ছবি সংগৃহীত

সবুজের ফাঁকে ফাঁকে নান্দনিক স্থাপত্য

প্রকৃতি অবলোকন কিংবা সৌন্দর্যের পূজা উভয়টির জন্য তীর্থস্থান বলা যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে। অর্জুন, বোতলব্রাশ, কৃষ্ণচূড়া, কদম, চম্পা ফুলরা স্মৃতির রাজ্যে ডুব দেবার অন্যতম পাথেয় হতে পারে অবলীলায়। অকপটে স্থান করে নিতে পারে শিল্পীর ক্যানভাসে।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০১৫, ১৪:২২ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৩০
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০১৫, ১৪:২২ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৩০


ছবি সংগৃহীত
(হাসান আদিল, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি. প্রিয়.কম) একদিকে সবুজের সমারোহ অন্যদিকে কনক্রিটের স্থাপত্য। এখানকার বিভিন্ন ভবনে চলে গবেষণা, বাইরে আছে আড্ডার আস্তানা। বিভিন্ন অনুষদ আর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে স্থাপত্যশৈলির অন্যতম নিদর্শনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়েছে সৃজনশীল জ্ঞানের এক কারখানা। ujghbn সদ্য মাস্টার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী ফারুক আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। বলেলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে হতো ল্যাবে। রসায়নের রসকষহীন ল্যাব শেষ করে যখন সবুজ প্রকৃতির কোল বেয়ে চলতাম তখন দূর হয়ে যেতো সকল ক্লান্তি। ক্যাম্পাসের আকর্ষণটাই বাড়িয়ে দিয়েছে সবুজ প্রকৃতি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; যেখানে সবুজেরই ফাঁকে ফাঁকে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নান্দনিক ভবন ও স্থাপত্যগুলো। তৈরি হয়েছে ভালোবাসার এক সীমাহিন সম্পর্ক। ujhgf বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৯১ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে পথচলা শুরু করে। বর্তমানে রয়েছে ৬টি অনুষদ অধিভুক্ত ২৫টি বিভাগ। সব মিলিয়ে রয়েছে প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষা-গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টি অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রের চাহিদাও মিটিয়ে যাচ্ছে। প্রবেশ পথেই ‘এক কিলোমিটার’ যেনো সবুজের মাঝে সুড়ঙ্গ পথ। যার দু’ধারে আবার রয়েছে লেক। লেকের পাড় ঘেঁষে নির্মিত অপরূপ সৌন্দের্য্যের এক মসজিদ, আর ইনিস্টিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনলোজি ভবন যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা । dred গোলচত্ত্বর থেকেই শুরু অর্জুন-দেবদারু গাছের সারি। এরই মাঝখানে নির্মিত হয়েছে কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগার ভবন। যা দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলির অন্যতম নিদর্শন। কয়েক কদম সামনে এগুলেই অর্জুন গাছে ঘেরা ‘অর্জুনতলা’। যাকে বলা যায় এককথায় ‘ক্যাম্পাসের প্রাণ’। যেখানে বছরে ছয়টি ঋতুতেই নাট্য সংগঠন, আবৃত্তি সংগঠন, পরিবেশ বিষয়ক, চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে লেগে থাকে নানান মনোমুগ্ধকর আয়োজন। আরেকটু সামনে এগুলেই মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য চেতনা ৭১। যাকে ঘিরে রেখেছে কদম, কৃষ্ণচূড়া, কড়ই গাছ। jmhng চারিদিকে ছোট ছোট টিলা। নানান বাহারি গাছ-গাছালি ভেদ করে বয়ে যাওয়া ইট বিছানো রাস্তায় হেঁটে ৯৭টি সিড়ি টপকে পৌঁছাতে হয় শহীদ মিনারে। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এটি সমগ্র বাংলাদেশে নির্মিত শহীদ মিনারগুলোর মধ্যে অন্যতম। চারপাশে সবুজে ঘেরা মাঝখানাটিতে শহীদ মিনার যেনো ছোট্ট কুঠির। এছাড়া প্রতিটি একাডেমিক ভবন, আবাসিক হলগুলো, কেন্দ্রিয় মিলনায়তন, কেন্দ্রিয় মসজিদ নির্মিত হয়েছে সবুজের বুক চিরে। তাই এগুলোকে দেখে যে কেউ বলতে বাধ্য হবেন, স্থাপত্যগুলো যদি হয় দেহ তবে সবুজ প্রকৃতি তার চাদর। nmb এমবিএ শিক্ষার্থী জোবায়ের সায়েমের কথায় ক্যাম্পাসের রূপ প্রতিটি ঋতুতে নানা বৈচিত্র্যের পসরা সাজিয়ে বসে। লাভ করে নতুনত্ব। যেনো এক নৈঃসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতি অবলোকন কিংবা সৌন্দর্যের পূজা উভয়টির জন্য তীর্থস্থান বলা যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে। অর্জুন, বোতলব্রাশ, কৃষ্ণচূড়া, কদম, চম্পা ফুলরা স্মৃতির রাজ্যে ডুব দেবার অন্যতম পাথেয় হতে পারে অবলীলায়। অকপটে স্থান করে নিতে পারে শিল্পীর ক্যানভাসে। u

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...