(প্রিয়.কম) শিশুরা কৌতূহল প্রবণ হয় বলে কখনো কখনো তারা এমন প্রশ্ন করে যা শুনে আপনি  এতোটাই অবাক হন যে, হাসবেন না কাঁদবেন তা বুঝতে পারেন না। কিন্তু শিশুদের জন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা প্রয়োজন। শিশুরা অবহেলা পছন্দ করেনা, তাদেরকে মিথ্যে বলাও উচিত নয় এবং তাদের শিশুসুলভ আচরণের জন্য হাসাহাসি করাও উচিত নয়। শিশুর এ ধরণের কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর জেনে নিব আজকের ফিচারে।

শিশুর প্রশ্ন ১:  আমি কোথা থেকে এসেছি?

উত্তর :  এই বিষয়ে খুব বেশি খোলামেলা ভাবে কিছু না বলেও আসল কথাটি বুঝিয়ে বলা যায় উদ্ভট কিছু না বলে। যেমন – বাবা-মায়ের ভালোবাসার ফলে সে মায়ের গর্ভে এসেছে। মায়ের পেটে সে অনেকদিন থাকার পরে যখন বড় হয়েছে তখন সে জন্মগ্রহণ করেছে।

শিশুর প্রশ্ন ২:  ছেলে এবং মেয়েরা কেন আলাদা?

উত্তর :  শিশুর জননঅঙ্গ নিয়ে উৎসাহিত হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই তাকে বলুন ছেলে এবং মেয়ের পার্থক্য হওয়ার কারণ সৃষ্টিগত এবং এর একটি উদ্দেশ্য আছে। আর উদ্দেশ্যটি হচ্ছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে যখন পূর্ণবয়স্ক হয় তখন তাদের মধ্যে সম্পর্ক (বিয়ে) হলে নতুন একটি শিশুর জন্ম হতে পারে যেন সে কারণেই ছেলে এবং মেয়ের শারীরিক গঠনে পার্থক্য দেখা যায়।

শিশুর প্রশ্ন ৩:   আমি যখন বড় হব তখন কী মাকে বিয়ে করবো?

উত্তর : এই বিব্রতকর প্রশ্নটির উত্তরে নম্র ভাবে না বলুন। অনেক শিশুই এই প্রশ্নটি করে থাকে যখন সে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট অনুভব করা শুরু করে। তারপর তাকে বুঝিয়ে বলুন যে, ‘পরিবারে প্রতিটা মানুষেরই আলাদা আলাদা ভূমিকা থাকে, তোমার বোন কখনো তোমার বাবা হতে পারবেনা, তেমনি তোমার বাবাও তোমার দাদী হতে পারবেননা। তুমিও তোমার মায়ের স্বামী হতে  পারোনা। তুমি যখন বড় হবে তখন তোমার মা বুড়ো হয়ে যাবেন। তুমি তাকে ভালোবাসবে এবং তার যত্ন নিবে। তুমি যখন পূর্ণবয়স্ক হবে তখন অন্য একজন সুন্দরী ও তরুণী নারীকে বিয়ে করবে’।

শিশুর প্রশ্ন ৪:   তোমরা কেন ঝগড়া কর?

উত্তর : পিতামাতা যখন ঝগড়া করে তখন সন্তানরা অবচেতনভাবেই নিজেদের দোষী মনে করে। শিশুকে এটা বোঝান যে বাবা-মায়ের ঝগড়া-ঝাটি তাদের জন্য হচ্ছেনা। মতের মিল না হলেই একজন মানুষ আরেকজনের সাথে ঝগড়া করে। শিশুরা যেমন ঝগড়া করে তেমনি বড়রাও ঝগড়া করতে পারে। কিন্তু আমরা একে অপরকে ভালোবাসি এবং তোমাকেও ভালোবাসি।

শিশুর প্রশ্ন ৫:   উনি এতো মোটা কেন?

উত্তর : যদি পাবলিক প্লেসে অস্বাভাবিক গড়নের কোন মানুষকে দেখে আপনার শিশু সন্তানটি প্রশ্ন করে তাহলে তাকে চুপ করিয়ে দেবেন না। তাকে বলুন যে, ‘প্রতিটা মানুষই আলাদা। মানুষ মোটা, শুকনো, লম্বা বা খাটো হতে পারে। কখনো কখনো অসুস্থতার কারণেও মানুষের দেহের আকার পরিবর্তিত হতে পারে। তুমি এটা বললে তারা কষ্ট পাবে। তাই কখনো কারো সামনে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে এ রকম প্রশ্ন করবেনা। যদি তোমার মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে আমাকে জিজ্ঞেস করবে। আমরা যখন একা থাকব তখন আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলবো’।          

শিশুর প্রশ্ন ৬:  তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো আমাকে নাকি আমার বোনকে?

উত্তর :  পিতামাতার আদর পাওয়া নিয়ে সহোদরদের মধ্যে সবসময় প্রতিযোগীতা হয়। তাই পিতামাতার কখনোই উচিত নয় তাদের সন্তানদের একজনের উদাহরণ অন্যজনকে দেয়া অথবা এটা বলা যে ওকে আমি বেশি ভালোবাসি কারণ ও স্কুলে ভালো রেজাল্ট করে। বরং আপনি বলুন যে, তুমি ভিন্ন এবং তোমাদের প্রত্যেকের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ভিন্ন রুপে প্রকাশ পায়। কিন্তু আমারা তোমাদের দুজনকেই সমান ভালোবাসি।

শিশুর প্রশ্ন ৭:  ডাক্তার কী আমাকে ব্যথা দেবেন?

উত্তর : চিকিৎসক তোমাকে ব্যথা দিতে চান না। তাদের কাজই হচ্ছে জীবাণু ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। হয়তো তুমি ব্যথা পেতেও পারো। কিন্তু এটা ছাড়া তুমি সুস্থ হবেনা। যখন আমি অসুস্থ হয়েছিলাম তখন আমাকেও ইনজেকশন নিতে হয়েছে। আমি ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু তারপরও আমি এটা সহ্য করেছি এবং তুমিও পারবে।  

শিশুর প্রশ্ন ৮:  আমি কী মারা যাবো? তুমিও কী মারা যাবে?

উত্তর : মৃত্যু নিয়ে শিশুর কাছে মিথ্যা বলবেন না, তারা সত্যটি গ্রহণ করতে পারে। ‘মানুষ, জীবজন্তু এমনকি ফুলও একদিন মারা যায়। এটা প্রকৃতিরই একটি নিয়ম। তাই আমরাও একদিন মারা যাবো। তবে খুব তাড়াতাড়ি নয়। আমি যখন অনেক বুড়ো হয়ে যাবো তখন আমি মারা যাবো। তুমিও আমাদের মত বড় হবে। তোমারও সন্তান হবে। তারা যখন বড় হবে তখন তুমি বুড়ো হবে এবং একদিন তোমাকেও চলে যেতে হবে। কিন্তু তুমি একটি সুন্দর জীবন অতিবাহিত করবে’।  

শিশুর প্রশ্ন ৯:  তুমি আমাকে রেখে কাজে চলে যাও কেন?

উত্তর : আপনাকে কেন চাকরি করতে হয় তা বুঝিয়ে বলুন। ‘আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাইনা, কিন্তু আমার কাজটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আমাকে করতেই হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি যখন ফিরে আসি তখন আমরা যখন একে অন্যকে দেখি তখন আমারা দুজনেই আনন্দিত হই। চল আমাদের জিনিস অদলবদল করি, তুমি আমার ব্রেসলেট রাখো আর আমি তোমার একটা খেলনা নেই। আমারা যখন ভিন্ন জায়গায় থাকবো তখনো একে অন্যকে উপলব্ধি করতে পারবো’।

শিশুর প্রশ্ন ১০:   তুমি এটা করতে পারো আমি কেন পারিনা?  

উত্তর : পিতামাতা যা করবেন তার সবকিছুই সন্তান কপি করতে পারবেনা এটা তাকে বুঝতে হবে। ‘হ্যাঁ আমি ধূমপান করি এবং কম্পিউটারে কাজ করার কারণে অনেক দেড়িতে ঘুমাতে যাই। এটা আমার বদভ্যাস এবং আমি চাই এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে, কারণ আমি একজন আদর্শ মানুষ হতে চাই’।  

শিশুর প্রশ্ন ১১:  দৈত্য যদি আমাকে খেয়ে ফেলে কী হবে?

উত্তর :  শিশুর ভয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিন এবং তা দূর করার চেষ্টা করুন।

সূত্র: ব্রাইট সাইড

সম্পাদনা: রুমানা বৈশাখী