ছবি: রয়টার্স

(প্রিয়.কম) ভারতে সোমবার রাতে নয়ডার দাদরি পরগনার বিসারা গ্রামে ৫০ বছরের মহম্মদ আখলাককে গোমাংস খাওয়ার অজুহাতে খুন করায় তার মেয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কী দোষ ছিলো তার বাবার। হত্যাকারীরা তাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছিলো বলেও জানান তিনি। 

আকলাকের মেয়ে সাজিদা কলকাতাভিত্কি সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের কাছে বলেন, ‘‘রাতের খাওয়া শেষ করে বাবা তখন দোতলায় শুতে গিয়েছে। হঠাৎ শুনতে পেলাম গ্রামের মন্দিরে মাইক বাজিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে যে আমাদের বাড়িতে গরু মারা হয়েছে।’’ তার মিনিট খানেকের মধ্যেই আক্রমণ। কেউ কিছু টের পাওয়ার আগেই শ’খানেক লোকের ভিড় জমে গিয়েছিল আখলাকের বাড়ির বাইরে। সাজিদার ভাষ্যমতে, কারও হাতে লাঠি। কারও বা পাথর। সে সব নিয়েই দরজা ভেঙে সোজা বাড়ির ভিতর জনতা।

‘‘নৃশংস ভাবে ওরা চড়াও হল আমার দাদার উপরে’’, আনন্দবাজারের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁপতে থাকেন সাজিদা। পরনে সাদা সালোয়ার। তাতে চাপ-চাপ রক্ত। বাড়ির একতলাতেই পড়াশোনা করছিল ওর ২২ বছরের দাদা, দানিশ। তাঁকে মারধর করে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে সোজা দোতলায় আখলাকের ঘরে।

সাজিদা বলল, ‘‘বাবাকে বাড়ির বাইরের টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল ওরা। তার পর পাথর দিয়ে মাথায় আর বুকে মারতে লাগল।’’ কিছু ক্ষণের মধ্যেই মারা যান আখলাক। দানিশ নয়ডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবস্থা সঙ্কটজনক। ‘‘ওরা আমাকেও ধর্ষণ করতে চেয়েছিল। ঠাকুমাকেও মারল,’’ বলেছে সাজিদা। আধ ঘণ্টা চলেছিল এই তাণ্ডব। সাড়ে দশটা নাগাদ পুলিশের সাইরেন শোনা যায়। পড়িমরি করে ছুটে পালায় সবাই।

কিন্তু ওর বাবার ‘দোষ’ কী ছিল, তা এখনও বুঝতে পারেনি সাজিদা। ওই গ্রামেরই প্রবীণরা জানিয়েছেন, প্রায় ৭০ বছর ধরে ওখানেই বাস আখলাক এবং তাঁর পরিবারের। বিসরা গ্রামে প্রায় ন’হাজার বাসিন্দার মধ্যে মাত্র দু’টি সংখ্যালঘু পরিবার। কিন্তু সেখানে কোনও হিংসার ঘটনা স্মৃতিতে নেই গ্রামবাসীদের। বরং নানা অনুষ্ঠানে, এমনকী গত ইদেও তাদের বাড়িতে অনেকেই খাওয়া দাওয়া করে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সাজিদা। ওর দাবি, ‘‘ফ্রিজে পাঁঠার মাংস ছিল, গরুর মাংস নয়।’’ আর সেই মাংস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

১৯৫৫ সালের এক আইন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে গোহত্যা নিষিদ্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, এই আইন অমান্য করলে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০০০ টাকা জরিমানা বা দু’টোই হতে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার

সাজিদা বলে, ‘‘রাতের খাওয়া শেষ করে বাবা তখন দোতলায় শুয়ে পড়ে । হঠাৎ শুনতে পেলাম গ্রামের মন্দিরে মাইক বাজিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে যে আমাদের বাড়িতে গরু মারা হয়েছে।’ তার মিনিট খানেকের মধ্যেই আক্রমণ।

কেউ কিছু টের পাওয়ার আগেই প্রায় একশ লোকের ভিড় জমে যায় তার বাড়ির সামনে। সাজিদার জানায়, কারও হাতে লাঠি। কারও বা পাথর। সে সব নিয়েই দরজা ভেঙে সোজা বাড়ির ভিতর জনতা।

সাজিদা বলে, ‘নৃশংসভাবে ওরা চড়াও হল আমার ভাইয়ের উপর। তাঁকে মারধর করে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে সোজা দোতলায় বাবার ঘরে ‘

সাজিদা বলে, ‘বাবাকে বাড়ির বাইরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় তারা। তার পর পাথর দিয়ে মাথায় আর বুকে মারতে লাগল।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান আখলাক। তার ছেলে দানিশ নয়ডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা সাজিদাকে ধর্ষণেরও চেষ্টা করে বলে জানায় সে। এছাড়া মেরেছে আখলাকের মাকে

প্রায় ত্রিশ মিনিট এ তাণ্ডব চলার পর সাড়ে দশটার দিকে পুলিশের সাইরেনে পালায় সবাই।

পুলিশ দশ জনের নামে এফআইআর দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক করা হয়েছে গ্রামের মন্দিরের পুরোহিতকেও। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করার জন্য বুধবার সকালে পাশের গ্রাম থেকে অনেকেই পুলিশের উপর চড়াও হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেটার নয়ডার বিসরাখ এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে গ্রামবাসীরা।

তাদের দাবি, গো হত্যার ঘটনায় যে বা যারা জড়িত তাদের যেন মৃত্যুদণ্ড হয়। এসময় তারা পুলিশের একটি ভ্যান ও মোটরবাইকপুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি সামলাতে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। তাতে আহত হয় এক যুবক।

পুলিশের দাবি পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। অপ্রীতিকর অবস্থা থামাতে গাজিয়াবাদ, বুলন্দশহর এবং হাপুর এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে গ্রামে।

কিন্তু বাবার ‘দোষ’ কী ছিল, তা এখনও বুঝতে পারেনি সাজিদা। ওই গ্রামেরই প্রবীণরা জানান, প্রায় ৭০ বছর ধরে ওখানেই বাস আখলাক এবং তাঁর পরিবারের। বিসরা গ্রামে প্রায় নয় হাজার বাসিন্দার মধ্যে মাত্র দু’টি সংখ্যালঘু পরিবার। কিন্তু সেখানে কোনও হিংসার ঘটনা স্মৃতিতে নেই গ্রামবাসীদের। বরং নানা অনুষ্ঠানে, এমনকী গত ঈদেও তাদের বাড়িতে অনেকেই গিয়েছে বলে জানিয়েছে সাজিদা।

ওর দাবি, ‘‘ফ্রিজে পাঁঠার মাংস ছিল, গরুর মাংস নয়।’’ আর সেই মাংস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

১৯৫৫ সালের এক আইন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে গোহত্যা নিষিদ্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, এই আইন অমান্য করলে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০০০ টাকা জরিমানা বা দু’টোই হতে পারে।

তবে কে কী খাবে, সেটা নিয়ে কী করে ফতোয়া জারি করা যায়— প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন বলেছেন, ‘‘গুজবের বশে ওই ব্যক্তিকে যে ভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা সঙ্ঘ পরিবারের পুরনো কৌশল।’

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির মতে, এটা কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়। তিনি বলেছেন, ‘বিহার ভোট যত এগিয়ে আসবে তত মেরুকরণের রাজনীতি বাড়বে।’ তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী যখন ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি চুপ কেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব আখলাকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা সহায়তার ঘোষণা করেছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা