা। এই ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বসে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এঁকেছেন বহু বিখ্যাত ছবি। ময়মনসিংহ শহরেই আছে শিল্পাচার্যের একটি সংগ্রহশালা- সেই সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে ১৯৩৩ সালে আঁকা তাঁর বিখ্যাত দুটি চিত্রকর্ম- 'শম্ভুগঞ্জ ঘাট' এবং ' শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ'।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশাল, ময়মনসিংহ।
শেষ বিকেলের ব্রহ্মপুত্র নদ, ময়মনসিংহ।
শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের পাড় থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করলাম- গন্তব্য নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর উপজেলা। ততক্ষনে সন্ধ্যা জেঁকে বসেছে। ভেজা হাওয়া, ঝিরিঝিরি বৃষ্টির বিষণ্ণ এক সন্ধ্যা- এমন সন্ধ্যা অকারনে মন খারাপ করে দেয়। জীবনের দীর্ঘতম সময় ট্যাক্সি চড়ার অভিজ্ঞতা হল। পাক্কা আড়াই ঘণ্টা! দুর্গাপুর উপজেলার বিসিএস কর্মকর্তা বন্ধু মাহদী হাসান খান আমাকে রিসিভ করে মোটর সাইকেল করে নিয়ে এল তাঁর সরকারী কোয়ার্টারে। দুর্গাপুরে অবস্থানকালীন পুরোটা সময় আমি এই কোয়ার্টারেই ছিলাম। সুসং দুর্গাপুর- নেত্রকোনা জেলার উত্তর প্রান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশের এক আশ্চর্য সুন্দর জনপদের নাম।এই জনপদের বুক চিরে বয়ে গেছে স্বচ্ছ টলটলে নীল জলের অপূর্ব সুন্দর নদী সোমেশ্বরী আর দিগন্ত ছুঁয়েছে অবিন্যস্ত সবুজ পাহাডের সারিতে। জানা যায় সুসং রাজ্যের রাজধানী ছিল দুর্গাপুর। সোমেশ্বর পাঠক নামে এক ধর্মযাজক দুর্গাপুরে সুসং রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে অনুমিত হয়। বাংলাদেশের একমাত্র সাদা রঙের চিনা মাটির পাহাড়ের অবস্থান এই সুসং দুর্গাপুরেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে উঠে এ অঞ্চলের মানুষের নানান সংগ্রাম আর বীরত্বগাঁথা। টংক আন্দোলন, হাজং বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ভারত উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত নেতা কমরেড মনিসিংহ , হাজং মাতা রাশমনি আর কুমুদিনী হাজং এর বীরত্বের স্মৃতি বিজড়িত এই সুসং দুর্গাপুর। পুরো এক সপ্তাহ এই সসং দুর্গাপুরে কাটিয়েছি। এক সপ্তাহের 'ট্র্যাভেলিং' এ অদ্ভূত সুন্দর কিছু মুহূর্ত জীবনের খেরোখাতায় যুক্ত হল। হ্যাঁ, ‘ট্র্যাভেল’, আমি একে 'ট্যুর' বলি না। ট্রাভেলার আর ট্যুরিস্ট এক নয়। বলা হয়- টুরিস্ট যেখানে তাঁর পথচলা শেষ করে- ট্রাভেলারের পথচলা সেখান থেকেই শুরু হয়। ট্যুরিস্টের কাছে বিনোদন আর অবকাশ উদযাপনই মূল কথা। ট্যুরিস্টরা তাদের নির্দিষ্ট ছক, প্ল্যান আর সময়ের ফ্রেমে বন্দী