(প্রিয়.কম) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ( আইওএম) জানিয়েছে, মিয়ানমারে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টির পর গত কয়েকদিনে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। সীমান্তে আরও শত শত রোহিঙ্গা আটকে রয়েছে, যারাও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।

৩০ আগস্ট বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইওএম’র কক্সবাজার প্রধান সংযুক্তা সাহানী।  

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে গত ২৫ অগাস্ট সংঘাত শুরু পর থকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন করে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের জীবন বাঁচানো সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

রাখাইনে পুলিশ পোস্টে হামলাকে কেন্দ্র করে পুনরায় অভিযানে নেমেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী। এতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে শরণার্থী সংকট ঘনীভূত হয়েছে প্রতিবেশী দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে।

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এর মধ্যেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিত্ব প্রদান এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ‘দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’ (এআরএসএ)-এর মুখপাত্র পরিচয় দেওয়া আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি।

২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে ‘দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’ (এআরএসএ)। তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে নয় বরং আত্মরক্ষার স্বার্থে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছেন আবদুল্লাহ।

‘ওই হামলার দু’দিন আগেই সেনাবাহিনী এআরএসএ’র ঘাঁটিতে আক্রমণে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তাই আত্মরক্ষার্থে আগে থেকে পাল্টা হামলা ব্যতীত অন্য কোনো বিকল্প পথ ছিলো না’, বলেন তিনি। 

২৮ আগস্ট সোমবার প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে এসব দাবি করে মুখপাত্র পরিচয় দেওয়া ঐ ব্যক্তি। হামলার পরদিন ২৫ আগস্ট শুক্রবার হংকংভিত্তিক এশিয়া টাইমস আবদুল্লাহ’র বিশেষ এ সাক্ষাৎকারটি নেয়। তিনি নিজেকে এআরএসএ প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির মুখপাত্র হিসেবে দাবি করেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার অাওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘অতীতে মিয়ানমারের জাতিগত সংঘাতের প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনায় বহু রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। এখন আর জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়।’

একই দিন সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সারাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল অথচ বাংলাদেশ সরকার নির্বিকার, নির্বাক, নিঃশ্চুপ এবং তারা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে রোহিঙ্গাদের মৃত্যু। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিবেন না, কারণ আপনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে দেখাতে চান আপনি মুসলমান বিরোধী। তাদের এই দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে আজকে রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।’

এদিকে চলতি মাসে ২৫ আগস্ট শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকার চেষ্টাকালে ১৪৬ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২৬ আগস্ট শনিবার সকালে মানবিক সহযোগিতা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় ৭৩ জন রোহিঙ্গাকে

২৬ আগস্ট শনিবার রাত নয়টায় ও রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ৯১ জন এবং ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আরও ৪৭৫ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। 

প্রিয় সংবাদ/কামরুল