ছবি সংগৃহীত

রেডক্রস নিজেই এক জলজ্যান্ত দুর্যোগ

আমরা প্রায় সকলেই জানি প্রাকৃতিক দুর্যোগে-খাদ্য, কম্বল থেকে শুরু করে আশ্রয় এসব মোকাবেলায় রেডক্রসের ইতিবাচক ভূমিকার কথা। কিন্তু সম্প্রতি তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে; এমন তথ্য উঠে এসেছে খোদ মার্কিন গণমাধ্যমেই।

Kazi Azim
লেখক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৫, ১১:৩৩ আপডেট: ৩০ মে ২০১৮, ০৮:৩৭
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৫, ১১:৩৩ আপডেট: ৩০ মে ২০১৮, ০৮:৩৭


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) আমরা প্রায় সকলেই জানি প্রাকৃতিক দুর্যোগে-খাদ্য, কম্বল থেকে শুরু করে আশ্রয় এসব মোকাবেলায় রেডক্রসের ইতিবাচক ভূমিকার কথা। কিন্তু সম্প্রতি তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে; এমন তথ্য উঠে এসেছে খোদ মার্কিন গণমাধ্যমেই। নিউউয়র্ক ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম প্রপাব্লিকা এবং ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এন.পি.আর)-এর চালানো অনুসন্ধান বলছে, রেডক্রসের হাইতিতে পরিচালিত এক প্রকল্পের পরিচালনা প্রক্রিয়া যথেষ্ঠ দুর্বল ছিল। এছাড়া প্রকল্পের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের কোন তথ্য নেই এবং তাদের সফলতার দাবিও ত্রুটিপূর্ণ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সম্প্রতি রেডক্রসের কয়েকজন কর্মকর্তা গোপনে বিভিন্ন স্মারক, ই-মেইলের কপি এবং ব্যাংকের অর্থ লেনদেনের কাগজপত্র কয়েকটি গণমাধ্যম বরাবর পাঠিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ডজনখানেক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ তথ্যের সত্যতাও নিশ্চিত করছে অনুসন্ধান রিপোর্ট। ২০১০ সালে এক বিধ্বংসী ভুমিকম্পের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হয় হাইতি। আন্তর্জাতিক বিশ্ব সেই সময়ে হাইতিকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে। লক্ষ লক্ষ মানুষ রেডক্রসকে অর্থ সহায়তা করে যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারে। রেডক্রস প্রায় অর্ধ-বিলিয়ন অর্থ সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়। বাস্তবিক অর্থে যা আসলে অনুদান সংগ্রহের একটি সফল প্রচেষ্টা। আমেরিকান রেডক্রস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল হাইতির পুনর্গঠনে । কিন্তু পাঁচ বছর অতিক্রম হবার পর সেখানে কোন নতুন রাস্তা, স্কুল কিংবা তাদের তৈরি করা বাড়ির তেমন সন্ধান মেলে না। এখনও হাইতির ক্যাম্পসে অঞ্চলের মানুষ চট দিয়ে বানানো কুড়ে ঘরে বাস করে। এমনকি তাদের নেই বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। হাইতির রেডক্রস কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে তারা প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার মানুষের জন্য বাসস্থান সরবারহ করেছে। কিন্তু অনুসন্ধান বলছে, তারা মাত্র ৬ টি স্থায়ী আবাসন গড়ে তুলেছে। এদিকে গণমাধ্যমের নজরে বিষয়টি আসার পর রেডক্রসের সিইও গেইল ম্যাকগোভার্ন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন, সেখানে বলা হয় হয়, ভূমিকম্পের আগে ও পরে প্রায় ২০ বারের বেশি তিনি হাইতি গেছেন। এছাড়া সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, তারা কোন কোন খাতে কী পরিমান অনুদানের অর্থ ব্যয় করেছেন। অধিকাংশ হাইতি নাগরিকের এখন একটাই প্রশ্ন, টাকাটা আসলে কোথায় গিয়েছে? এমন কী সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেন ম্যাক্স বেলেরভি বলেন, ‘আমি অভিজ্ঞ অংকশাস্রবীদ নই, কিন্তু আমি অন্তত যোগ করতে পারি। তবে রেডক্রসের বিষয়টি আমার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়।’ এদিকে রেডক্রসের এমন কর্মকাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। ডেভিড এসটি লুইস নামে রেডক্রসের এক স্বেচ্ছাসেবক মন্তব্য করেছেন, ‘এমন সংবাদ শোনার পর থেকে নিজের কাছেই খারাপ লাগছে। আমি আর রেডক্রসের সাথে কাজ করছি না। এর থেকেও অনেক ভালো সংঘটন রয়েছে। এছাড়া ডাপ্লিচিন নামে একজন মজা করে মন্তব্য করেছেন, তাহলে কি ফিফা নিয়ে গেল সমস্ত টাকা?’