ছবি সংগৃহীত

কোচিং সেন্টারের পোস্টার লাগাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থী!

শাহীন কোচিং সেন্টারের পোস্টার লাগাচ্ছে তারা। সকালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তাদেরকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানোর জন্য আঠা ও কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:৫০ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৩৫
প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:৫০ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৩৫


ছবি সংগৃহীত

চাটমোহরে কোচিং সেন্টারের পোস্টার সাটাচ্ছেন দুই শিশু শিক্ষার্থী। ছবি: প্রিয়.কম

(পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর, পাবনা) দেশে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই পাবনা চাটমোহরে শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়েই কোচিং সেন্টারের পোস্টার লাগানো হচ্ছে।  

শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে ছোট ছোট শিশুদের দিয়ে অর্থের বিনিময়ে পোস্টারিং করানোর ফলে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রসাশনের উদাসীনার অভাবে উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টার। একই সঙ্গে নানা চটকদারী বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।  

সরেজমিনে সোমবার দেখা যায়, উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকার একটি গলিতে এক শিশু আঠার কৌটা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। অপরজন দেয়ালে একটি কোচিং সেন্টারের পোস্টার লাগাচ্ছে। 

কৌটা হাতে দাঁড়ানো শিশুটির নাম ইমন। সে আফ্রাতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপরজন বাস্ট্যান্ড এলাকার জাহিদুলের ছেলে রাজু আহম্মেদ। সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তবে কোন স্কুলে পড়ে তা বলেনি। 

এই দুই শিক্ষার্থী জানায়, শাহীন কোচিং সেন্টারের পোস্টার লাগাচ্ছে তারা। সকালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তাদেরকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানোর জন্য আঠা ও কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। এ রকম আরও দুজনকে অন্য এলাকায় পাঠিয়েছেন। 

শিশু শিক্ষার্থীদের এভাবে কাজে লাগানো সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি সাংবাদিক কেএম বেলাল হোসেন স্বপন বলেন, ‘বিষয়টি অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত কাজ। শিশুশ্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। যে প্রতিষ্ঠানই এটা করে থাকুক এটা অপরাধ করেছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ 

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেগম শেহেলী লায়লা বলেন, ‘শিশু বা ছাত্রদের দিয়ে দেয়ালে পোস্টার লাগানো আইনত অপরাধ। এ ব্যাপারে আমি অতিদ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’ 

এ ব্যাপারে কলেজ রোড এলাকার শাহীন কোচিং সেন্টারের পরিচালক শাহীন আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি।

এদিকে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী আবারও বলেছেন দেশে কোচিং বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না। 

সম্পাদনা: খোরশেদ আলম/ ফকির কামরুল

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...