ছবি সংগৃহীত

শুধু এ দেশেই না বিদেশেও আমার ডিজাইন প্রদর্শন করতে চাই: নাজমী জান্নাত

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফ্যাশন সচেতনতা বাড়াতে আমাদের দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেক্টরগুলো বেশ ভালোভাবেই তাল মেলানোর চেষ্টা করছেন। তেমনি একজন ফ্যাশন আইকন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার কস্টিউম ডিজাইনার নাজমী জান্নাত।

সুমাইয়া মারিয়া বিনতে শহীদ
লেখক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৬, ০৮:১৫ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ০৭:৩৯


ছবি সংগৃহীত

ছবি: নাঈম প্রিন্স
(প্রিয়.কম) একটি সিনেমা যতই চাক চিক্য করে নির্মাণ করা হোক না কেন, তাতে অভিনয় অভিনীত মানুষগুলোর কস্টিউম যদি আশারুপ আকর্ষিত না হয় তো দর্শক জনপ্রিয়তা পাওয়া টা সত্যি একটু হলে পিছিয়ে যায়। বিভিন্ন সময়ের দেশি বিদেশি অনেক চলচ্চিত্র আমাদের মনে গেঁথে আছে তার পোশাক পরিচ্ছদের ভূমিকার জন্য। যে কোন চরিত্র জীবন্ত ফুটিয়ে তুলতে পারে কস্টিউম ডিজাইনাররা। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফ্যাশন সচেতনতা বাড়াতে আমাদের দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেক্টরগুলো বেশ ভালোভাবেই তাল মেলানোর চেষ্টা করছেন। তেমনি একজন তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনার নাজমী জান্নাত।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মাণ শুরু হয়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটি। এ ছবির কস্টিউম ডিজাইনারের দায়িত্বেও আছেন নাজমী জান্নাত। শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিগ্রি নেওয়া এই ফ্যাশন ডিজাইনার বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে কাজ করার আগে তিনি কাজ করেছেন ‘সাত রঙের ভালোবাসা’ সিনেমায়। তার ফ্যাশন সম্পর্কে কিছু কথা, ধারণা এবং স্বপ্ন নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রিয় ডট কমের সাথে।

প্রিয়.কম: কেমন আছেন? দিনকাল কেমন যাচ্ছে?

নাজমী জান্নাত: কিছুটা ব্যস্ত হলেও খুব ভালো দিনকাল যাচ্ছে।

fhtghjপ্রিয়.কম: কোথা থেকে শপিং করেন?

নাজমী জান্নাত: কেনাকাটা নির্ভর করে যেখানে যেই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত পোশাক পাওয়া যায়, সেখান থেকেই করি। নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে বসুন্ধরা এবং যমুনাসহ বিভিন্ন মার্কেটে। আর যেগুলো পারিনা সে গুলো তো নিজেই ডিজাইন করে বানাই।

ghthপ্রিয়.কম:  কোন বিশেষ রঙের পোশাকের প্রতি কি কোন দুর্বলতা আছে?

নাজমী জান্নাত: ব্যক্তিগত ভাবে আমি নীল রঙ পছন্দ করি, রয়েল ব্লু দেখলেই চোখ আটকে যায়।

প্রিয়.কম: পোশাকে কোন ব্র্যান্ডের ব্যবহার বেশি করেন আপনি?

নাজমী জান্নাত: ব্র্যান্ড বলতে যেকোনো ব্র্যান্ড ব্যবহার করি। উল্লেখ করার মতন কিছু নেই।

fghhপ্রিয়.কম: আপনার ফ্যাশন আইকন কে?
নাজমী জান্নাত: ফ্যাশন আইকন কোকো চ্যানেল এবং বিবি রাসেল।

প্রিয়.কম: মডেলিং করা হয়েছে কখনও? 

নাজমী জান্নাত: মডেলিং ওভাবে কখনো করিনি। কিন্তু ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার দেয়ার জন্য কিছু ডিএসএলআর দিয়ে ছবি তোলা আছে, যাকে এক অর্থে ফটোশুট বলা যায়। (তারপর কিছুটা হেসেই বললেন) কিন্তু মডেলিং অফার রোজই আসে। আর যেহেতু আমি কিছুটা মিডিয়ার সাথে জড়িত তাই মিডিয়ার সব ধরনের কাজ একটু বেশিই হয়।

dgrgপ্রিয়.কম: চলচ্চিত্রে অভিনয় ইচ্ছা?

নাজমী জান্নাত: অনেক বেশি বেশি কাজের অফার পেতেই থাকি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয়েরও। কিন্তু আমার খুব একটা ইচ্ছা নেই, কারণ মিডিয়ায় মডেল তো অনেক আছে। আমি দেশের এমন একজন হতে চাই, যা আগে এদেশে কেউ হয়নি। আমি ফ্যাশন আইকন হতে চাই।

fhghপ্রিয়.কম: দেশের ফ্যাশনের কি অবস্থা?

