ছবি সংগৃহীত

৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের আহবান নাগরিক সমাজের

দেশের চলমান সংকট সমাধানে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে দশম নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছে দেশের নাগরিক সমাজ।

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ১২:৩৮ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:১২
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ১২:৩৮ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:১২


ছবি সংগৃহীত
দেশের চলমান সংকট সমাধানে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে দশম নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছে দেশের নাগরিক সমাজ। শনিবার গুলশানের একটি হোটেলে সিপিডি, আইন ও শালিশ কেন্দ্র, সুজন এবং টিআইবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সংকটে বাংলাদেশ-নাগরিক ভাবনা’ বিষয়ক আলোচনায় এ আহ্বান জানান দেশের নাগরিক সমাজের সচেতন নাগরিকবৃন্দ। দিনব্যাপী এ সংলাপে দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন বক্তা আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, "বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর পরবর্তীতে ক্ষমতায় না আসার চিন্তা করে না। তাই তারা নিজেদের মতো করে সংবিধান কিংবা আইন প্রণয়ন করে। বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট শিশুরাও বোঝে, কিন্তু রাজনীতিবিদরা বোঝে না।" প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, "আমরা এক কঠিন সঙ্কটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি। এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে রাজনীতিবিদদের। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য কোনো ভালো ফল নিয়ে আসবে না।" সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, "১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু তা মানুষের অধিকারের জন্য হয়নি। স্বাধীনতা শুধুমাত্র ক্ষমতা ব্যবহার করার জন্য হয়েছে। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভাঙিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।" এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, "দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ লাখ মুরগীর বাচ্চা নষ্ট হচ্ছে। প্রতিমাসে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দু’একমাসের মধ্যে কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব হবে না।" সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক উপদেষ্টা তপন কুমার চৌধুরী বলেন, "আমরা এখন দু’ভাগে বিভক্ত। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর এ রকম হওয়ার কথা ছিল না। এখন আমাদেরকে সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। কিন্তু আমরা এখন সহিংসতা করছি, ক্ষমতার মোহে দেশের কথা ভুলে যাচ্ছি।" এসময় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম তফসিল বাতিল করে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যেখানে ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সেখানে নির্বাচনের কোনো প্রশ্ন ওঠে না। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত না হলে তা সংবিধান বহির্ভূত হয়। তাই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।" ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সংবিধান অক্ষুণ্ণ রেখেই বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ দেন। সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করারও পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, "বর্তমান নির্বাচন দেশের সঙ্কট আরো বেশি ঘনীভূত করবে। তাই সংবিধান ঠিক রেখে ২৪ জানুয়ারির পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে নির্বাচন দেয়া যায়।" ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ সব দলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞানী ড. পিয়াস করিম। মতিউর রহমান খান বলেন, "দুই নেত্রীকে বুঝিয়ে চলমান নির্বাচন বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছতে হবে। আর এ বিষয়টা বর্তমানে নাগরিক সমাজ ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। প্রয়োজনে আমাদেরকে আমরণ অনশনসহ বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করতে হবে।" সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, "জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনায় আমরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নির্বাচন চেয়েছি। আওয়ামী লীগ সমাধান চায়নি বিধায় তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে ইচ্ছা করলেই নতুন নির্বাচন করা যায়।" ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, "বাংলাদেশের এ সঙ্কট ২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াতের পরাজয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনী তারা মেনে নিতে পারেনি, তাই তারা এ সহিংসতা চালাচ্ছে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ৫ তারিখের নির্বাচন বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।" ড. রিজওয়ানা আহমেদ বলেন, "বর্তমানে আমরা মুক্তিযুদ্ধকে এবং যুদ্ধের চেতনাকে নিজের মতো করে ব্যবহার করছি। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে এখন শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য একে ব্যবহার করা হচ্ছে।" অনুষ্ঠানে বক্তারা চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি অহিংস কর্মসূচি প্রণয়নেরও পরামর্শ দেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের তিন জন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা অংশ নেননি বলে আয়োজক সূত্র জানিয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

ভোট শেষে চলছে গণনা

প্রিয় ৪ ঘণ্টা, ৫৮ মিনিট আগে

‘আমরা জয়ী হবই’

প্রিয় ১ দিন, ৬ ঘণ্টা আগে

loading ...