রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবি: সংগৃহীত

১৯ লাখ টাকার উৎস গোপন, ১২ লাখ নামহীন ব্যবসায়

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী, ‘অন্যান্য’ বিভাগে আয় দেখালে প্রার্থীকে সুনির্দিষ্টভাবে উৎস উল্লেখ করতে হয়।

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০১৮, ১৯:২৫ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০১৮, ১৯:২৫ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬


রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) রাজশাহী সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন হলফনামায় বছরে ১৯ লাখ ৯ হাজার ৭০৮ টাকা আয়ের উৎস গোপন করেছেন। আর ব্যবসার নাম উল্লেখ না করে এই খাত থেকে ১২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ জুন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় এ তথ্য গোপন করেন রাজশাহী সিটির সাবেক এই মেয়র।

সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে হলে প্রার্থী ও তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় হলফনামায় উল্লেখ করতে হয়। হলফনামায় কৃষি খাত, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত, পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি), চাকরি ও অন্যান্য বিভাগে বার্ষিক আয় তুলে ধরার সুযোগ থাকে প্রার্থীর। প্রথম ছয়টি বিভাগের বাইরে বার্ষিক আয় থাকলে প্রার্থীকে ‘অন্যান্য’ বিভাগে উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী, ‘অন্যান্য’ বিভাগে আয় দেখালে প্রার্থীকে সুনির্দিষ্টভাবে আয়ের উৎস বলতে হবে। রাজশাহী সিটির এই মেয়র পদপ্রার্থী অন্যান্য বিভাগে বছরে আয় ১৯ লাখ ৯ হাজার ৭০৮ টাকা দেখান। কিন্তু কোথা থেকে এই পরিমাণ অর্থ আসে, সেই উৎস গোপন করেছেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খায়রুজ্জামান লিটন। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বছরে লিটনের আয় ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ২০৮ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে এক লাখ ৬০ হাজার, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ৫০০, ব্যবসা থেকে ৩২ লাখ, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংকে আমানত ২০ লাখ ১০ হাজার এবং অন্যান্য খাত থেকে বছরে তার আয় হয় ১৯ লাখ ৯ হাজার ৭০৮ টাকা।

হলফনামায় খায়রুজ্জামান লিটন মাছের ব্যবসা থেকে বছরে ২০ লাখ টাকা আয় দেখান। বাকি ১২ লাখ টাকা কোন ব্যবসা থেকে আসে তা উল্লেখ করেননি তিনি।

খায়রুজ্জামান লিটনের অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নগদ ৩০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এক কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৮ টাকা জমা, ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি ও উপহার হিসেবে পাওয়া ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার।

রাজশাহী আওয়ামী লীগের এ নেতার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১.৬৩ একর কৃষি জমি, তিন তলা বাড়ি এবং ঢাকার বনানীতে ৫ কাঠার বিনিময়ে আড়াইটা অ্যাপার্টমেন্ট। তার নীট সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ১৫১ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, বিএ অনার্স (এল এল বি) করেছেন খায়রুজ্জামান লিটন। পেশায় তিনি আইনজীবী ও রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। এই সিটি নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটন নিজের আয় থেকে খরচ করবেন ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় লিটনের বিরুদ্ধে একই দিন দুটি মামলা হয়। রাজশাহীর সিএমএম আদালত মামলাটি আমলে নেয়।

ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৯, ৩৪ ধারায় একটি এবং অন্যটি ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৮, ৪২৭, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে লিটনের বিরুদ্ধে করা এই দুটি মামলা প্রত্যাহার করে নেয় রাষ্ট্র।

৯২ লাখ টাকার মালিক লিটনের স্ত্রী

প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের আয়ের উৎসও উল্লেখ করতে হয় হলফনামায়। এতে তার ওপর নির্ভরশীলদের বাৎসরিক কোনো আয় নেই বলে উল্লেখ করেছেন লিটন।

এই মেয়র পদপ্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে দেখা যায়, তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জমা আছে। সেই সঙ্গে পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে তার স্ত্রীর ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ উল্লেখ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

হলফনামায় বলা হয়েছে, খায়রুজ্জামান লিটনের স্ত্রীর বছরে কোনো আয় নেই। কিন্তু তার জমা রয়েছে ৯২ লাখ ৩ হাজার টাকা। ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উপহার হিসেবে পেয়েছেন তিনি (স্ত্রী)।

প্রিয়.কমের পক্ষ থেকে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে খায়রুজ্জামান লিটনকে ৪ ও ৫ জুন একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু কলগুলো রিসিভ হয়নি।

প্রিয় সংবাদ/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...