ছবি সংগৃহীত

শর্তসাপেক্ষে ৫ বছর পর বাজেট সহায়তার আশ্বাস: ফিরছে বিশ্বব্যাংক

দীর্ঘ ৫ বছর পর বাজেট সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যেই প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে মোটামুটি সম্মত হয়েছে, তবে টাকার পরিমাণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০১৪, ২০:৩৬ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৮, ১৩:৪০
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০১৪, ২০:৩৬ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৮, ১৩:৪০


ছবি সংগৃহীত
(জনকণ্ঠ) দীর্ঘ ৫ বছর পর বাজেট সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যেই প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে মোটামুটি সম্মত হয়েছে, তবে টাকার পরিমাণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশকে ঋণটি পেতে বিদ্যুত ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সংস্কার আনার শর্ত জুড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রেক্ষিতে আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় বাজেট সহায়তা বিষয়টি তুলে ধরা হবে। শর্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেট সহায়তা বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, এর আগে সরকার বাজেট সহায়তা চায়নি বলে দেয়া হয়নি। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে সেটিও বলা যায় না। যা আলোচনা হয়েছে তা প্রাথমিক। কেননা বাজেট সহায়তা পেতে হলে বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার করতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে চার দফায় ৯০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পায়। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ২০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেয় সংস্থাটি। এরপর কয়েক দফা চেষ্টা করলেও কোন বাজেট সহায়তার অর্থ পায়নি সরকার। তবে সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে গত অর্থবছরে পুরোপুরি বাজেট সহায়তা না হলেও এক ধরনের বাজেট সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি। তা হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৪ বছরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিস সূত্র জানায়, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ সহায়তা দেয়া হয় বাংলাদেশকে। গত অর্থবছরের বাজেট সহায়তা বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খান জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর ও কাবিখাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী বাস্তবায়ন হচ্ছে। এগুলো সব সময় কাক্সিক্ষত অংশের হাতে পৌঁছে না। ফলে যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে এ সব কর্মসূচীর জন্য সরকার অর্থ ব্যয় করে তা পূরণ হয় না। এখানে বিশ্বব্যাংক শর্ত দিয়েছে যে, যদি এ সব কর্মসূচী টার্গেট গ্রুপের কাছে নির্দিষ্ট ইন্ডিকেটর অনুযায়ী পৌঁছে এবং তার মান বছর বছর বৃদ্ধি পায় তাহলে সে তুলনায় অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ জমা হবে সংযুক্ত তহবিলে। এ বিষয়ে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, গত অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যে অর্থ দেয়া হয়েছিল তা পুরোপুরি বাজেট সহায়তা বলা না গেলেও সেটিও এক ধরনের বাজেট সহায়তার মতোই। তাই ওই সহায়তাকে বাজেট সহায়তা বললে একেবারেই ভুল হবে না। সূত্র জানায়, গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়ে প্রস্তাব পাঠায়। কয়েকবার তাগাদার পরও সংস্থাটি দীর্ঘদিন এ বিষয়ে তেমন কোন সাড়া দেয়নি। তবে শেষমেষ অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বাজেট সহায়তা না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিশ্বব্যাংক। বিষয়টি ওই সময় অর্থ বিভাগ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) অবহিত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে কোন বাজেট সহায়তা পাওয়া যায়নি। তার আগের অর্থবছরেও দাতা সংস্থাটি এ খাতে অর্থ সহায়তা করেনি। বিশ্বব্যাংকের বাজেট সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরী জনকণ্ঠকে বলেন, আগে বাজেট সহায়তা না দেয়ার এ কৌশলের কারণে সরকারের অর্থ ব্যবহারের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছিল। প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন করলে ওই টাকা শুধু নির্দিষ্ট ওই প্রকল্পেই ব্যয় করতে হবে। আর বাজেটে সহায়তা দিলে সরকার নিজের প্রয়োজন ও ইচ্ছা অনুযায়ী ঋণের টাকাটা ব্যয় করতে পারে। সূত্র জানায়, বিদ্যুত খাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিমিটেড প্রতিষ্ঠান করা। আর্থিক খাতের ব্যাপক সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা। গ্রোথ খাতগুলোর শ্রম ও কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা প্রদান করা। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে নতুন বাজেট সহায়তা পেতে। এ প্রেক্ষিতে ইআরডির পক্ষ থেকে শর্ত মানা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। এজন্য শর্ত কমিয়ে নতুন করে প্রস্তাব দিতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সব বিষয় ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) মাধ্যমে সহজ শর্তে বাংলাদেশকে ঋণ দিয়ে থাকে। এ ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংককে দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের একটি অন্যতম ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইডিএর মাধ্যমে মোট ১৫০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংস্থাটি বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছে। সৌজন্যে: জনকণ্ঠ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...