ছবি সংগৃহীত

বাদল দিনের কদম ফুল

কদম নামটি এসেছে এর সংস্কৃত নাম কদম্ব থেকে। কদম্ব মানে হলো 'যা বিরহীকে দুঃখী করে'! প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। মধ্যযুগের বৈষ্ণবসাহিত্যজুড়ে রয়েছ কদমের সুরভীমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা! ভগবত গীতাতেও রয়েছে কদম ফুলের উল্লেখ। কদমগাছ বৌদ্ধধর্মের একটি পবিত্র গাছ।

nusrat jahan champ
লেখক
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০১৩, ০৫:৫৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:১৬


ছবি সংগৃহীত
বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম ফুল। কদম যেন বর্ষার দূত! এ বছর বর্ষার আভাস এখনো পর্যন্ত তেমন একটা না পেলেও গাছে গাছে স্বর্ণগোলক কদম ফুটে গিয়েছে প্রকৃতির নিয়মে। বর্ষা এবং কদম ফুলের প্রসঙ্গ এলেই যেন এগুলোর সাথে একাকার হয়ে মিশে রবীন্দ্রনাথ! বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অসংখ্য কবিতা, গান, নাটকে স্থান দিয়েছেন বরর্ষাবন্দনা এবং কদম ফুলকে। বর্ষা উত্‍সবের সংগীত মানেই যেন রবীন্দ্রসংগীত! আর বর্ষা উত্‍সবের রবীন্দ্রসংগীত মানেই হলো কদম ফুলের সুরভীমাখা পঙক্তিমালা! কদম ফুলের আরেকটি নাম যে নীপ, তা আমরা সবাই জানি। কদম ফুলের সৌন্দর্যের মতোই এর আরো কিছু চমত্‍কার নাম রয়েছে। বৃত্তপুষ্প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভী, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি, ভৃঙ্গবল্লভ, প্রাবৃষ্য, সিন্ধুপুষ্প - এসবও কিন্তু কদম ফুলের নাম!
কদম নামটি এসেছে এর সংস্কৃত নাম কদম্ব থেকে। কদম্ব মানে হলো 'যা বিরহীকে দুঃখী করে'! প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। মধ্যযুগের বৈষ্ণবসাহিত্যজুড়ে রয়েছ কদমের সুরভীমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা! ভগবত গীতাতেও রয়েছে কদম ফুলের উল্লেখ। কদমগাছ বৌদ্ধধর্মের একটি পবিত্র গাছ। ভারতের পূবাংশে ভগবান কৃষ্ণের সাথে জড়িত কদমগাছ। শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলা থেকে শুরু করে রাধা-কৃষ্ণের বিচ্ছেদ - সবকিছুতেই রয়েছে কদমগাছের উল্লেখ। লোকসাহিত্য ও লোকসংগীতে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই আখ্যান। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্‍ বৃক্ষগুলোর মধ্যে একটি হলো কদম। এর উচ্চতা ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। কদমের বৈজ্ঞানিক নাম Anthocephalus indicus। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে। বিশ্বের নানা দেশে কদমগাছ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন - চীন, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা, কম্বডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি।
কদমগাছের পাতাগুলো লম্বা, উজ্জ্বল সবুজ ও চকচকে। শীতে গাছের পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তের শুরুতে গাছে নতুন পাতা গজায়। কদম ফুল গোলাকার। পুরো ফুলটি আমরা একটি ফুল মনে করলেও এটি আসলে অসংখ্য ফুলের গুচ্ছ। টেনিস বলের মতো দেখতে এই ফুলের ভেতরের ভাগে রয়েছে মাংসল পুষ্পাধার, যাতে হলুদ রঙের ফানেলের মতো পাপড়িগুলো আটকে থাকে। পাপড়ির মাথায় থাকে সাদা রঙের পরাগদণ্ড। হলুদ-সাদা কদম ফুল গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে দেখায় সোনার বলের মতোই! কদমের ফল অনেকটা লেবুর মতো। এতে শাঁস থাকে এবং অত্যন্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীজ থাকে। কদম মূলত আলংকারিক গাছ হিসেবে জনপ্রিয়। ফুলে ভরা কদমগাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য তেমন একটা নেই। কাঠ নরম বলে আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও বাক্সপেটরা তৈরি হয়ে থাকে। গাছের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো কোনো অঞ্চলে কদমফুলের তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
শীতে দ্রুত বুড়িয়ে যায় ত্বক, কিন্তু কেন?
কে এন দেয়া ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
শীতকালে দই খাওয়া কী খারাপ?
কে এন দেয়া ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
কাশতে কাশতে বের হয়ে এলো ‘ফুসফুস’!
কে এন দেয়া ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
শীতের সকালে খুব সহজে গরম গরম নাস্তা
রুমানা বৈশাখী ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট