(প্রিয়.কম)  প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজ ফর সাকসেসফুল লিভিং’ অর্থাৎ, ‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট অনুশীলন।’ সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা দশম বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।

জীবনের কোন কোন পর্যায়ে আপনার শিক্ষাগ্রহণ জরুরি? নিজেই নির্বাচন করুন সেটি। প্রতীকী ছবিটি সংগৃহীত।

দশম অনুশীলন: জীবনের শিক্ষার্থী হোন

আমার বয়স যখন বিশের কোটায় ছিল তখন আমি আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি বিখ্যাত উক্তি শুনেছিলাম। সেটি হলো, ‘যে মুহূর্তে তুমি শেখা ছেড়ে দিবে, সেই মুহূর্তেই তোমার জীবন শেষ’। প্রথম প্রথম খুব নির্বোধ লেগেছিল উক্তিটি পড়ে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। শেখা এবং সাফল্য লাভ ব্যাপার দুটো অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে আপনার শেখা শেষ হয়ে গেল, এটা কখনো ভাববেন না। কিন্তু আমি এটা ভেবেছিলাম। আমার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আমি আমার দাদিকে বলেছিলাম যে, অবশেষে আমার শেখার পালা শেষ হলো। তিনি মিষ্টি হেসে বলেছিলেন, ‘মানুষের শেখা কখনো শেষ হয় না। এটি একটি চিরন্তন প্রক্রিয়া’।

শিক্ষাগ্রহণ করা কোনো সাধারণ কাজ নয়। এটি একটি চলমান ব্যবস্থা। কোনো কিছু শেখা, আবিষ্কার করা এবং সেটিকে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া। গতকাল আপনি যেটিকে মুখ্য ও জরুরি মনে করেছিলেন, আজ সেটি মুখ্য না-ও হতে পারে। সুতরাং, সেটি ত্যাগ করতে হবে। এটিই শিক্ষাগ্রহণ। জীবনের কোন কোন পর্যায়ে আপনার শিক্ষাগ্রহণ জরুরি? নিজেই নির্বাচন করুন সেটি।

সৌভাগ্যক্রমে, আমাদের জীবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়। আপনি যা-ই করেন কিংবা যে-ই অভিজ্ঞতা হোক না কেন আপনার, আপনি কিছু একটা শিখবেন। এটিই আমাদের জীবন। প্রতিদিনই আপনি নতুন চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি এবং মনোবল সঞ্চার করবেন। পুরনো যেকোনো ভুল কিংবা বেদনার কথা আপনি মনেপ্রাণে ভুলে যেতে চাইছেন। কিন্তু না! ভোলার কোনো দরকার নেই। বরং সেখান থেকেই আপনি কিছু না কিছু শিখতে পারবেন। মনে রাখবেন, আবেগীয় কষ্টের কিন্তু কোনো মূল্য নেই। আপনি সেখান থেকে কী শিখতে পেলেন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রতিদিন নিত্যনতুন জিনিস শেখাও কিন্তু এক ধরনের সাফল্য। আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করে দিন। শেখার জন্য হাত বাড়িয়ে দিন। বিরক্তিকর কোনো কাজ থেকেই আনন্দময় কিছু নেওয়ার চেষ্টা করুন। খুব সহজ কাজই বারবার করে কৃতিত্ব নেওয়ার কোনো দরকার নেই। কারণ, এতে আপনার কোনো লাভ হচ্ছে না। চ্যালেঞ্জিং কাজ করার চেষ্টা করুন। 

আপনাকে নতুন নতুন জিনিস শিখতেই হবে, তা না হলে আপনি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। প্রতীকী ছবিটি সংগৃহীত।

নতুন করে শেখার প্রয়োজনীয়তা কী?

আমাদের এ পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত জ্ঞান এবং তথ্যের আদান-প্রদান ঘটছে। কেউ কিন্তু বসে নেই। যে তথ্যটি আজ প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ, আগামীকালই সেটি গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। আপনাকে নতুন নতুন জিনিস শিখতেই হবে, তা না হলে আপনি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। 

আপনার নিজেরও নতুন নতুন ধারায় চিন্তা করার স্পৃহা থাকতে হবে। আপনার ভেতর যেসব গোঁড়া চিন্তা-ভাবনা আছে সেগুলো আজই বাদ দিয়ে দিন। কাজে নতুনত্ব আনুন। 

আজ আপনি কী শিখলেন?

প্রতিদিন শেষে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আজ আমি কী শিখলাম?’, ‘জীবনে সফলতা অর্জন করার জন্য আমাকে আর কী কী করতে হবে?’। কখনো আপনার উত্তরগুলো হবে স্পষ্ট, আবার কখনো হবে অস্পষ্ট। কিন্তু নিয়মিত প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করলে আপনি নিজেকে আরো ভালো করে বুঝতে ও জানতে পারবেন। নিজের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। এক্ষেত্রে একটা ডায়েরি মেইনটেইন করতে পারেন। ধরুন আপনি পরেরবার ছুটিতে ফ্রান্স যাবেন, এবার তাহলে ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখেই ফেলুন। কিংবা রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসেন? দেরি না করে রান্না শেখার কোর্সে জড়িয়ে পড়ুন। 

মাঝে মাঝে আবার এমন হবে যখন আপনার দিন পুরোটাই বৃথা যাবে। এমন দিনগুলো থেকেও কিছু শেখার চেষ্টা করুন। মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগান।

প্রিয় লাইফ/ফারজানা রিংকী