হয়ে একটি সীমাবদ্ধ গণ্ডীতে আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। দম ফেলার সময় নেই- সময়ের ভেতরে সব 'কাভার' করতে হবে। ট্যুরিস্ট উদ্বিগ্ন থাকে হোটেলের মান, চলার যান, খাবারের ঘ্রাণ থেকে টয়লেট টিস্যুর প্রাপ্যতা নিয়েও। এরা ফিটফাট বাবু সেজে স্থান অথবা স্থাপনা’র সামনে পোজ দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকে ভ্রমণের স্মৃতিচিহ্ন (নাকি প্রমাণ) ধরে রাখতে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশে নিমগ্ন দৃষ্টি দৃশ্যটাই ধরে রাখে শুধু; অদৃশ্য ইতিহাস, সংস্কৃতি, মানুষের যাপিত জীবন ওই ক্যামেরায় কখনো ধরা পড়েনা। আর বেড়াতে গিয়ে যারা টুরিস্টদের থেকে দূরে পালিয়ে যান, তারাই ট্রাভেলার! ট্রাভেলার আসলে মুসাফির- ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, সময় আর গন্তব্যের হিসেব ভুলে- অজানাকে জানার আশায়, অচেনা কে চেনার লোভে। তাঁদের চোখ শুধু কিছু স্থাপনা খুঁজেনা, তার পেছনের গল্পটাও দেখতে চায়, জানতে চায় মানুষ, মানুষের জীবন আর অন্দরের খবরও। সুসং দুর্গাপুরের সবকিছু চাইলে একদিনেই দেখা সম্ভব ছিল। কিন্তু দুর্গাপুরকে ট্যুরিস্টর চোখে নয় ট্রাভেলারের চোখে দেখতে চেয়েছি। বিজয়পুরের চিনা মাটির পাহাড়, নীল পানি, রানীখং মিশন, কমলা রানীর দীঘি, বিজিবি ক্যাম্প পাহাড়, হাজং মাতা রাশমনির স্মৃতি সৌধ, সুসং রাজবাড়ি, বিরিশিরি ক্ষুদ্র- নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জাদুঘর, প্রমত্তা সোমেশ্বরী সব দেখেছি, মুগ্ধ হয়েছি কিন্তু তৃপ্ত নয়।আমার মন পড়েছিল এসবের পেছনের ইতিহাসে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চেয়েছি ছোট বড় সেসব গল্প যা জড়িয়ে আছে এসবের মাটি, জল, ঘাস, পলেস্তরা আর শ্যাওলায়। এখানকার আদিবাসীদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা আর জীবন অন্বেষী বন্ধু মাহদী হাসান খান বিরামহীন ভাবে আমাকে বলে গেছে গারো- হাজংদের সংগ্রাম আর দ্রোহের গল্প, কুমুদিনী হাজং এর সাহসের কথকথা, কমরেড মণিসিং এর বীরত্ব পুরাণ। এমন সব স্থানে আমরা গেছি যেখানে ট্যুরিস্ট এর পা পড়েনা। রাত-বিরাতে ঘুরেছি, এক কাপ চা'র স্বাদ নিতে বৃষ্টি মাথায় চলে গেছি আতরাখালি ব্রিজের পাড়ে। চা'র তেষ্টা মেটাতে গিয়ে সেখানে আবিষ্কার করেছি মানুষের শুভবোধের, মানবিকতার এক আশ্চর্য গল্প। অঁজপাড়া সেই গাঁয়ে রাতের অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে এক আলোর বাতিঘর- 'পাবলিক লাইব্রেরী'! নাম -'সুসঙ্গ সাহিত্যকোষ গণ-গ্রন্থাগার’। গাঁয়ের ছেলেরা নিজেদের স্বল্প সামর্থ্যে চাঁদা তুলে এটি চালু করেছে ২০১২ সালে, জ্ঞানের সেই দীপশিখা আজো চালু রেখেছে। জয়তু হে তারুণ্য- যতদিন তোমাদের হাতে দেশ- পথ হারাবেনা বাংলাদেশ!
