ছবি সংগৃহীত

শাটল ট্রেনে নিটোল ‘প্রেম’

কবি শামসুর রহমান তাঁর ‘ট্রেনের দেখা’ পেয়েছেন কিনা জানি না; তবে আমরা পেয়েছি। ট্রেন আবার কোথায় যাবে। শহর থেকে ক্যাম্পাসে, আর ক্যাম্পাস থেকেই শহরে। আর ট্রেনের বাড়ি? সে তো ক্যাম্পাসে।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৫, ১২:৫৫ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩২


ছবি সংগৃহীত
(মংক্যথোয়াই মারমা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ‘ঝকঝকঝক ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে অই। ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে ট্রেনের বাড়ি কই?’ কবি শামসুর রহমান তাঁর ‘ট্রেনের দেখা’ পেয়েছেন কিনা জানি না; তবে আমরা পেয়েছি। ট্রেন আবার কোথায় যাবে। শহর থেকে ক্যাম্পাসে, আর ক্যাম্পাস থেকেই শহরে। আর ট্রেনের বাড়ি? সে তো ক্যাম্পাসে। সেই ঝক ঝক শব্দে সাইরেন বাজিয়ে সাপের মত ছুটে চলছে দিন-রাত।ট্রেনের ভিতর থেকে ভেসে আসছে হাজারো কণ্ঠের সু-মধুর গান। একইসাথে বাজনাও চলছে সমান তালে। যেন এক সঙ্গে গণসঙ্গীত। ট্রেন থেকে শিক্ষার্থীরা যখন বের হয়, তখন দৃশ্যটা একপ্রকার ঢেউয়ের মত মনে হয়। যেন কোন সাগরে কোন ঢেউ হচ্ছে। পাঠক ‘গল্পটা’ বলছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের। ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শাটল ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। এটি শিক্ষার্থীদের একমাত্র বাহনও বটে। প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী দুইটা ট্রেনে দিনে সাতবার করে ক্যাম্পাস থেকে ষোলশহর এবং ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করে থাকে। শাটল ট্রেনের মাধ্যমে প্রতিদিন শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন রাইসা, সানজিদা, মোমেন, আব্বাস এবং মিজান। প্রিয়.কমের সাথে শেয়ার করলেন তাদের ট্রেনে ওঠার অভিজ্ঞতাগুলো। ‘জানালার পাশে সিটটা এক প্রকার ‘ভিআইপি’ সিটের মতো। কেননা জানালার পাশে বসে প্রকৃতি উপভোগ এবং হাওয়া খাওয়া দুটোই করা যায়। তাই ওই সিটটার জন্য সবার আগে ট্রেনে ছুটে আসি’ বললেন রাইসা। সানজিদা আবার ট্রেনের মধ্যে গান গাইতে ভালোবাসেন। যদিও তার কখনো কোন জায়গায় গান গাওয়া হয়না, তবে ট্রেনের মধ্যে উঠলেই তার গলা থেকে আপনা-আপনিই গানগুলো বের হয়ে যায়। ‘আমি তখন হয়ে যাই বাংলাদেশি আইডলের চেয়েও বড় কিছু’ সানজিদার উক্তি। মোমেন আর মিজানের ঝোঁক কিন্তু অন্যদিকে। তারা ট্রেনে চড়লেই সিটগুলোকে বানিয়ে ফেলেন তবলা কিংবা ড্রাম। ইচ্ছেমতোই সেগুলো বাঁজাতে বাঁজাতে কখন যে ক্যাম্পাসে বা শহরে পৌঁছে তাদের সে খেয়াল নেই। আর গলা ছেঁড়ে গান গাওয়া তো আছেই। ‘আসলেই গান গেয়ে গেয়ে কখন যে শহরে পৌঁছে যাই সেদিকে আমাদের নজর নেই’- বললেন দুজনে। আব্বাসের অবস্থাটা কিন্তু ‘ডেডলাইনে’ নিউজ জমা দেয়ার মতো। ট্রেন যখন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সিগন্যাল দেবে, তখনই ট্রেনের পিছনে পিছনে দৌঁড়ে ট্রেন ধরাটা অনেকদিনের স্বভাব। আব্বাসের ভাষ্য, ‘আমার একাজ করতে খুব ভালো লাগে, যেন শেষ ট্রেনটাই ধরছি’। এতগুলো সুখের কথার মধ্যেও দুঃখের কথা যে নেই তা নয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর বগিভিত্তিক রাজনীতির কারণে অনেক সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। আবার অনেক সময় গাদাগাদি করে বসতে হয় বলে অন্যরকম তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। যাই হোক, ‘শাটল ট্রেনের মধ্যে কষ্টের দিক থাকলেও আনন্দের ঝোলাটাই বেশি। কারণ শাটল ট্রেনে এসে কেউ মনের সুখে গান করেনি এমন লোক আপাতত নেই’ অভিমত সমীরণ মারমা’র। যিনি কিছুদিন আগে মাস্টার্স পাশ করে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। ভালোবাসার ‘আধার’ শাটল ট্রেন। যার প্রেমে পড়েনি এমন কাউকে ক্যাম্পাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি যারা ইতোমধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন তাদেরও খোঁজ পাওয়া দুষ্কর। এই ট্রেনেই বন্ধুত্ব, আড্ডা, ভালোবাসা; এতো এক ‘নিটোল’ প্রেমের… রুপরেখা।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
নড়াইলকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ ডিসেম্বর
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের গেজেট প্রকাশ
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
সকলের জন্য সমধিকার, ন্যায় বিচার এবং মানবিক মর্যাদা
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
রোকেয়া দিবস: মাগুরায় ৫ জয়িতাকে সম্মাননা
মো. ইমাম জাফর ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
কুষ্টিয়ায় দলিল লেখকদের ওপর হামলা, আহত ২
কাঞ্চন কুমার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
শেষ মুহূর্তে ২০ দলীয় জোটের ৯ আসনে রদবদল
প্রদীপ দাস ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট