ছবি সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় ইবি শিক্ষকসহ নিহত ২, আহত ২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ প্রফেসর ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (৫৫) ও তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক সেন্টু মল্লিক (৩২) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ১১ মে ২০১৬, ১১:২৯ আপডেট: ১৮ জুন ২০১৮, ০২:০৪
প্রকাশিত: ১১ মে ২০১৬, ১১:২৯ আপডেট: ১৮ জুন ২০১৮, ০২:০৪


ছবি সংগৃহীত

প্রফেসর ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, ফাইল ছবি
ইলিয়াছ মেহেদী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
(প্রিয় ক্যাম্পাস) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ প্রফেসর ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (৫৫) ও তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক সেন্টু মল্লিক (৩২) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দুজন। তিনি আল-হাদিস এন্ড ইসলামীক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক।

বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মাগুরার বাস টার্মিনালের পাশে পাটনান দোয়ালীতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বুধবার সকালে প্রাইভেট কারে করে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। মাগুরার বাস টার্মিনালের পাশে পাটনান দোয়ালীতে পৌছলে তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের সাথে একটি কাভার্ট ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে প্রান হারান ড.আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ও গাড়ি চালক সেন্টু। এছাড়া আহত হয়েছেন আসাদ ও বাহাউদ্দিন নামে দুজন ব্যাক্তি।

এবিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, কাভার্ট ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলে গাড়ির ড্রাইভারসহ দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়। আহতদের মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এবং নিহতদের মাগুরা সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আর যে কাভার্ট ভ্যানের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে সেটাকেও জব্দ করা হয়েছে।

তার মৃত্যুতে তার পরিবারে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। বৃহস্পতিবার মাগরিববাদ ঝিনাইদহ হাই স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তার নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে।

আল-হাদীস বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাসির উদ্দিন জানান, আমরা বাংলাদেশ থেকে একজন ইসলামী চিন্তাবিদ হারালাম। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই ও নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
দেশে বিদেশে তারা অসংখ্য শুভাকাংঙ্খী ও ছাত্র রযেছে। তিনি এক ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন।
 
কে এই চিন্তাবিদ

১৯৬১ সালে ঝিনাইদহ ধোপডাঙ্গা, গোবিন্দপুরে খন্দকার আনোয়ারুজ্জামানের পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন ড. জাহাঙ্গীর। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন জ্ঞান পিপাসু ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী।

ইসলামী শিক্ষার প্রতি ছোট বেলা থেকেই ছিলেন খুবই অনুরাগী। ছোটবেলা ঝিনাইদহ শহরের মাদরাসায় তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়।

এরপর তিনি ঝিনাইদহ আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৭৩ সালে দাখিল, ৭৫ সালে আলিম ও ৭৭ সালে ফাস্ট ক্লাস নিয়ে সফলতার সাথে ফাযিল পাশ করেন। ১৯৭৯ সালে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে আল-হাদীস বিভাগ থেকে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে কামিল পাস করেন।

ইসলামী শ্ক্ষিার পাশা পাশি তিনি জেনারেল শিক্ষার জন্য মাগুরার এইচ এস সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে এইচএসসি পাশ করেন।

এরপর সৌদি আরবের আল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে আরবী ভাষা ও সাহিত্যর উপর ফাস্ট ক্লাস নিয়ে বিএ অনার্স শেষ করেন। এরপর ১৯৯২ সালে আরবী ব্যাকারনের উপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন এবং ১৯৯৮ সালে আরবী ব্যকারনের উপর ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি সৌদিতে থাকা অবস্থায় প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করা কালে পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেন। এসয় তিনি লেখা পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রন্থের ইংরেজী থেকে  আরবী অনুবাদ করেন।

তিনি আরবীর পাশাপাশি ইংরেজী, হিন্দি, উর্দু, বাংলা সমান পারদর্শী ছিলেন। তার প্রায় ১০টির বেশি গবেষনা কর্ম রয়েছে।

দেশে ফিরে এসে ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রভাষক থাকা অবস্থায় তিনি আইন ও আল ফিকহ বিভাগের পার্টটাইম হিসেবে শিক্ষককতা করেন। ২০০৯ সালে তিনি ওই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়াও পিস টিভি, ইসলামিক টিভি, এটিএন ও এনটিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে ইসলামী টক শো করেন। এতে তিনি দেশে বিদেশে ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে ব্যাপক আলোচিত হয়ে ওঠেন।

তিনি সর্বশেষ তিনি গত মাসে তিনি তুরস্কের হাইরাত ডাকফি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘এ লাইফ ডিভোটেড টু কোরান’ শীর্ষক আর্ন্তজাতিক সেমিনারে অংশ গ্রহন করেন। গত বছরে আরব আমিরাতে মাস ব্যাপী টিভি টক শোতে অংশ গ্রহন করেন। আমেরিকার ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনাইটেড শিরাহ কনভেনশন ২০১৩ তে অংশ গ্রহন করেন। লিবিয়া, ইতালি, মিশরসহ বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রনে তিনি সেমিনার সিম্পোজিয়ামে অংশ গ্রহন করেন।

তার রচিত গ্রন্ত সমুহ

তিনি  ১৯৯৫ সালে সৌদিতে থাকা অবস্থায় ‘এ ওম্যান ফ্রম ডিসার্ট’ ২০০০ সালে কুরান সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদ্াহ, ইসলামে পর্দা, ২০০২ সালে বিখ্যাত ইহয়াউস সুনান, রাসুলের সুন্নাত পদ্ধতি, রাহে বেলায়েত, হাদীসের নামে জালিয়াতি, মুসলমানী নেসাব, বাংলাদেশে উশর ও যাকাতের গুরুত্ব, বুহুস ফি উলুমুল হাদীসসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রায় অর্ধশত বই রচনা করে ইসলামের খেদমত করেছেন।

এছাড়ার তিনি ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালের পাশে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট নামে একটি জন কল্যান ফাউন্ডেশন পতিষ্ঠা করেছেন, সেখানে তিনি দিনি ইলম, হাদীস কুরান শিক্ষা সহ বিনামুল্যে চিকিৎসা প্রদান, গরীবদের সহায়তা, ইসলামের প্রচারাভিযান, খ্রিস্টান মিশনারির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় গনজাগরন, জন সচেতনতায় মাহফিল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের খেদমত করেছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বচ্চ মর্যদা দান করুন।