সুসঙ্গ সাহিত্যকোষ গণ-গ্রন্থাগার। সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।
উল্টো চিত্র ও গ্লানি তৈরি করেছে মনে। দুর্গাপুরের কল্লগড়া নামক একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সদ্য নির্মিত তিন তলা সুরম্য ভবন। ভেবেছিলাম কী চমৎকার স্বাস্থ্য সুবিধাই পাচ্ছে এই দুর্গম জনপদের বঞ্চিত লোকজন। কিন্তু কোথায় কী? কোন ডাক্তার এখানে আসে না, এক ফার্মাসিস্ট ছাড়া বাকি সকলে অনুপস্থিত। দরজা ঠেলে যখন রুগীর কেবিনে ঢুকলাম ধূলায় নাক-মুখ চেপে বেরিয়ে যেতে হল- বিছানা-চাদরে মাকড়শার জাল। কতোদিন এটি ব্যবহার হয় নি কে জানে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে টাঙানো এখানে প্রাপ্য স্বাস্থ্যসুবিধার দীর্ঘ বর্ণনার সাইনবোর্ড টি বড় উপহাস হয়ে ঝুলে আছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি অবকাঠামো আর অর্থের কী নিদারুণ অপচয়! সাতদিনের এই ট্র্যাভেলিং এ সোমেশ্বরীর জল ঠেলে, কাদা-পানি-ভাঙা রাস্তা তুচ্ছ করে আমি আনন্দ নিয়েছি। এই সাত দিনে কতো কিছু দেখলাম, কতো কিছু জানলাম, কতো ধারণা অদল বদল হয়ে গেল, কতো প্রিয়মুখের সাথে সাক্ষাৎ হল, আড্ডা হল, বুক পকেটে নীল জল আর সাদা মাটির অজস্র রঙিন স্মৃতি নিয়ে ফিরে এলাম। সবাইকে তো ফিরে আসতে হয়। কবি জীবনানন্দের ভাষায়-
'সব পাখি ঘরে ফেরে- সব নদী- ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন/ থাকে শুধু অন্ধকার...'

সুসং দুর্গাপুরে যা যা দেখবেনঃ

সোমেশ্বরী নদী দুর্গাপুরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে অসামান্য সুন্দর এ নদী। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় থেকে সৃষ্ট এ নদী মেঘালয়ের বাঘমারা বাজার হয়ে রানিখং পাহাড়ের পাশ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জনশ্রুতি আছে সোমেশ্বর পাঠক নামে এক সিদ্ধপুরুষ এ অঞ্চলের দখল নেওয়ার পর থেকে নদীটি সোমেশ্বরী নাম লাভ করে। ১৯৮৮ সালে পাহাড়ীয়া ঢলে আতরাখালী নামে সোমেশ্বরী নদীর একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। সুসঙ্গ দুর্গাপুর বাজারের উত্তর দিক দিয়ে সোমেশ্বরী নদী থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে আতরাখালী নদীটি।
ছবির মতোই নদী- সোমেশ্বরী। অদূরে মেঘালয়ের গারো পাহাড়শ্রেণী।
সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি। সুসং দুর্গাপুরের সোমেশ্বর পাঠকের বংশধররা এ বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। বাংলা ১৩০৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে জমিদার বাড়িটি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের বংশধররা এটি পুনঃনির্মাণ করেন।
সুসং রাজবাড়ীটির একাংশ এখন উপজেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ ১৯৪৬-৫০ সালে কমরেড মণিসিংহের নেতৃত্বে পরিচালিত টংক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে কিছ দূর এগোলেই চোখে পড়বে এ স্মৃতিসৌধটি। প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর কমরেড মণিসিংহের মৃত্যু দিবসে এখানে তিন দিনব্যাপী মণি মেলা নামে লোকজ মেলা বসে। সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে যেতে হয় রানিখং গ্রামে। এখানে আছে সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী। রানিখং গ্রামের এ ক্যাথলিক গির্জাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১২ সালে।
সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী, রাণীখং।
রাশমণি স্মৃতিসৌধ রানিখং থেকে বিজয়পুর পাহাড়ে যাওয়ার পথে বহেরাতলীতে অবস্থিত রাশমণি স্মৃতিসৌধ। ১৯৪৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সংঘটিত কৃষক ও টংক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের নেত্রী হাজং মাতা রাশমণির স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে রাশমণি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এখানে নির্মাণ করেছে এ স্মৃতিসৌধটি।
হাজংমাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধ
বিজয়পুর পাহাড় রাশমণি স্মৃতিসৌধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বিজয়পুরে আছে বাংলাদেশের একমাত্র চীনা মাটির পাহাড়। এই পাহাড্রের মাটির রঙ সাদা থেকে হালকা গোলাপি। এই মাটি সিরামিকের জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মাটি সংগ্রহের উদ্দ্যেশ্যে পাহাড় খননের ফলে এখানে তৈরি হয়েছে জলাধার। এই জলাধারের পানি একেবারে স্বচ্ছ নীল।
বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড় এবং স্বচ্ছ নীল জলাধার।
বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমী ও জাদুঘর এখানে আদিবাসীদের ভাষা, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি চর্চা ও সংরক্ষণ করা হয়। সারা বছরব্যাপী এখানে বিভিন্ন উপজাতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে। এখানে একটি জাদুঘর আছে যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমী ও জাদুঘর, বিরিশিরি।
বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প পাহাড় এটিও দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুরেই। এই পাহাড়ের চুড়া থেকে প্রমত্তা সোমেশ্বরীর চমৎকার সৌন্দর্য চোখে পড়ে।
বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প পাহাড় যেখানে দিগন্ত মিলেছে সোমেশ্বরী নদীতে।
কমলা রাণী দিঘী দুর্গাপুরের পার্শ্ববর্তী বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই কমলা রাণীর দিঘী। এই কমলা রাণীর দিঘী সাগর দিঘী নামেও পরিচিত। দিঘীটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেলেও এর দক্ষিণ পশ্চিম পাড় এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। এই দিঘী নিয়ে অনেক পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে।
কমলা রানীর দিঘী। দিঘীর কোন চিহ্ন এখন আর নেই কিন্তু এটির কাহিনী এখনো বিস্ময় জাগায়।
সুসং দুর্গাপুর কিভাবে যাবেন ঢাকার মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সরাসরি দুর্গাপুর যাওয়ার বাস ছাড়ে। এ পথে চলাচলকারী দু'একটি বাস সার্ভিস হলো BRTC, সরকার, জিনাত ইত্যাদি। ভাড়া ২৫০-২৮০ টাকা।এছাড়া বাসে ময়মনসিংহ গিয়ে সেখান থেকে টেক্সি বা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও দুর্গাপুর- বিরিশিরি যাওয়া যায়। মহাখালী থেকে ময়মনসিংহের সবচেয়ে ভাল বাসের নাম হল ‘এনা’। ভাড়া ২২০ টাকা। বিরিশিরি হতে বিজয়পুর চীনামাটির পাহাড়, রানীখং মিশন ইত্যাদি দেখতে চাইলে সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে মোটর সাইকেল বা রিকশা ভাড়া নিয়ে যেতে হবে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ দুর্গম।

কোথায় থাকবেনঃ

দুর্গাপুরে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএ-এর রেস্ট হাউস। এখানকার কক্ষ ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা। যোগাযোগ :০১৭১৬২৭৭৬৩৭, ০১৮১৮৬১৩৮৯৬। এ ছাড়া আছে ইয়ুথ ওমেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইডব্লিউসিএ পরিচালিত আরেকটি রেস্ট হাউস। এখানকার কক্ষ ভাড়া ৩০০-৬০০ টাকা। যোগাযোগ :০১৭১১০২৭৯০১, ০১৭১২০৪২৯১৬। এ ছাড়া দুর্গাপুরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। স্বর্ণা গেস্ট হাউস (০১৭২৮৪৩৮৭১২), হোটেল সুসং (০১৯১৪৭৯১২৫৪), হোটেল গুলশান (০১৭১১১৫০৮০৭) ইত্যাদি। এসব হোটেলে ১৫০-৪০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
দুর্গাপুরে উপ-নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী বিজয়ী
দুর্গাপুরে উপ-নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী বিজয়ী
বাংলা ট্রিবিউন - ৪ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে