হালদ নদীতে মাছের ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত জেলেরা। ছবি: প্রিয়.কম

হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ

‘ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু হয়েছে। যদি আবারও বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ হয় তবে মা মাছ আবারও ডিম ছাড়তে পারে।’

তাজুল ইসলাম পলাশ
প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৩৪ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:১৬
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৩৪ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:১৬


হালদ নদীতে মাছের ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত জেলেরা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হাটহাজারীর হালদা নদীতে মা মাছেরা ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। 

১৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছ ডিম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া

শুক্রবার (২০ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত হালদা নদী থেকে বিপুল পরিমাণ ডিম সংগৃহীত হয়েছে বলে ড. কিবরিয়া নিশ্চিত করেছেন। 

হালদা নদীর গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া প্রিয়.কমকে বলেন, ‘স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর, আশু বড়ুয়া, শ্রীধাম জলদাস জানিয়েছেন, রাত দেড়টার দিকে রুইজাতীয় মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। এরপর আড়াইটা থেকে তারা ডিম সংগ্রহে নেমে পড়েন। কয়েক বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন তারা।’

হাটহাজারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা কাজী আবুল কালাম বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার প্রথম দিনেই তুলনামূলক ডিম বেশি পাওয়া গেছে। তবে তিন-চার দিন পর এর প্রকৃত হিসাব বলা যাবে।’

জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছের ডিম। ছবি: প্রিয়.কম

জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছের ডিম। ছবি: সংগৃহীত

কাজী আবুল কালাম আরও বলেন, ‘ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু হয়েছে। যদি আবারও বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ হয় তবে মা মাছ আবারও ডিম ছাড়তে পারে।’

মদুনাঘাট হ্যাচারিসহ হালদা নদী সংলগ্ন ডিম থেকে রেণু ফোটানোর হ্যাচারিগুলো সংস্কার ও মেরামত করা হয়েছে বলেও জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হালদা নদী থেকে এক হাজার কেজির বেশি ডিম সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জেলেরা জানিয়েছেন। দুই শতাধিক জেলে ডিম সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতি কেজি ডিম থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত রেনু উৎপাদন সম্ভব হয় বলে তারা জানান। ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হালদা নদী দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/কামরুল