ছবি সংগৃহীত

ভারতীয় গণমাধ্যমে মাশরাফি বন্দনা

ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ‘মাশরাফি মুর্তজাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট মহল আর দেশজ মিডিয়া যেমন প্রশ্নাতীত আনুগত্যের সঙ্গে দেখে, সে ভাবে রানাতুঙ্গাকেও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দেখে কি না সন্দেহ! বা সৌরভকে ভারত!’

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০১৬, ১২:২৯ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:০৩
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০১৬, ১২:২৯ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:০৩


ছবি সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

(প্রিয়.কম)  অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাচ্ছে একের পর এক সাফল্য। এক মাশরাফির পরশে বদলে গেছে দেশের ক্রিকেটের ইতিহাস। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে নিজেদের আধিপত্যের প্রভাব বিস্তারের ঘোষণা দেন মাশরাফি বাহিনী। এখানে শেষ নয়, বরং ওখান থেকেই শুরু হয় ইতিহাস লেখা। দেশের মাটিতে দেওয়া মাশরাফিদের গর্জনে কাঁপে সারা বিশ্ব। একে একে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়। পরবর্তীতে জিম্বাবুয়েকেও হোয়াইটওয়াশ করা। তার নেতৃত্বে দলের ভারসাম্য চোখে পড়ার মতো।

এদিকে এবারই প্রথমবারের মত এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। তার পরেও অনভ্যস্ত টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশকে নিয়ে বাজিমাত করেছেন মাশরাফি। বুধবার মিরপুরে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে তার অধিনায়কত্বেই।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে এই জয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে যে বিশ্লেষণ করেছেন, তা চোখে পড়ারই মতো। মাশরাফিকে তারা কেমন চোখে দেখছেন, তা ফুটে উঠেছে তাদের বিশ্লেষণে। ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ‘মাশরাফি মুর্তজাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট মহল আর দেশজ মিডিয়া যেমন প্রশ্নাতীত আনুগত্যের সঙ্গে দেখে, সে ভাবে রানাতুঙ্গাকেও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দেখে কি না সন্দেহ! বা সৌরভকে ভারত!’

বিশ্লেষণে আরো বলা হয়, 'মাশরাফি শুধু টিমের অধিনায়কই নন, দলের পিতা। বলা যেতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাইক ব্রিয়ারলি। তার বলের গতি এখন এক শ তিরিশের আশপাশে ঘোরাফেরা করে। ব্যাটেও নিয়মিত প্রচুর রান করে দেন, এমন নয়। তবু মাশরাফিকে বাদ দিয়ে টিম নামানো যায় না। কারণ গোটা দলের রিমোট সব সময় তারই হাতে। তিনি প্লেয়িং আবার এক অর্থে নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেনও। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আজ অবধি কেউ এমন লোকগাথার নায়ক হয়ে উঠতে পারেননি। তাকে ঘিরে অতিমানবীয় রূপকথার প্রলেপে বুধবার আর একপ্রস্ত আবির লাগিয়ে দিলেন মাশরাফি। কার্যত ম্যাচের কঠিনতম সময়ে পরপর দুটো বাউন্ডারি মারলেন বিপক্ষের ভয়ংকরতম মোহাম্মদ আমিরকে।'

ছবিঃ প্রিয়.কম

এছাড়াও বিশ্লেষণের মন্তব্যে বলা হয়, 'শহীদ আফ্রিদির দেশের জন্য যদি আজকের (বুধবারের) রাত কলঙ্কের হয়, বাংলাদেশের জন্য মায়াবী ইতিহাস! একটা টিম যাদের টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিং বিশ্বে দশ নম্বর। যারা পরপর দুটো দেশকে কখনো এই ফরমেটে হারাতে পারেনি। যাদের টি-টোয়েন্টি খেলা মানে সমর্থকেরাও জানে বেশি আশা করে লাভ নেই। তারা কী চমকপ্রদভাবে না এশিয়া কাপের ফাইনালে! বাড়ি পাঠিয়ে দিল মালিঙ্গার শ্রীলঙ্কা আর আফ্রিদির পাকিস্তানকে। পড়ে থাকলেন শুধু রোববারের ধোনিরা।'

আনন্দবাজারের মতে ম্যাচ ঘোরানোর মূল নায়ক তিনিই। পত্রিকাটি এ প্রসঙ্গে লেখে, 'ম্যাচ ঘোরানো শট মাশরাফির। আঠারোতম ওভারে তার শেষ অস্ত্র মোহাম্মদ আমিরকে নিয়ে এসেছিলেন পাক অধিনায়ক। তার তো এই একটাই ঘোড়া। তিনি টপ স্কোরার সৌম্য সরকারকে ফিরিয়েছেন। বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজি তখন অবশ্যই আমিরকে সাবধানে খেলে শেষ দুই ওভারে ঝুঁকি নেওয়া। ১৮ বলে ২৬ করতে হবে। অনেক সুযোগ। ঠিক এই সময় গোটা বাংলাদেশের হৃদয় খানখান করে সাকিব আউট হয়ে গেলেন। তার বোধ হয় সাময়িক ব্রেন ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিল। নইলে জীবিত অথবা মৃত কোনো ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আমিরকে এই সময় স্কুপ করে!'

পাশাপাশি মাশরাফিকে মহাকব্যিক চরিত্রের সাথে তুলনা করে লেখে, 'মাশরাফি ঠিক এই সময় আবির্ভূত হলেন মহাকাব্যিক চরিত্র হিসেবে। পাকিস্তানের সঙ্গে তার বোলিং রেকর্ড খুব সাদামাটা। ৭ ম্যাচে মাত্র ২ উইকেট। কিন্তু আজ তো এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল। আজ বড় ম্যাচ। খুকুদের খেলা নয়। পরপর দুটো বল এরপর অবিস্মরণীয় হয়ে থাকল। একটা আমিরকে ড্রাইভ মারলেন। একটা ফাইন লেগ দিয়ে চালিয়ে দিলেন। দুই বল ৮ রান এবং রূপকথায় সেই তার নতুন অধিষ্ঠান!'