সারা গ্রামকে সবুজ করে তুললো দুই বন্ধু

হেক্সিয়া ও উইঙ্কি নামের দুই বন্ধু ঠিকই ভেবেছিলেন এবং বছর বছর ধরে তাদের গ্রামটিতে ১০ হাজারের উপরে গাছ লাগিয়েছেন তারা দু’জন। তবে তাদের জন্য কাজটি মোটেই সহজ ছিল না কারণ হেক্সিয়া ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং উইঙ্কির ছিল না একটি হাত। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে জয় হয়েছে সবুজের, জয় হয়েছে বন্ধুত্বে সর্বোপরি জয় হয়েছে মনুষ্যত্বের।

mahadi
লেখক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৫, ১১:০০ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:২৭
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৫, ১১:০০ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:২৭

(প্রিয়.কম) চীনের শুনসান শহরের ইয়েলি নামক গ্রামটি একন অনেক সবুজ। দেখলে বোঝার উপায় নেই এক দশক আগেও এটি ছিল প্রায় মরুভ’মির মতো। চারিদিকে শুধু নুড়ি পাথরের ছড়াছড়ি। পাথরের মাঝে জন্মে উঠেছিল আগাছা। কে ভাবতে পেরেছিল তখন যে এই পাথুরে গ্রামটিই এক সময় এমন সবুজ রুপধারণ করবে। আর কেউ না ভাবলেও হেক্সিয়া ও উইঙ্কি নামের দুই বন্ধু ঠিকই ভেবেছিলেন এবং বছর বছর ধরে তাদের গ্রামটিতে ১০ হাজারের উপরে গাছ লাগিয়েছেন তারা দু’জন। তবে তাদের জন্য কাজটি মোটেই সহজ ছিল না কারণ হেক্সিয়া ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং উইঙ্কির ছিল না একটি হাত। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে জয় হয়েছে সবুজের, জয় হয়েছে বন্ধুত্বে সর্বোপরি জয় হয়েছে মনুষ্যত্বের। t-1 ৫৩ বছর বয়সী হেক্সিয়া জন্মের পর থেকেই তার বাম চোখ দিয়ে দেখতে পেতেন না। পরে ২০০০ সালে একটি দুর্ঘটনায় তার ডান চোখটিও হারান, হয়ে যান পুরোপুরি অন্ধ। অন্যদিকে উইঙ্কি তিন বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় তার দুটো হাতই হারান। হেক্সিয়া পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাবার পর স্বাভাবিকভাবেই কোনো চাকরি পাচ্ছিলেন না। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি ছিলেন উইঙ্কিও। t 2 পরে তারা ভাবলো আমাদের চাকরি না হলেও আমরা এমন কিছু করে যাবো যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভালো কিছু পায়। যেই ভাবা সেই কাজ। সরকারের কাছ থেকে নদীর পাশে ৮ একর জমি ইজারা নেন তারা। শুরু হয় তাদের পরিবেশ পরিবর্তনের কাজ। এর মাধ্যমে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই ফিরে আসেনি। পাশ্ববর্তী গ্রামহুলো বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত রেখে রক্ষা পেয়েছে। t-3 সেসময়ে প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে দুই বন্ধু কাজে লেগে পড়তেন। বড় হওয়া গাছের ডাল বিক্রি করে তারা যে অর্থ উপার্জন করতো তা দিয়েই আবার নতুন চারা লাগাতো তারা। যতই দিন যায় তারা একসঙ্গে কাজ করা শিখতে থাকে এবং তাদের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে থাকে। t 5 কেউ গাছে উঠছে, কাঠ কাটছে, কেউ গর্ত করছে। কাজ এগিয়ে চলে দুজনের। এভাবেই একটা সময় সবুজ হয়ে উঠতে থাকে গ্রামটি। তাদের এ কাজ সংবাদমাধ্যমে আসার পর এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে। তাদের এ পরিশ্রম অনুপ্রাণিত করে অনেককে। সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। t 7 তাদের জীবনব্যবস্থা পরিবর্তনের এগিয়ে আসে কেউ কেউ। জিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানায় হেক্সিয়া হয়তো তার দৃষ্টি ফিরে পেতে পারেন। পেশাদার ডাক্তারদের একটি দল তার চোখে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।