নাজমী জান্নাত: দেশের ফ্যাশনের অবস্থা অন্য দেশগুলো থেকে পিছিয়ে থাকলেও এখন আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো ডিজাইনাররাও আসছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। আমি আশা করি আমাদের ফ্যাশন ট্রেন্ড ইতিমধ্যে বদলাতে শুরু হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে আরো হবে। যেমন রাস্তায় বের হলেই কিন্তু দেখা যায় আগের থেকে মানুষ এখন অনেক বেশি ফ্যাশন সচেতন।

প্রিয়.কম: ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির কস্টিউম সম্পর্কে কিছু বলুন।

নাজমী জান্নাত: ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের কস্টিউমের ব্যাপারে এতটুকুই বলতে পারি, এই ছবিতে আমরা সব চরিত্রের এমন কিছু লুক আনার চেষ্টা করছি যেটা মানুষ আগে দেখেনি। অনেক পরিবর্তন আছে কিছু চরিত্রে আর এটাও মোটামুটি চ্যালেঞ্জিং। আর সবাই জানে, এই সিনেমাটিও একটু অন্য রকম।

fhrtuপ্রিয়.কম: ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

নাজমী জান্নাত: ভবিষ্যতে নিজেকে সবার মনে ‘নাজমী- ফ্যাশন আইকন’ হিসেবে দেখতে চাই। [কিছুটা হেসে বললেন] নাহ। মজা করলাম। আমি আসলে নিজেকে আন্তর্জাতিক জায়গায় দেখতে চাই। শুধু এই দেশেই না বিদেশেও আমার ডিজাইন প্রদর্শন করতে চাই। আমাকে অনেকেই বলে, আপনার জীবনে যে রাস্তা আপনি নির্ধারণ করেছেন, এটা অনেক কঠিন এবং অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ক্যামেরার পিছন থেকে নিজেকে চেনানো অনেক বড় ব্যাপার এবং অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে যে, চ্যালেঞ্জ ই তো দরকার। এই চ্যালেঞ্জ করে যখন আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো, তখন আমার জায়গাটার মূল্য তেমনই হবে। সবাই মডেল হয়ে গেলেই বাকি প্রোফেশনগুলোর কি হবে? তাই আমি ফ্যাশন ডিজাইনার এবং স্টাইলিস্ট হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই।

fghhপ্রিয়.কম: মিডিয়ায় কত বছর কাজ করছেন? কিছু অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

নাজমী জান্নাত: খুব বেশি সময় হয়নি আমি মিডিয়াতে এসেছি। তাই এই ব্যাপারে এখন এতো কিছু বলতে চাইছি না। তবে আমার মতে, ফ্যাশন হচ্ছে এমন একটি বিষয়, যা নদীর স্রোতের মতো বাঁকে বাঁকে রূপ বদলাতে বদলাতে এগিয়ে যায়। ফ্যাশন কখনো স্থির নয়। তবে এক্ষেত্রে একজন কস্টিউম ডিজাইনারের অভিজ্ঞতা হলো- তাকে সব সময় নতুনত্ব নিয়ে ভাবতে হয়। নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারলেই তার আনন্দ। খোলামেলাভাবে বলতে গেলে আমাদের দেশে আমরা খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে কস্টিউম ডিজাইনিং নিয়ে রীতিমত গবেষণা চলে। চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলো আরো জীবন্ত হয়ে ওঠে একজন কস্টিউম ডিজাইনারের ছোঁয়াতে। পশ্চিমা ছবিগুলোতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অন্তর্বাসের ধরনও ঠিক করে দেন একজন কস্টিউম ডিজাইনার। আপনারা বলিউডের পিকে সিনেমায় দেখছেন আমির খান চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে কোন কোন পোশাক পরেছেন। তিনি কিন্তু ইচ্ছামতো পরেননি, একজন কস্টিউম ডিজাইনার তার জন্য ওইসব পোশাক বাছাই করেছেন বলেই তিনি তা পরেছেন। চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে যদি কস্টিউম না করা হয়, তবে চলচ্চিত্র বা নাটক যা-ই হোক না, ফ্লপ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। চরিত্রগুলো যদি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয় তাহলে আসল মেসেজটাই পৌঁছাবে না দর্শকদের কাছে। তাই আমি মনে করি একটি চলচ্চিত্রকে সফল করতে হলে যুগোপযোগী কস্টিউম ডিজাইনিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। কস্টিউম ডিজাইনিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আর একটি বড় কারণ এই বিষয়টি।

hপ্রিয়.কম: আপনার নিজের ফ্যাশন হাউজ নিয়ে কি ভাবনা চিন্তা?

নাজমী জান্নাত: নিজেকে এমন এক উচ্চতায় দেখতে চাই, যেখানে সবাই আমার কাজকে ভালবাসবে। তবে আমি এটাও জানি এজন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। সহকারী ডিজাইনার আর বন্ধু কাজি আসিফুর রহমানকে সাথে নিয়ে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘নাজমী’ কে মূলধারার ফ্যাশন হাউজ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আরেকটি বিষয়ে বলতে চাই, আমার হিজরাদের নিয়ে কাজ করার খুব ইচ্ছে আছে। কারণ সমাজে ওদের কোন জায়গা নেই। আমি যদি কখনও আমার হাউজ তৈরি করি, তাহলে সেখানে হিজরাদের রাখতে চাই।

fgfgপ্রিয়.কম: নতুন ফ্যাশন ডিজাইনারদের জন্য উপদেশ?

নাজমী জান্নাত: ছোট্ট একটা কথা বলব শুধু, নিজের স্বপ্নকে বেঁধে রাখবার কোন প্রয়োজন নেই। চিন্তাগুলোকে ডানা মেলতে দেয়াটা জরুরি আর তার চেয়েও বেশি জরুরি সেগুলোকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা। চেষ্টা করে যেতে হবে, কখনো হাল ছাড়লে হবে না আর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সময় ফ্যাশন জগত সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রাখলে এটা পরে বেশ কাজে দিবে।   

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট