ছবি সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধে শর্ষীনার পীরের ভূমিকা: প্রতিবেদক শওকত মিল্টনকে প্রাণনাশের হুমকি

প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে শওকত মিল্টন <em>প্রিয়.কম</em> কে বলেন, কয়েকদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি শিওর করে বলতে পারবো না কারা এটা করছে। তবে এ প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পরই এ হুমকিগুলো আসছে।

মিজানুর রহমান
লেখক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:২৪ আপডেট: ১৮ জুন ২০১৮, ০৮:২৪


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকের বিতর্কিত ভূমিকা সম্পর্কেই কমবেশি জানেন দেশের মানুষ। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েও বরাবরই লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে গেছেন শর্ষীনার পীর। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুক্তিযুদ্ধকালীন তার কর্মকান্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না থাকলেও তার এলাকার মানুষ এখনো সে সময়ে তার ভূমিকার কথা ভোলেন নি। স্বরুপকাঠির মানুষের কাছে তখন মূর্তিমান এক আতঙ্ক ছিলেন শর্ষীনার পীর আবু জাফর সালেহ। একাত্তরে আবু জাফর সালেহ’র এসব ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি এটিএন বাংলার অতিরিক্ত প্রধান প্রতিবেদক শওকত মিল্টনের দুই পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রচারের পরপরই বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোনে এবং ফেসবুকে প্রাণনাশের হুমকি পান। বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরীও করেন তিনি। প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে শওকত মিল্টন প্রিয়.কম কে বলেন, কয়েকদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি শিওর করে বলতে পারবো না কারা এটা করছে। তবে এ প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পরই এ হুমকিগুলো আসছে। শুনুন শওকত মিল্টনের মতামত ফেসবুকে পাওয়া হুমকির কিছু স্ক্রিনশট
প্রাণনাশের হুমকির প্রেক্ষিতে থানায় করা সাধারণ ডায়েরী
কী ছিলো শওকত মিল্টনের প্রতিবেদনটিতে? প্রিয়.কম’র পাঠকদের জন্য দুই পর্বের এ ধারাবাহিক প্রতিবেদনটির চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। একাত্তরে পেয়ারা বাগান এলাকার মূর্তিমান আতংক ছিলো শর্ষীণার পীর মাওলানা আবু জাফর সালেহ। পাকিস্তানীদের আশীর্বাদপুষ্ট এই পীরের অনূসারীরা পেয়ারা বাগানে আশ্রয় নেয়া সাধারন মানুষের উপর চালিয়েছিলো নির্মম নির্যাতন। মাওলানা আবু জাফর সালেহ ফতোয়া দিয়েছিলেন হিন্দু নারীরা গণীমাতের মাল, তাদের ধর্ষন করা জায়েজ। মুক্তিযুদ্ধের পর গ্রেফতার হলেও আজ পর্যন্ত এই পীর পরিবার একাত্তরের কর্মকান্ডের জন্য ভুল স্বীকার করেননি। এ নিয়ে প্রতিবেদক শওকত লিটনের দুই পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রচারিত হয় এটিএন বাংলায়। তাঁর সে প্রতিবেদনের সংকলন থাকলে প্রিয়.কম পাঠকদের জন্য দেশের অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারনে স্বাধীনতার পদক দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেও মহান এ অর্জণে ভূষিত হয়েছেন এ পীর। [video:https://www.youtube.com/watch?v=zdR-wjLbW2c] জাতীয় গ্রণ্থাগারে সংরক্ষিত বিভিন্ন বই ও দলিলপত্রেও যুদ্ধকালীন সময়ে তার বর্বরতার প্রমাণ মেলে। ১৯৭২ সালের ৫ ই জানুয়ারী দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘গণহত্যার ভিন্ন নায়ক শর্ষীনার পীর গ্রেফতার’ র্শীর্ষক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে একাত্তরের ঘাতক দালালেরা কে কোথায় বইতে বলা হয়, সে সময় শর্ষীনার ৫ শতাধিক তায়েবে এলেম প্রায় ৩০ টি গ্রামে হামলা চালায় এবং বাড়ি ঘর ও বাজার লুট করে কয়েককোটি টাকার সোনা লুট করে যেগুলো পীর সাহেবের কাছে তুলে দেয়া হয়। এই বইতে বলা আছে কিভাবে পীরের নির্দেশে ইন্দেরহাট বাজার জালিয়ে দেয়া হয়, লুটপাট চালানো হয়। তার সহায়তায় আশেপাশের গ্রামগুলোতে তান্ডব চালায় পাক সেনারা। এছাড়া তার আরো নির্যাতনের প্রমান পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের দলিলখন্ডগুলোতে। [video:https://www.youtube.com/watch?v=NtN0NIm1tws] আবু জাফর সালেহ ও তার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের কারনে এ এলাকাটি তখন ‘ক্যানটনমেন্ট’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলো। এখানেই মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষদের ধরে এনে নির্যাতন চালানো হতো। সেসময় অনেক চেষ্টা করেও পীরের দুর্গের পতন ঘটাতে পারেন নি মুক্তিযোদ্ধারা। তবে যুদ্ধের শেষে আত্নসমর্পণ করে কিছুদিন গৃহবন্দী ও জেলে কাটান তিনি। তবে ৭৫ এর ঘটনাবলীর পর ছাড়া পেয়ে যান তিনি। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান সরকার শিক্ষা বিস্তারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ তারে স্বাধীনতা পদক দেয়। শর্ষীনা পীরের সিপাহশালার ঘাতক কুলের অন্যতম মাওলানা মান্নানের তৎপরতায় এ পদক দেয়া হয় বলে প্রচারণা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে এমন ভূমিকা থাকা সত্বেও কিভাবে তিনি এখনো সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন? জিয়ার মৃত্যুর পর স্বৈরশাসক এরশাদ নিয়মিত যাতায়ত শুরু করেন এই পীরের মাজারে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেরও নেতাদের সাথেও রয়েছে তার সখ্যতা। তাই এই পীর সবসময়ই থাকেন ক্ষমতার কাছাকাছি। ৮০ সালে তাকে যখন স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করা হয়, তখন অনেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, এই পীরের স্বাধীনতা পদক বাজেয়াপ্ত করা এখন সময়ের দাবি।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
নড়াইলকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ ডিসেম্বর
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের গেজেট প্রকাশ
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
সকলের জন্য সমধিকার, ন্যায় বিচার এবং মানবিক মর্যাদা
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
রোকেয়া দিবস: মাগুরায় ৫ জয়িতাকে সম্মাননা
মো. ইমাম জাফর ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
কুষ্টিয়ায় দলিল লেখকদের ওপর হামলা, আহত ২
কাঞ্চন কুমার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
শেষ মুহূর্তে ২০ দলীয় জোটের ৯ আসনে রদবদল
প্রদীপ দাস ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
ফের বিরূপ পথে বাংলাদেশের নির্বাচন?
ফের বিরূপ পথে বাংলাদেশের নির্বাচন?
দৈনিক সিলেট - ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
আলোকচিত্রে বাংলাদেশের নৌকা
আলোকচিত্রে বাংলাদেশের নৌকা
সমকাল - ২ দিন, ১০ ঘণ্টা আগে