ছবি সংগৃহীত

‘আমানুল হক ছিলেন গভীরভাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষ’

‘আমানুল হক ছিলেন গভীরভাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষ। আলোকচিত্রের কারিগরিবিদ্যার সঙ্গে তিনি যোগ করেছিলেন দায়বদ্ধ শিল্পীর অঙ্গীকার। তাই আমরা তাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহান ভাষা-আন্দোলনের বহু দুর্লভ আলোকচিত্র ক্যামেরায় তুলতে দেখি। শুধু ভাষা-আন্দোলন নয় বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রগতিশীল অভিযাত্রাকে তিনি তাঁর ক্যা

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১৪:২০
আপডেট: ০১ মে ২০১৮, ১২:২৬


ছবি সংগৃহীত
‘আমানুল হক ছিলেন গভীরভাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষ। আলোকচিত্রের কারিগরিবিদ্যার সঙ্গে তিনি যোগ করেছিলেন দায়বদ্ধ শিল্পীর অঙ্গীকার। তাই আমরা তাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহান ভাষা-আন্দোলনের বহু দুর্লভ আলোকচিত্র ক্যামেরায় তুলতে দেখি। শুধু ভাষা-আন্দোলন নয় বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রগতিশীল অভিযাত্রাকে তিনি তাঁর ক্যামেরা ও কলমে ধারণ করেছেন প্রগাঢ় দায়বোধ থেকে।’ অমর একুশে বইমেলার মূলমঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ‘ভাষা-আন্দোলন এবং আমানুল হকের কীর্তি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচকরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শহিদুল আলম, ফরিদুর রেজা সাগর এবং লুৎফর রহমান রিটন। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আহসানুল হক। আলোচকরা বলেন, আমানুল হক শুধুমাত্র একজন আলোকচিত্রগ্রাহকের ভূমিকা রেখে বিদায় নেননি। আমাদের সাংস্কৃতিক জগতে তাঁর ভূমিকা ছিল বহুমাত্রিক। ভাষা-শহীদ রফিকের চূর্ণ-বিচূর্ণ মাথার যে ছবিটি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তাঁর সাধারণ সিক্স টোয়েন্টি সাদা-কালো ফিল্মের ক্যামেরায় তিনি ধারণ করেছিলেন এটি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বর্বরোচিত, লোমহর্ষক এবং বীভৎস অত্যাচারের একমাত্র সচিত্র দলিল বলে সাক্ষ্য দেয় ইতিহাস। সত্যজিৎ রায়ের সংসর্গকে আমানুল হক শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতির পর্যায়ে রাখেননি বরং এ নিয়ে আমাদের উপহার দিয়েছেন। তাঁর আমার দেশ চিত্রমালা- সিরিজ উত্তরপ্রজন্মকে এদেশের নিসর্গকে হৃদয়ঙ্গম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সভাপতির বক্তব্যে আহসানুল হক বলেন, আমানুল হক ছিলেন সাম্যবাদে বিশ্বাসী একজন উদার-অসাম্প্রদায়িক মানুষ। তাঁর শিল্পীসত্তার কেন্দ্রভাগে ছিল মানুষ। ভাষা-সংগ্রামী এই আলোকচিত্রশিল্পী প্রবলভাবে ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি কিন্তু জাতিগত সংকীর্ণতা তাকে কখনো আচ্ছন্ন করেনি। মাতৃভাষার জন্য সংগ্রামরত পৃথিবীর সকল জাতিগোষ্ঠির প্রতি ছিল তাঁর আন্তরিক সমর্থন। অন্তর্গত এই আন্তর্জাতিকতাই আমানুল হককে বিশিষ্টতা দান করেছে। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন ‘বাক শিল্পাঙ্গন’ এবং ‘মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র’-র শিল্পীবৃন্দ। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী আলম দেওয়ান, রুবী আখতার, তারাব আলী দেওয়ান, সুনীল কুমার সরকার, ময়না সরকার, লাইলী দেওয়ান, শিপ্রা ঘোষ এবং সুজন হাওলাদার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), হোসেন আলী (বাঁশি), মো. গিয়াস উদ্দিন (বেহালা), মিলন বাউল (মন্দিরা), মোকাদ্দেস আলী (দোতারা) এবং মো. হাসান মিয়া (ঢোল)। আগামীকালের অনুষ্ঠান আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় অমর একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন শিল্প-সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বিকেল চারটায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘গণতন্ত্রের তিন শত্রু : দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয়/জাতিগত জঙ্গিবাদ’ এবং ‘গণতন্ত্র ও সুশাসনের তিন শত্রু : দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয়/জাতিগত জঙ্গিবাদ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে পৃথক দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যথাক্রমে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ এবং মাসুদা ভাট্টি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ইমতিয়াজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, মোহাম্মদ এ আরাফাত। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট