ছবি সংগৃহীত

‘রাজন হত্যাকাণ্ডে’ প্রকৃতির প্রতি ভালবাসার অভাবই দায়ী: হোসেন সোহেল

পরিবেশ, জীব বৈচিত্র ও প্রকৃতির দুঃখ-কষ্টের খবর সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও লুকিয়ে থাকা কুচক্রি মহলকে সামনে আনতে দশ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন হোসেন সোহেল। ২০১২ সাল থেকে একাত্তর টিভিতে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

Nazmul Hasan Shanto
লেখক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৫, ১১:৩৭ আপডেট: ০৮ জুন ২০১৮, ০৬:৫৪
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৫, ১১:৩৭ আপডেট: ০৮ জুন ২০১৮, ০৬:৫৪


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) পরিবেশ, জীব বৈচিত্র ও প্রকৃতির দুঃখ-কষ্টের খবর সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও লুকিয়ে থাকা কুচক্রি মহলকে সামনে আনতে দশ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন হোসেন সোহেল। ২০১২ সাল থেকে একাত্তর টিভিতে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। এর আগে দেশ টিভি এবং এটিএন নিউজে প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে বন্যপ্রাণী সন্ধানে জঙ্গল ভ্রমণ বিষয়ক ‘জঙ্গলবাড়ি’, বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত নিউজ অনলাইন ‘ওয়াইল্ড ওয়াচ’ এবং বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত শিশু শিক্ষা ‘ম্যানিম্যাল’। এতকিছুর পরও নিয়মিত কলাম লিখেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। অবশ্যই বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বিষয়ে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে পেয়েছেন টিআইবি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন পদক। সম্প্রতি হোসেন সোহেল-এর মুখোমুখি হয়েছে প্রিয়.কম। এসময় তাঁর কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ে। জীব বৈচিত্র ও পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকতা শুরু যেভাবে ২০০১-২০০২ এর একটি ঘটনা আমাকে এ পেশায় নিয়ে এসেছে। সেদিন দেখেছিলাম একটি কুকুরকে একজন মানুষ খুব পেটাচ্ছিল। এটি দেখে আমার মনে হলো, মানুষটির কথা বলার ক্ষমতা থাকলেও কুকুরটির তা ছিল না। যদি সে ক্ষমতা তার থাকত তাহলে সে হয়তো বলত, আমাকে মেরো না। ছোট আকারে হলেও সে প্রতিবাদ করত।মানুষের সাথে তো আর কুকুরের পেরে ওঠে না। আমি ভাবলাম তাদের কথাগুলো কেন আমার মুখ থেকে বেরুবে না। অবলা এই প্রাণী ও গাছপালার কথা বড় পরিসরে সবাইকে জানানোর কাজটি বাস্তবায়ন করতে অনেক টেলিভিশনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তখন তারা আমাকে পাগল বলে তাড়িয়ে দিয়েছিল। কর্মজীবনের শুরুটা খুব সহজ ছিলে না। 3 কাজ য়খন বাঘের সঙ্গে একটা বড় প্রজাতিকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ সবার মাঝেই থাকে। খাদ্য শৃঙ্খলে শীর্ষ স্থানীয় প্রাণী হলো বাঘ। এর নিচে মানুষ বাদে অন্যসব প্রাণী। আমি খাদ্য শৃঙ্খলের নিচের দিকের প্রজাতি পিঁপড়া থেকে আরম্ভ করে উপরের দিকের অনেক প্রাণী নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু বাঘের বিশেষত্ব একারণে যে, সারা পৃথিবীতে বাঘ রয়েছে মাত্র ১৩টি দেশে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটারের সুন্দরবন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও রয়েল বেঙ্গল টাইগার নেই। বাঘ ও সুন্দরবনের এই বিশেষত্বের রহস্য ভেদ করার ইচ্ছাটা অনেক আগে থেকেই ছিল। সুন্দরবন টিকে আছে এই বাঘের জন্য। এমনকি সুন্দরবনের যে কোনো প্রাণী টিকে আছে এই বাঘের জন্য। যদি বাঘ না থাকে সুন্দরবনই থাকবে না। তাই আমাদের সবচে আগে দেখতে হবে বাঘের নিরাপত্তা, বাঘের সংবাদ এবং বাঘ নিধনে যে কুচক্রি মহল কাজ করছে তাদের। বাঘকে নিয়ে এমনকি কুকুরসহ কোনো প্রাণী নিয়ে এককভাবে আমার আগে বাংলাদেশে আর কেউ সংবাদ করেনি। প্রাণীদের বিষয়টা অবহেলিত ছিল আমাদের দেশে। বাঘ আমার অহংকার, আমার ঐশ্বর্য, আমার প্রাণ, বাঙ্গালির পরিচয়। আরো অনেক কিছু জড়িত এর সঙ্গে। ছোটবেলা থেকে বাঘ মামার গল্প বলে মায়েরা আমদের ঘুম পাড়িয়েছেন, সেখান থেকে রূপবান সিনেমা হয়েছিল। তাছাড়া এমন কোনো পরিমণ্ডল নেই যেখানে বাঘ সংক্রান্ত বিষয়টি আসেনি। এমনকি আমাদের অহংকার ক্রিকেটারদেরকেও বলা হয় বাংলার বাঘ। এই বাঘ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে কীভাবে তা বের করতে ২০০৭ সাল থেকে উঠেপড়ে লাগি। ২০১১ সালে বাঘের কঙ্কাল লাপাত্তা হয় কীভাবে তা বের করলাম। দেখা গেল, বাঘ মেরে ফেলে মৃতদেহ নিয়ে ব্যবসা। এসব বাঘের চামড়াগুলো উধাও, বাঘের মাংস হরিলুট। বাঘ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খুঁজে পেলাম ‘বাঘ বিধবা পল্লী’। দেখলাম বাঘ দিয়ে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মরে যাওয়া নারীরা কিভাবে অবহেলিত, শ্বশুর বাড়ি থেকে বিতাড়িত। আমি দেখেছি এমন একটা প্রজন্ম বেড়ে উঠছে যারা পিতৃহত্যার দায়ে বাঘের প্রতি প্রতিশোধ প্রবণ হয়ে আছে। যদি কোনোদিন সুযোগ পায় তারা বাঘকে কুচিকুচি করে কেটে মেরে ফেলবে। আড়ালে থাকা এই গল্পগুলোকে তুলে ধরে বিশ্ববাসীকে বলতে চাই আমার দেশে বাঘের সংকট। tiger বাঘ নিয়ে প্রচুর প্রজেক্ট, প্রচুর টাকা-পয়সা বাইরে থেকে আমাদের দেশে আসে কিন্তু সেগুলো যায় কোথায়? নমুনা হিসেবে বলতে চাই, বিবিসির একটা ডকুমেন্টরি করার জন্য কিছু কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যারা বাঘ মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকলে ডেকে এলাকাবাসীকে জড়ো করবে। মানুষ দেখে বাঘ চলে যাবে এবং মানুষ তাদের মতো থাকবে। কুকুরগুলোকে খাওয়ানো ও ভাল রাখার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা এলাকাবাসীকে মাসে চার হাজার টাকা করে দেয়ার কথা ছিল। ডকুমেন্টরির কাজটা যখন শেষ হয়ে গেল এই কুকুরগুলোর দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি। সেই ষোলটি কুকুরের কিছু বাঘে নিয়ে গেছে, কিছু কুকুর মারা গেছে আর বেঁচে আছে একটি মাত্র কুকুর। বাঘকে বাঁচানোর জন্য যে টাকা আসে সেখানেও দুর্নীতি আছে। সর্বশেষ বাঘ জরিপ করার জন্য ক্যামেরা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে টোপ হিসেবে ছাগল-গরু ব্যবহার বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ, সেখানে আমাদের বন বিভাগ দুই দফায় চার শত ছাগল দিয়ে বাঘ গণনা করার চেষ্টা করেছে। এতে আইন লঙ্ঘন করেছে বন বিভাগ। একারণে এনথ্রাক্সসহ বাইরের যে কোনো রোগ বনের মধ্যে ঢুকে সেখানকার বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংস করতে পারে। ট্রাঙ্কুলাইজারের মতো বিভিন্ন ওষুধ কেন পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য আমার বন ব্যবহার করতে দিব? কেন আমার দেশের ছাত্রদের বাঘ নিয়ে কাজ করার সুযোগ না দিয়ে বিদেশের লোকদের সুযোগ দেয়া হবে? এ বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আরও বেশি বেশি তুলে ধরতে হবে। সর্বশেষ ২০০৪ সালের জরিপ অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি ছিল। এখনও নতুন জরিপের ফলাফল আমরা পাইনি। তবে যতটুকু জানতে পেরিছি ২৫০ মতো বাঘ আছে। দশ বছরে কমপক্ষে ৩০০০ হাজার বাঘ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু না বেড়ে তা কমছে কেন? বাঘকে বাঁচাতে হলে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের গর্বের সুন্দরবন ও বাঘকে বাঁচাতে হলে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কারো একার পক্ষে সম্ভব না। বাঘ ও সুন্দরবন একে অপরের পরিপূরক। আমি সরেজমিনে দেখেছি, মরা বাঘগুলোকে যেখানে সমাধিস্থ করার কথা, সেখানে ১২-১৫ ফুট খুঁড়েও বাঘের কঙ্কাল পাওয়া যায়নি। একটা প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের হাড় কমপক্ষে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। প্রতিকেজি হাড়ের পাউডারের মুল্য ১ লক্ষ টাকা। একটা বাঘের চামড়ার মুল্য ৩০ লক্ষ টাকা, দাঁতের এক প্লেট ১০ হাজার টাকা, মাংস ১৫-২০ হাজার টাকা, ক্ল আছে ১০ হাজার টাকা, বাঘের লেজের লোমশ তাবিজ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যার মুল্য আছে শত শত টাকা। মৃত বাঘের চামড়া থাকার কথা বিভাগীয় বন অফিসগুলোতে। সেখানে খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের আলমারিতে যেখানে ৬০টি চামড়া থাকার কথা সেখানে পেয়েছি মাত্র দুইটা। বাকি ৫৮টি চামড়া গেল কোথায়? এর দায় কেউ নিতে চায় না। এটা স্পষ্ট যে এসব ক্ষেত্রে একটি সিণ্ডিকেট কাজ করছে যেখানে সরকারি কর্মকর্তারাও জড়িত। বাঘ দিবস প্রসঙ্গ সময় এখন বাঘ বাঁচানোর। বাঘ শব্দ উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই আমি বাঘের সঙ্গে জড়িয়ে যাই। ফলে বাঘ আমার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের একটি অংশ। বাঘ নিয়ে যে কোনো চক্রান্ত, তালবাহানা ও সিণ্ডিকেট রুখতে সবাইকে এখনই একসাথে প্রতিবাদ ও কাজ করতে হবে । যদি কেউ বলে বাঘ আমার না, বাঘ বাংলার না তাহলে সে নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করতে পারে না। সুতরাং বাঘ দিবসের একটাই কথা, আমার বাঘ আমার থাক। বাঘ মানেই বাংলা, বাঘ মানেই বাঙালি। 2 গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাঘের জন্য ভালবাসা বাড়াতে হবে। ভালবাসা যত বাড়বে আমাদের বাঘ বেঁচে যাবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। আড়ালে থাকা সমস্ত বিষয়গুলোকে সামনে আনতে এবং বাঘ-প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালবাসা বাড়াতে প্রত্যেকটা গণমাধ্যমকে দায়িত্ব নিতে হবে। গণমাধ্যম মানুষকে প্রকৃতির শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে। মানুষকে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত করতে গ্রিন ও ওয়াইল্ড লাইফ জার্নালিজমকে উন্নতি করতে হবে এবং বেশি বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। প্রতিটি গণমাধ্যমে গ্রিন ডেস্ক স্থাপন করতে হবে এবং মানুষকে প্রকৃতি সচেতন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নগরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দুঃখ-কষ্টে জীবন যাপন করা সত্বেও যেন প্রকৃতির প্রতি মায়া-ভালবাসার মনোভাব গড়ে ওঠে। নগরজীবনে আবাসন সঙ্কট, পর্যাপ্ত জায়গার অভাব থাকা সত্বেও যেন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে টবের মধ্যে হলেও গাছের বীজ বপন করে একটি জীবনের বেড়ে ওঠা দেখার সুযোগ দেয়াটা জরুরি। যেখানে মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের সংকট, সেখানে জীব-জন্তুর প্রতি সহনশীলতা কীভাবে? সহনশীল হবে না ভালো কথা কিন্তু মারবে কেন? মারার অধিকার কে দিয়েছে তাকে? মানুষ খেতে পাচ্ছে না তাই প্রাণীর প্রতি সহিংস হয়ে তাদের মেরে ফেলবে? এটা কোনো সমাধান না। আমি মনে করি, আমাদের দেশে অভাবে থাকা গ্রামের অসচ্ছ্বল মানুষগুলো শহরের সচ্ছ্বল-বিত্তবান মানুষগুলো থেকে অনেক বেশি প্রকৃতিবান্ধব। যে ব্যক্তি তার গরুকে দুধ বা চাষাবাদসহ অন্য কোনো উপকারে আসে বলে খাবার দেয়-গোসল করায়, তার বাড়ির পাশের গুইসাপটিও মায়লা-আবর্জনা খেয়ে উপকার করছে তারও কিছু হক আছে। কীট-পতঙ্গগুলো ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন ঘটানোর ফলে যে সুস্বাদু ফল হচ্ছে তা আমরা খাচ্ছি। কিন্তু তাদের প্রতি আমরা হক আদায় করি কোথায়? মানুষ বুদ্ধিমান-বিবেকবান এবং ভালবাসতে জানে। শুধু এই ভালবাসাটা জাগিয়ে দিতে হবে। জাগিয়ে দেয়ার দায়িত্ব গণমাধ্যমের নিতে হবে, সচেতন প্রতিটি নাগরিকের নিতে হবে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অবিভাবক ও শিক্ষকদের নিতে হবে। 6 নাগরিক মানুষ কীভাবে আরও প্রকৃতি বান্ধব হবে ঢাকাসহ শহরগুলোতে সব সড়ক পিচ ঢালা হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছা করলেও একটা গাছ লাগানোর জায়গা পাওয়া যায় না। মাটির সংকট থাকা সত্বেও যদি এক মুঠো মাটি সংগ্রহ করে ঘরের বারান্দায় টবের মধ্যে রেখে একটি গাছের বীজ বপন করা যায়। তাহলে সেখান থেকেই শুরু হতে পারে সংরক্ষণ, সচেতনতা ও প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা। আমি বলছি না, বাজার থেকে পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী কিনে এনে লালন-পালন করে প্রকৃতির প্রতি আপনার ভালবাসা প্রকাশ করুন। দেশি বিড়াল-কুকুরকে হয়তো ঘরে রাখা যায়। আইনের পরিপন্থী হয়ে কাঠবিড়ালি, বানর, কচ্ছপ ও অন্য যে কোনো বন্য প্রাণী ঘরের একুরিয়ামে রেখে সন্তানকে কিছু শেখানো যাবে না। বরং সে জানবে বন্দি জীবনের কথা। আমি যে কাজটি করি তা হচ্ছে আমার বাসার বারান্দায় আমি কিছু খাবার রেখে দেই যা পাখিরা এসে খেয়ে যায়। এতে আমার অর্থ ও সময় কিছুই খরচ করতে হয় না। প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য আমাদের একটু সদিচ্ছাই যথেষ্ঠ। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গাছ অবারিত এক সবুজ। যে সবুজ আমাকে বাঁচিয়ে রাখে আমরা সে সবুজটাই ঘরের মধ্যেই পালতে পারি। এ সবুজ বন্য প্রাণীর মতো কিনে নিয়ে আসতে হচ্ছে না। বরং রাস্তার ধারে জন্মে থাকা একটি অঙ্কুরোদগমকে পরম যত্নে-ভালবাসায় গড়ে তুলতে পারি। একটি গাছ দিয়ে শুরু করতে পারি প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা। তাহলেই বরং অনাগত সময়ে পাওয়া যাবে এমন একটি সমাজ পাওয়া সম্ভব যেখানে খুন, যৌন নিপীড়ন, নির্যাতনসহ থাকবে না অন্য কোনো অপরাধ। কারণ যার মধ্যে প্রকৃতি ও প্রাণীর জন্য ভালবাসা আছে সে কখনো মানুষের প্রতি অন্যায় করতে পারে না। আজকে সিলেটের রাজন হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। রাজন হত্যাকাণ্ডের জন্য মানুষের প্রকৃতির প্রতি ভালবাসার অভাবই দায়ী। আমি মনে করি রাজনকে হত্যাকারী ব্যক্তি কোনো দিন একটি গাছ লাগিয়েও দেখেনি। তারা জানে গাছ কাটতে, উপকার ভোগ করতে আর অপ্রকৃতিস্থ থেকে সভ্যতার ধ্বংস করতে। প্রকৃতিই পারে কেবল মানুষের মাঝে ভালবাসা-প্রেম-মমত্ববোধ এবং মনুষ্যত্ব বোধ জাগ্রত করতে।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...