ছবি সংগৃহীত

সাইবার ক্রাইমের জন্য মার্কিং যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্ষতির পরিমান ২০.৭ বিলিয়ন ডলার

সর্বশেষ ১২ মাসে সাইবার অপরাধের কারনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্ষতির পরিমান ২০.৭ বিলিয়ন ডলার। সিকিউরিটি কোম্পানী সিম্যান্টেক সম্প্রতি তাদের প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়। প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, ২০১১ এর জুলাই থেকে ২০১২ এর জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি দশ লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে

oritro.ahmed
লেখক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১৩:৩৬
আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩৮


ছবি সংগৃহীত
সর্বশেষ ১২ মাসে সাইবার অপরাধের কারনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্ষতির পরিমান ২০.৭ বিলিয়ন ডলার। সিকিউরিটি কোম্পানী সিম্যান্টেক সম্প্রতি তাদের প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়। প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, ২০১১ এর জুলাই থেকে ২০১২ এর জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি দশ লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সাইবার অপরাধের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তাদের প্রত্যেকের গড় ক্ষতির পরিমান প্রায় ২৯০ ডলার। অপরদিকে সারা বিশ্বে ফিশিং এবং ম্যালওয়্যার এর কারনে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার এর ক্ষতি হয়েছে, যার কারনে মাথাপিছু ক্ষতির পরিমান প্রায় ১৯৭ ডলার। যা যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীদের ফাষ্টফুডের পেছনে বাৎসরিক খরচের সমান। এই অর্থের ৪২ ভাগই যাচ্ছে ফ্রড কেস এ। প্রতিবেদন থেকে জানা যায় সারা বিশ্বের প্রায় ৫৫ কোটি ৬০ লক্ষ প্রাপ্তবয়ক্স কম্পিউটার ব্যবহার কারী প্রত্যক্ষ ভাবে এর শিকার হয়েছেন, সংখ্যাটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সব গুলো দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। সাইবার ক্রাইমের শিকার হওয়া এই সকল প্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যাটা মোট অনলাইন ইন্টারনেট এর প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শতকরা ৪৬ ভাগ, যা গতবছরের চেয়ে প্রায় ১ ভাগ বেশি। তাদের রিপোর্টে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যবহারকারী সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন, প্রতি সেকেন্ড প্রায় ১৮ জন। তারা মূলত ম্যালওয়্যার, হ্যাকিং, স্ক্যাম, ফ্রড বা ধোঁকাবাজী এবং চুরীর শিকার হচ্ছেন। তবে এই লিষ্টে মার্কিন যুক্ররাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। ৪৬ বিলিয়ন ডলার এর ক্ষতি নিয়ে চীন প্রথম, এরপর যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২১ বিলিয়ন ডলার, পুরো ইউরোপ জুড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার, ভারত এবং ব্রাজিল ৮ বিলিয়ন ডলার, অষ্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো এবং রাশিয়া ২ বিলিয়ন ডলার এবং একটু অবাক করেই জাপান ০.২ বিলিয়ন ডলার এর ক্ষতির শিকার হয়েছে। সিম্যান্টেক এর রিসার্চে আরো দেখা যায় যে, শতকরা ৩৩ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ জুলাই-২০১২ জুলাই, এই এক বছরে মোবাইল এর জন্য ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার এর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ৩৩% মোবাইল ব্যবহারকারী জীবনে অন্তত একবার এমন কোন টেক্সট ম্যাসেজ পেয়েছেন যেখানে তাকে খুব চমৎকার একটা কিছুর লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে যেটা আসলে ক্ষতিকর। মোট মোবাইল থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৩৫% ভাগ জীবনে একবার তাদের ডিভাইস হারিয়েছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশ মোবাইল এর জন্য কোন ধরনের সিকিউরিটি সলিউশান ব্যবহার করেন না। মজার ব্যাপার হল, মোট ব্যবহারকারীর ৪৪% এর কোন ধারনাই নেই যে মোবাইল এর জন্যও সিকিউরিটি সলিউশান আছে। সাইবার অপরাধের কারনে এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পেছনে ওয়াই-ফাই এর একটা ব্যাপক ভূমিকা আছে। প্রায় ৪৪% প্রাপ্তবয়স্ক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এমন একটা ওয়াইফাই কানেকশান ব্যবহার করেন যেটা নিরাপদ না অথবা ফ্রী তে ব্যবহার করা যায়। মোট ওয়াইফাই ব্যবহারকারীর মাত্র ৫৩% তাদের ওয়াইফাই কানেকশন এর নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন। ৬৭% প্রাপ্তবয়স্ক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনিরাপদ ওয়াইফাই এর মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত ইমেইল চেক করেন। ৬৩% তাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট, ৩১% অনলাইন শপিং, এবং ২৪% তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এ এই অনিরাপদ কানেকশন ব্যবহার করে প্রবেশ করে থাকেন। সাম্প্রতিক কালে সাইবার ক্রাইম এর রুপ বদলে গেছে, আজকাল তাদের মূল লক্ষ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গুলো। প্রতি দশজনে চারজন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী সাইবার ক্রাইম এর শিকার হয়েছে। প্রতি ছয়জনে একজন রিপোর্ট করেছেন যে তাদের প্রোফাইল হ্যাক হয়েছে অথবা তাদের পরিচয়ে ফেক আইডি খোলা হয়েছে। প্রতি পাঁচজনে একজন কোন লিঙ্ক শেয়ার করার আগে সেটা চেক করে দেখেন না। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের অর্ধেকের ও কম এমন কোন সিকিউরিটি সলিউশান ব্যবহার করেন যা তাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট কে রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং মাত্র অর্ধেক তাদের ব্যাক্তিগত তথ্যে প্রয়োজনীয় প্রাইভেসী সেটিংস দিয়েছে। সাইবার ক্রাইম এর শিকার হওয়ার হার রাশিয়াতে সর্বাধিক। প্রায় ৯৭% রাশিয়ার নাগরিক সাইবার ক্রাইম এর শিকার। দুই নম্বরে আছে চীন, তাদের দেশের প্রায় ৮৪ ভাগ নাগরিক সাইবার ক্রাইম এর শিকার। তিন নম্বরে ৮০% এর মতো বড় সংখ্যা নিয়ে আছে দক্ষিন আফ্রিকা। তবে সাইবার ক্রাইম এর শিকায় পুরুষরা বেশি হয়। সে তুলনায় নারীদের সংখ্যা কম।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
Second Canadian being probed for harming state security: China
Second Canadian being probed for harming state security: China
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস - ২ দিন, ১৩ ঘণ্টা আগে
Ensure security of candidates: BNP writes to EC
Ensure security of candidates: BNP writes to EC
ডেইলি স্টার - ২ দিন, ১৫ ঘণ্টা আগে
Bangladesh blocks 58 news portals on security grounds
Bangladesh blocks 58 news portals on security grounds
নিউ এইজ - ৫ দিন, ১৬ ঘণ্টা আগে
Madrid under tight security for 'high risk' Libertadores final
Madrid under tight security for 'high risk' Libertadores final
ডেইলি স্টার - ১ week, ১ দিন আগে
JSD to scrap Digital Security Act if voted to power
JSD to scrap Digital Security Act if voted to power
ডেইলি স্টার - ১ week, ২ দিন আগে
President Obrador's security plan disappoints civil society in Mexico
President Obrador's security plan disappoints civil society in Mexico
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস - ১ week, ২ দিন আগে
UK says no-deal Brexit would jeopardise security ties with EU
UK says no-deal Brexit would jeopardise security ties with EU
ডেইলি স্টার - ২ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
PhD student Mony remanded
PhD student Mony remanded
ডেইলি স্টার - ২ সপ্তাহ, ৬ দিন আগে